Ecommerce/blog/news portal

ইটের দেয়াল আর সেলাই মেশিনের নীরবতা!

​একটি পোশাক কারখানা মানে কেবল চার দেয়ালের একটি ইমারত কিংবা কিছু যন্ত্রের গুঞ্জন নয়; এটি শত শত নিবেদিতপ্রাণ মানুষের স্বপ্ন, ঘাম এবং জীবিকার বাতিঘর। সেই বাতিঘরই এবার নিভে গেল। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস লিমিটেড’ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বন্ধ ঘোষণা করেছে।​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে কারখানাটির দরজায় ঝুলছে চিরতরে বন্ধের নোটিশ। দীর্ঘদিনের মন্দা, বৈরী পরিস্থিতি আর স্বার্থান্বেষী মহলের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন এক উদ্যোক্তা, আর কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন বহু দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।​চিঠির পাতায় এক উদ্যোক্তার নীরব দীর্ঘশ্বাস​প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক আবেগঘন চিঠিতে এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। আবেগ আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে লেখা সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন—ব্যবসায়ে টানা দুই বছর উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও মন্দা তো ছিলই, তার ওপর যুক্ত হয়েছিল কিছু মানুষের স্বার্থান্বেষী অপতৎপরতা। বহু চেষ্টা করেও কারখানাটি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।​উদ্যোক্তা তার চিঠিতে অনুশোচনা ও কৃতজ্ঞতার সুর মিলিয়ে লেখেন:​”আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক দক্ষ এবং উৎসর্গী, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন যারা খারাপ সময়েও ধৈর্য ধরে পাশে থেকেছেন। তাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞ। আমি যেন সকল পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করে একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি এবং ভবিষ্যতে কোনো উপায়ে আবার এই কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারি—সবার কাছে সেই দোয়াই চাই।”​শিল্প খাতের কঠিন বাস্তবতা ও মানবিক পরিণতি​তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনিশ্চয়তা প্রায়শই মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে। একটি কারখানার উৎপাদন থমকে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি নয়, বরং শত শত শ্রমিকের হাঁড়ির খবর বন্ধ হয়ে যাওয়া।​স্বার্থান্বেষী চক্রের চাপ আর ব্যবসায়িক মন্দার মেলবন্ধনে যখন একটি উদ্যোগ এভাবে অকালে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে সমগ্র শিল্পের সুরক্ষা নিয়ে। তবে সমস্ত অন্ধকার পেরিয়ে আবার নতুন ভোরের প্রত্যয় খুঁজে পাওয়ার আকুতি রেখে গেছে উদ্যোক্তার সেই বিদায়ী চিঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart