একদিন বারোইয়ারহাট থেকে রওনা দিলাম শ্রীনগর বর্ডার হাটের উদ্দেশ্যে। শুনেছি মঙ্গলবার বর্ডার হাট বসে, ভারতীয় জিনিসপত্র সস্তায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশি আর ভারতীয়দের একটা সুন্দর মিলনমেলাও হয় সেখানে।সকাল সকাল গিয়ে দেখি মানুষের বিশাল লাইন। সবাই সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও দাঁড়াইলাম। মনে মনে ভাবলাম, আজকে ভারতীয় কিছু জিনিস কিনব, ভারতের একটু অংশ দেখব, আর সুযোগ পেলে শাহরুখ খানকেও একবার দেখে আসব।বিকেল তিনটার দিকে অবশেষে আমাদের সিরিয়াল আসল। একশো টাকার মতো দিয়ে ঢুকে গেলাম।ভারতীয় দোকান ঘুরে দেখি আমূলের বাটার, ঘি, নানা রকম পণ্য। সবই সুন্দর, সবই সস্তা। কিন্তু জানি না কেন, কিছুই কেনার মতো মনে হলো না।তারপর বাংলাদেশি দোকানে গেলাম। দেখি ইলিশ মাছ।জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, ইলিশ কত?দোকানদার বললেন, আটশো।আমি তো খুশিতে শেষ। বললাম, ভাই, এক কেজি দেন।তিনি বললেন, আটশো রুপি।আমি বললাম, বাংলাদেশি টাকা দিলে হবে না?তিনি বললেন, না ভাই, ইন্ডিয়ান রুপি লাগবে।আমি তখন চুপ।বাংলাদেশি মানুষ, বাংলাদেশের ইলিশ, বাংলাদেশি টাকা আমার পকেটে, তবু ইলিশ কিনতে পারলাম না।শেষে কিছু হালকা ফালকা জিনিস কিনে ঘুরতে লাগলাম।হঠাৎ মনে হলো, আরে, বর্ডার হাটে আসছি, ভারতেও ঢুকলাম, শাহরুখ খানকে তো দেখা উচিত।চারদিকে তাকালাম।শাহরুখ খান নাই।আরেকদিকে তাকালাম।শাহরুখ খান নাই।শেষবার একটু ভালো করে তাকালাম।শাহরুখ খান তো দূরের কথা, অমিতাভ বচ্চনও নাই।তখন বুঝলাম, বর্ডার হাটে ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়, বাংলাদেশের ইলিশ পাওয়া যায়, দুই বাংলার মানুষ পাওয়া যায়, কিন্তু শাহরুখ খান পাওয়া যায় না।সেদিন সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, বর্ডার পার হওয়া সহজ, কিন্তু শাহরুখ খানের দেখা পাওয়া বড় কঠিন।শেষে শাহরুখ খানকে না দেখেই বারোইয়ারহাটে ফিরলাম।মনটা অবশ্য তখনও বলতেছিল, ভাই, এত দূর আইলাম, শাহরুখ খানটারে অন্তত একবার দেখাইতে পারতা!
