Ecommerce/blog/news portal

হেডম জাহাজের কচ্ছপ!

একদিন ওমানের আল বুরাইমি পাসপোর্ট অফিসে গেছিলাম ভিসা রিনিউ করার কামে। কাজ শেষ কইরা বাইরে আইসা দেখি, পরিচিত একজন সিলেটি ভদ্রলোক দাঁড়াইয়া আছেন। উনিও সম্ভবত ভিসা রিনিউ করার কামেই আইছেন। আমার কাছে গাড়ি আছিল, উনার কাছে গাড়ি আছিল না। উনি সাধারণ একটা চাকরি করেন, আমিও উনাকে চিনতাম।

মানুষ পরিচিত, সামনে দাঁড়াইয়া আছে, তাই ভাবলাম জিজ্ঞেস করি, ভাই গাড়ি আছে নাকি নাই। যদি না থাকে, আমার গাড়িতে চলেন, আমি পৌঁছাইয়া দেই।

উনি কিছু কইলেন না, চুপচাপ আমার গাড়িতে আইসা বসলেন।

গাড়িতে বসার পর দেখি উনি একজনরে ফোন দিয়া কইতেছেন, হ্যাঁ ভাই, আমার গাড়ির ব্যবস্থা হইয়া গেছে, তুমি আর আইসো না।

আমি গাড়ি চালাইতেছি আর মনে মনে ভাবতেছি, বাহ, ব্যাপার তো ভালোই। লোকটার জন্য আলাদা গাড়ি আসতেছিল, লোকজন তার জন্য অপেক্ষা করতেছিল। আমার গাড়িতে উঠছে ঠিকই, কিন্তু ফোনে এমন ভাব দেখাইতেছে, মনে হইতেছে যেন তার গাড়ি সব সময় দরজার সামনে রেডি থাকে, শুধু আজকে ভাগ্যক্রমে আমার গাড়িতে উঠছে।

উনারে গন্তব্যে নামাইয়া দিয়া আমি আর কিছু কইলাম না। কিন্তু ফেরার পথে একটা কথা মনে হইল।

দুনিয়াতে কিছু মানুষ আছে, যাদের হাতে আসলে খুব বেশি কিছু নাই, কিন্তু ভাবটা এমন, যেন পুরো দুনিয়ার হ্যান্ডেল তাদের হাতে।

চাকরি ছোট হইতে পারে, ব্যবসা ছোট হইতে পারে, পকেট পাতলা হইতে পারে, কিন্তু হেডাম থাকে জাহাজের কচ্ছপ এর মতন ।

আবার কিছু মানুষ আছে, যাদের সত্যিই অনেক কিছু আছে, কিন্তু তারা সেটা কাউরে বুঝাইতে যায় না। কারো উপকার করলে সেটা নিয়া গল্প করে না, নিজের অবস্থান দেখাইতে গিয়া অন্য মানুষরে ছোট করে না।

মানুষ বড় হয় তার ব্যবহার দিয়া।

আর একটা কথা, অন্যের গাড়িতে উঠলেও সমস্যা নাই, অন্যের সাহায্য নিলেও সমস্যা নাই। সমস্যা তখনই, যখন সেই সাহায্যটাকেও নিজের হেডাম দেখানোর মঞ্চ বানাই ফেলি।

জীবনে যত উপরে উঠি, তত নিচু হইয়া চলা দরকার। কারণ মাথার উপরে যত বড় আকাশই থাকুক, শেষ পর্যন্ত মানুষরে মাটির উপর দিয়াই হাঁটতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart