Ecommerce/blog/news portal

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কি কোনো বিদেশি শক্তির নেপথ্য প্রভাব কাজ করছে?বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বারবার ‘যাবেন কি যাবেন না’ ধরনের অনিশ্চয়তা, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর কথিত পরিবর্তন এবং সমাজে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী বয়ান সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।কিছু বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্ন নয় এটি সরাসরি বাংলাদেশের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।ভারতের নীতির সমালোচনা করা বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্ক যেকোনো বিষয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতেই পারে।কিন্তু প্রশ্ন হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ, শিক্ষার্থী থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর একই ধরনের ভারত-বিরোধী বয়ান যদি ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর পেছনে কোনো সমন্বিত প্রচারণা আছে কি না, সেটি কি রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচাই করা কি হয়েছে?এখানে আবেগ নয় প্রয়োজন প্রমাণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও স্বচ্ছ তদন্ত।বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রয়েছে।তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিতকোনো দেশের পক্ষে নয়,কোনো দেশের বিপক্ষে নয়সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থে।যদি কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, ভারত-বিরোধী উত্তেজনা কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সেটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির হাতে নির্ভরশীল হতে পারে না।ভারতকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।পাকিস্তানকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।চীন, আমেরিকা বা অন্য কোনো শক্তির অন্ধ অনুসরণও নয়।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ঢাকার মাটিতে বসেই নেওয়া হচ্ছে, নাকি কোথাও কোনো অদৃশ্য হাত কলকাঠি নাড়ছে?এই প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়তথ্য, প্রমাণ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে আসা উচিত।— মোকতার আল নূরPolitical Columnist | Online Activist

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart