
বাংলাদেশে একসময় বলা হয়েছিল চাকরির বন্যা আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই জবের বন্যার পানি গেল কই।ইউনূস সরকারের সময়টা ছিল মাত্র প্রায় ১৮ মাস। এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৪৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, এতে প্রায় এক লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হলেও সেগুলোর বড় অংশ ছিল ছোট আকারের প্রতিষ্ঠান।২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যও খুব একটা আশার কথা বলছে না। পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।এখন আমার প্রশ্ন খুব সহজ।যে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর কী হবে।যে শ্রমিকগুলো চাকরি হারিয়েছে, তারা আজ কীভাবে সংসার চালাচ্ছে।যে পরিবারে একজন মানুষ কারখানায় কাজ করে পাঁচজনের সংসার চালাতো, সেই মানুষটি চাকরি হারানোর পর তার পরিবারের দায়িত্ব কে নিচ্ছে।যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কোথায়।বিনিয়োগ কোথায়।নতুন শিল্প কোথায়।আর সবচেয়ে বড় কথা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে শুধু বেকারত্ব নিয়ে কথা বললে বেকারত্ব কমবে কীভাবে।বেকার মানুষকে শুধু উপদেশ দিয়ে কর্মসংস্থান দেওয়া যায় না। চাকরি তৈরি করতে হলে শিল্প চালু রাখতে হয়, বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হয়, ব্যাংক ঋণের পথ সহজ করতে হয়, বিদ্যুৎ গ্যাসের নিশ্চয়তা দিতে হয়, আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হয় এবং উদ্যোক্তাকে নিরাপদ পরিবেশ দিতে হয়।কারণ একটি কারখানা শুধু একটি ভবন নয়। একটি কারখানার ভেতরে শত শত পরিবারের রান্নার চুলা জ্বলে।একজন শ্রমিকের চাকরি হারানো মানে শুধু একজনের আয় বন্ধ হওয়া নয়, একটা পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া।তাই সরকার যে দলেরই হোক, আমার প্রশ্ন সরকারের কাছেই।চাকরির বন্যার প্রতিশ্রুতি যদি সত্যি হয়, তাহলে সেই বন্যার পানি আমরা দেখতে পাচ্ছি না কেন।আর যদি শিল্প প্রতিষ্ঠান একের পর এক বন্ধ হতে থাকে, তাহলে আগামী দিনের লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে কোথায়।দেশের মানুষ রাজনৈতিক স্লোগান কম শুনতে চায়। মানুষ কাজ চায়, নিরাপদ আয় চায়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ চায়।কারণ খালি পেটে কোনো সংস্কার, কোনো স্লোগান, কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতাই মানুষের ঘরে শান্তি আনতে পারে না।