
আমার একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটা হলো, আমরা অনেক সময় একজন মানুষকে তার পুরো জীবন দিয়ে বিচার করি না, বিচার করি তার একটা ভুল, একটা বক্তব্য, কিংবা আমার মতের বিরুদ্ধে যাওয়া একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে।
একজন মানুষ সারাজীবনে একশটা ভালো কাজ করল, মানুষের উপকার করল, ভালো কিছু করার চেষ্টা করল, কিন্তু আমরা হয়তো সেই ভালো কাজগুলোর কথা মনে রাখলাম না। অথচ সে একটা ভুল করল, কিংবা এমন একটা কথা বলল যেটা আমার পছন্দ হলো না, ব্যস, তখন তার ব্যক্তিত্ব, পরিবার, অতীত, পেশা, এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ শুরু হয়ে যায়।
আমার কাছে মনে হয়, মতের অমিল আর মানুষের প্রতি অসম্মান এক জিনিস নয়। কারো কোনো কাজ আমার ভালো না লাগতেই পারে, তার বক্তব্যের সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকতেই পারে, তার কোনো সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনাও আমি করতে পারি। কিন্তু তাই বলে মানুষটাকে ছোট করা, অপমান করা কিংবা তার সব ভালো কাজকে অস্বীকার করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
কাউকে ভালো বলতে হলে তার অন্ধ সমর্থক হতে হবে না। আবার কারো একটা কাজের বিরোধিতা করতে গিয়ে তার সারাজীবনের ভালো কাজগুলোও মুছে ফেলতে হবে না। ভালো কাজকে ভালো বলা, খারাপ কাজকে খারাপ বলা, এই সহজ বিবেচনাটুকুই আমাদের সমাজে আরও বেশি প্রয়োজন।
মতের বিরোধিতা করুন, যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করুন, ভুল হলে ভুল ধরিয়ে দিন, কিন্তু মানুষটাকে ধ্বংস করার প্রতিযোগিতায় নামবেন না। কারণ আজ যাকে একটা ভুলের জন্য আপনি অপমান করছেন, কাল একই ভুল আপনারও হতে পারে।
মানুষ ভুল করবে, আবার মানুষ ভুল থেকে শিখবেও। তাই একজন মানুষের একটা ভুলকে তার পুরো পরিচয় বানিয়ে না ফেলে, তার ভালো মন্দ সবকিছু মিলিয়েই তাকে বিচার করা উচিত।
আমাদের সমাজটা হয়তো সেদিনই একটু সুন্দর হবে, যেদিন আমরা সত্যিকার অর্থে শিখব, ভালো কাজকে ভালো বলতে, খারাপ কাজকে খারাপ বলতে, মতের অমিলকে স্বাভাবিকভাবে নিতে, আর মতের অমিল হলেও একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে।