আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ওয়াইল্ড বিস্টের পাল যখন একসাথে থাকে, তখন তাদের নিরাপত্তা অনেকটাই বেড়ে যায়। শিকারিরা সাধারণত দুর্বল, অসুস্থ অথবা দল থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাণীকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। প্রকৃতির এই দৃশ্য আমাদের মানুষের সমাজের জন্যও একটা বড় শিক্ষা বহন করে।একজন মানুষ যখন একা হয়ে যায়, তখন তার বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কমে যায়। কিন্তু মানুষ যখন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তখন অন্যায়কারীর জন্য অন্যায় করা কঠিন হয়ে যায়। কারণ ঐক্য শুধু শক্তি দেয় না, ঐক্য মানুষের মনে সাহসও তৈরি করে।বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা যেন নিজেদের মধ্যে বিভক্ত না থাকে। তবে এই ঐক্য কোনোভাবেই অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। বরং হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাইকে নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে একসাথে দাঁড়াতে হবে।আজ যদি কোনো হিন্দু পরিবার আক্রান্ত হয়, মুসলমান প্রতিবেশীকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো মুসলমান পরিবার আক্রান্ত হলে হিন্দু প্রতিবেশীকেও তার পাশে দাঁড়াতে হবে। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ বিপদে পড়লেও একইভাবে সবাইকে পাশে দাঁড়াতে হবে।কারণ একজন মানুষকে রক্ষা করা মানে শুধু একজন মানুষকে রক্ষা করা নয়, নিজের সমাজের মানবিকতাকেও রক্ষা করা।রংপুরের সাহারপুরের মতো কোনো ঘটনায় যদি মানুষের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে অপরাধীর ধর্ম পরিচয় নয়, অপরাধটাই প্রধান বিষয়। তদন্ত সঠিকভাবে হতে হবে, সত্য বের করতে হবে, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না এবং অপরাধী যে ধর্মেরই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।আমাদের মনে রাখতে হবে, বিচ্ছিন্ন মানুষকে ভয় দেখানো সহজ, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সমাজকে ভয় দেখানো কঠিন। তবে ঐক্য মানে কারও বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হওয়া নয়। ঐক্য মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হওয়া।হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক, খ্রিস্টান হোক, এই দেশ সবার। একজনের নিরাপত্তা নষ্ট হলে অন্যজনও নিরাপদ থাকে না।তাই দলবদ্ধ হই, কিন্তু বিদ্বেষের জন্য নয়। একত্রিত হই, কিন্তু প্রতিশোধের জন্য নয়। একসাথে দাঁড়াই, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।যে সমাজে মানুষ বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সেই সমাজকে সহজে ভেঙে দেওয়া যায় না।