Ecommerce/blog/news portal

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি চেয়েছে দুদক!

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. জাহিদ কালামের স্বাক্ষর করা চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব উল আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব ১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে বদলি সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।এ ছাড়া তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল এবং নতুন করে পদায়ন সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে দুদক। মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং সহায়ক রেকর্ডপত্রও জমা দিতে বলা হয়েছে।দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন এবং পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার নামে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় একটি চক্রের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে মোট ৭৬ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে এসব অভিযোগে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান দল অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়গুলো যাচাই করবে।অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডারেও অনিয়মের বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাব বিস্তারের মতো আরও কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের আগের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দুদকের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরবর্তীতে দুদকের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানে নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart