
বাজারে আগুন, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: অনিয়ন্ত্রিত দামে দিশেহারা দেশবাসীদেশের কাঁচাবাজারগুলোতে এখন পা ফেললেই সাধারণ ক্রেতাদের আঁতকে উঠতে হচ্ছে। প্রতিদিনের রান্নাবান্নার অতি প্রয়োজনীয় আয়োজনটুকু সারতেও সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর কিংবা গ্রামের ছোট বাজার—সবখানেই একই চিত্র। বাজারমুখী হলেই সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে, কারণ আয়ের সাথে নিত্যদিনের ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।মাস শেষে উপার্জনের বড় একটি অংশই এখন চলে যাচ্ছে স্রেফ জীবনধারণের মৌলিক খাদ্যসামগ্রী কিনতে। ফলে সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনের জন্য সামান্য টাকা সঞ্চয় করা এখন বহু পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে এসে কিছুটা দরদাম করার সুযোগও যেন উঠে গেছে; চড়া দামের সামনে নিরুপায় হয়ে পরিমাণের চেয়ে অনেক কম কেনাকাটা করেই ঘরে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যাগ হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের এই অসহায়ত্ব এখন দেশের প্রতিটা বাজারের নিত্যদিনের দৃশ্য।বাজার বিশ্লেষক ও বিক্রেতারা পরিবহণ খরচ, সরবরাহ ঘাটতি কিংবা পাইকারি বাজারের চড়া দামের কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত এর পুরো চাপটা এসে পড়ছে চূড়ান্ত ভোক্তার ওপর। মাঠপর্যায়ে কঠোর বাজার তদারকি না থাকা এবং হাতবদলে দাম বাড়ানোর প্রবণতাই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাধারণ মানুষের জীবনের এই অতিরিক্ত চাপ ও বোগান্তি কমাতে এখনই কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি।