Ecommerce/blog/news portal

অসভ্যতা

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, তিনি নারী হোন কিংবা পুরুষ হোন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে অভিযোগ করুন, তদন্ত হোক, প্রয়োজন হলে মামলা হোক। কিন্তু দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই একজন কর্মচারীকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করে নাজেহাল করা, অপমান করা কিংবা মানসিকভাবে চাপে ফেলা কোনোভাবেই সাংবাদিকতা হতে পারে না।আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঐ ব্যাংকে কি কোনো ম্যানেজার নেই। একজন স্টাফকে যদি বাইরে থেকে কেউ এসে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন। অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের, আর অভিযোগকারী যদি মনে করেন তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাহলে তার জন্য আইন ও আদালতের পথ খোলা আছে।আমি বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও সংবেদনশীলভাবে দেখতে চাই। একজন নারী কর্মজীবী মানুষকে জনসমক্ষে অপমান করার আগে আমাদের মনে রাখা উচিত, তারও পরিবার আছে, সম্মান আছে, আত্মমর্যাদা আছে। আজ সে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, কাল এই পরিস্থিতিতে আপনার পরিবারের কোনো নারীও পড়তে পারেন।দোষী হলে আইন তার বিচার করবে, নির্দোষ হলে তার সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের। কাউকে দোষী প্রমাণ করার আগে তাকে সামাজিকভাবে দোষী বানিয়ে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।প্রতিবাদ করুন, প্রশ্ন করুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, কিন্তু মানুষের সম্মানটুকু কেড়ে নিয়ে নয়। বিশেষ করে একজন নারীর সম্মান নিয়ে খেলবেন না। কারণ একটি মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সহজ, কিন্তু সেই মানুষের ভেঙে যাওয়া সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া খুব কঠিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart