Ecommerce/blog/news portal

moktaar

Welcome to Moktaar Innoor! We are dedicated to providing high-quality products and exceptional customer service. Our mission is to deliver the best shopping experience to our valued customers across the UAE and beyond. With a passion for excellence and a commitment to customer satisfaction, we strive to offer premium products at competitive prices. Our team works tirelessly to ensure every order is handled with care and delivered promptly. We believe in building long-lasting relationships with our customers based on trust and reliability. Thank you for choosing Moktaar Innoor — your satisfaction is our greatest reward. Shop with confidence

রিক্সাওয়ালা

একবার ওমান থেকে দেশে গেছি কয়েকমাসের জন্য । বিদেশে থাকি বলে আমার মানিব্যাগটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বিদেশের টাকা, দেশীয় টাকা, প্রয়োজনীয় কার্ড, কাগজপত্র, সব সময় গুছিয়ে রাখি। তবে পাসপোর্ট আর বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ আইডি কার্ড কখনো মানিব্যাগে রাখি না। সেগুলো নিরাপদে বাড়িতেই রাখি।একদিন বাজারে গেলাম। সেদিন একটু বেশি বাজার করেছিলাম। কাঁচা বাজার, সবজি, মাছ, চাল ডাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সব মিলিয়ে রিকশাটা প্রায় বাজারের দোকান বানিয়ে ফেললাম। কোনো রকমে সব বাজার রিকশায় তুলে বাড়িতে চলে এলাম।বাড়িতে এসে একে একে সব বাজার নামালাম। রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিলাম। সে চলে গেল। আমিও নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মনে হলো, আরে, আমার মানিব্যাগ কই।পকেট হাতড়াই, এখানে নাই, ওখানে নাই। ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজি। শেষ পর্যন্ত মাথায় একটা কথাই এলো, মানিব্যাগটা হয়তো রিকশার সিটেই পড়ে আছে।রিকশাওয়ালাকে আমি চিনতাম। মুখ চেনা মানুষ। জানতাম সে নোয়াখালীর মানুষ এবং আমাদের এলাকায় রিকশা চালায়। কিন্তু তার বাড়িঘর কোথায়, সেটা জানতাম না।পনেরো দিন চলে গেল। রিকশাওয়ালার কোনো খবর নাই। মানিব্যাগেরও কোনো খবর নাই।একদিন এক বন্ধু বলল, ফেসবুকে একটা পোস্ট দাও। মানিব্যাগে থাকা আইডি কার্ডের ছবি দাও। কেউ পেয়ে থাকলে হয়তো যোগাযোগ করবে।বন্ধুর কথা শুনে ফেসবুকে পোস্ট দিলাম।পোস্ট দেওয়ার পর একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলাম। আমার কিছু শত্রু ছিল দেশে বিদেশে। তারা পোস্ট দেখে এমন খুশি হলো, মনে হলো আমার মানিব্যাগ না, আমার ভাগ্যই হারিয়ে গেছে।কেউ কেউ মনে মনে হয়তো ভাবছিল, লোকটার তো সব শেষ। পাসপোর্ট গেছে, বিদেশের আইডি গেছে, সব গেছে। এখন আর বিদেশে ফিরতে পারবে না।আমি চুপচাপ বসে তাদের আনন্দ উপভোগ করলাম।কারণ তারা জানত না, আমার পাসপোর্ট কিংবা ওমানের গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইডি কার্ডই মানিব্যাগে ছিল না। মানিব্যাগে ছিল শুধু দেশের মোটরবাইকের একটা কার্ড, কিছু দেশীয় টাকা আর প্রায় তিনশো ওমানি রিয়েল।কয়েকদিন পর একদিন রাস্তা দিয়ে আসার সময় হঠাৎ দেখি, ওই রিকশাওয়ালা।আমি সঙ্গে সঙ্গে রিকশা থামালাম।রিকশায় তখন কয়েকজন যাত্রী ছিল। আমি তাদের বললাম, আপনারা একটু নেমে যান। এই লোকটার সঙ্গে আমার একটা হিসাব আছে।যাত্রীরা নেমে গেলেন।আমি রিকশাওয়ালাকে বললাম, তুমি থানায় চলো। তোমার বিরুদ্ধে মামলা করা আছে ।থানার কথা শুনেই লোকটার চেহারা পাল্টে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলল, স্যার, মানিব্যাগ আমার কাছে আছে।আমি বললাম, তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে।সে বলল, স্যার, মানিব্যাগটা আমার কাছে ছিল। তবে বাড়িতে নাই। নোয়াখালীর শ্বশুরবাড়িতে রেখেছি।আমি তার সঙ্গে গেলাম। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার মানিব্যাগ সেখানে।শ্বশুর শাশুড়ির সামনে সে মানিব্যাগটা বের করে দিল।মানিব্যাগ খুলে দেখি, আমার প্রায় ১০হাজার টাকা নাই। কিন্তু ওমানি টাকা আছে।সে স্বীকার করল, ওই টাকা সে রেখে দিয়েছে।আমি ভাবলাম, মানুষ ভুল করেছে। মানিব্যাগ ফেরত দিয়েছে। মামলা করে তাকে জেলে পাঠিয়ে কী লাভ।বরং তাকে দুই হাজার টাকা বকশিস দিয়ে বললাম, যাও, আর এমন কাজ করো না।সেদিন আমি আমার মানিব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।কাহিনি এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু আসল কাহিনি তখনও শুরু হয়নি।কয়েকদিন পর দেখি, সেই রিকশাওয়ালা আমাকে দেখলেই দূর থেকে সালাম দেয়। এমনভাবে সালাম দেয়, মনে হয় আমি তার বহুদিনের কোনো আত্মীয়।একদিন হঠাৎ আমার বাড়িতেও হাজির।এসে বলল, স্যার, আপনার মানিব্যাগ তো আমি ফেরত দিছি।আমি বললাম, হ্যাঁ, দিছো তো। এজন্যই তো তোমাকে দুই হাজার টাকা বকশিসও দিয়েছি।সে বলল, স্যার, আপনার মানিব্যাগে তো কুটি কুটি টাকা ছিল।আমি অবাক।বললাম, কুটি কুটি টাকা!সে বলল, জি স্যার। অনেক টাকা ছিল। আমারে আপনি মাত্র দুই হাজার টাকা দিছেন। আরো কিছু টাকা দেন।আমি তখন বুঝলাম, আসল রহস্যটা কোথায়।লোকটা জীবনে সম্ভবত ওমানি রিয়েল দেখেনি। মানিব্যাগ খুলে তিনশো ওমানি রিয়েল দেখে তার মাথায় হিসাব ঢুকেছে অন্যভাবে।সে ভাবছে, এগুলো নিশ্চয়ই অনেক অনেক টাকা।তিনশো রিয়েল তার চোখে গিয়ে কুটি কুটি টাকা হয়ে গেছে।আমি বললাম, ভাই, ওইগুলো কুটি কুটি টাকা না। ওইগুলো ওমানের টাকা।সে আমার দিকে এমনভাবে তাকাল, যেন আমি তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক রহস্য বুঝাচ্ছি।আমি বললাম, তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। মানিব্যাগ ফেরত দিয়েছো, তোমাকে বকশিসও দিয়েছি। এখন আর আমার বাড়িতে আসবে না।সে চলে গেল।কিন্তু কয়েকদিন পর আবার এল।তারপর আবার এল।প্রতিবারই তার একই কথা, স্যার, আপনার মানিব্যাগে কুটি কুটি টাকা ছিল।আমি যতই বোঝাই, সে ততই বিশ্বাস করে যে আমি তাকে ঠকাচ্ছি।শেষ পর্যন্ত একদিন তাকে বললাম, ভাই, তোমার চোখে যে টাকা কুটি কুটি মনে হয়েছে, আমার চোখেও সেটা টাকা। কিন্তু সব টাকার দাম এক না। টাকা দেখলেই কুটি কুটি টাকা হয় না।লোকটা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।আমি মনে মনে হাসলাম।একটা ছোট্ট মানিব্যাগ, তিনশো ওমানি রিয়েল, দশ হাজার বাংলাদেশি টাকা আর একজন সরল রিকশাওয়ালার কল্পনা, এই চারটা জিনিস মিলে আমার জীবনের এমন এক অর্থনৈতিক গল্প তৈরি করেছিল, যেটা কোনো ব্যাংকের হিসাবেও পাওয়া যাবে না।আর সেই ঘটনার পর থেকে যখনই কেউ বলে, ভাই, আপনার মানিব্যাগে কত টাকা ছিল, আমি মুচকি হেসে বলি, আমার মানিব্যাগে যত টাকা ছিল, তার চেয়ে বেশি টাকা ছিল একজন রিকশাওয়ালার কল্পনায়।

রিক্সাওয়ালা Read More »

ভালা ওইতে হইসা লাগে না

তখন কলেজে পড়ি। বয়সটা এমন, যখন পকেটে টাকা থাকে না, কিন্তু পৃথিবীটাকে খুব বড় মনে হয়। ছোট্ট একটা ইচ্ছাও তখন অনেক বড় বিলাসিতা।বারোইয়ারহাট বাজার থেকে চট্টোগ্রামের বাসে উঠলাম। গন্তব্য ফেনী। বাস থেকে ট্রাংক রোডে নামলাম। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে গেলাম সিনেমা হলে।ফেনীতে তখন সিনেমা হল ছিল কয়েকটা। সুরত, কানন, বিলাসী। সেদিন গিয়েছিলাম বিলাসীতে।ছবির নামটা আজ আর মনে নেই। ফেরদৌস অভিনয় করেছিল, এটুকু মনে আছে। একটা গান ছিল, আসসালামু আলাইকুম বেয়াইন সাহেব। গানটা তখন বেশ জনপ্রিয়। সিনেমাটাও মনে হয়েছিল সুপার ডুপার বাম্পার ছবি।আসলে সিনেমাটা কেমন ছিল, সেটা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই দিনটা।তখন আমাদের কাছে ফেনী শহরটা ছিল বিলাসিতার জায়গা। ঢাকা ছিল অনেক দিল্লীর মতো দূরে । ফেনী যাওয়া মানেই মনে হতো আমরা বুঝি অনেক স্মার্ট হয়ে গেছি।সিনেমা দেখলাম। তারপর সন্ধ্যার দিকে আবার বাসে উঠলাম বাড়ি ফেরার জন্য।যাওয়ার সময় ছাত্র হিসেবে হাফ ভাড়া দিয়েছিলাম। ফেরার সময়ও বাসে উঠে মনে হলো, হাফ ভাড়াই দেব।বারইয়ের হাট নামার সময় পকেটে হাত দিলাম। টাকা খুব বেশি ছিল না। অভাবের সংসারে বড় হওয়া ছেলেরা পকেটে হাত দেওয়ার আগে অনেক হিসাব করে। কত টাকা আছে, কত টাকা লাগবে, বাড়ি পৌঁছাতে কত লাগবে, এসব হিসাব মাথার ভেতর খুব দ্রুত হয়ে যায়।আমি কন্ডাক্টরকে বললাম, আমি ছাত্র। হাফ ভাড়া দেব।লোকটা আমার দিকে তাকালেন।তখন সন্ধ্যা। ছয়টা কি সাতটা হবে। আমি বুঝতে পারছিলাম, এই সময় একজন ছাত্র সিনেমা দেখে বাসে ফিরছে, ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত দেখাচ্ছে।কিন্তু তিনি কিছু বললেন না।আমি বাস থেকে নেমে গেলাম।বাসটা তখন ছাড়ার জন্য প্রস্তুত। ইঞ্জিনের শব্দ হচ্ছে। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ পেছন থেকে লোকটা ডাক দিলেন।ভাই।আমি ফিরে তাকালাম।তিনি বললেন, এসব বাদ দেন।আমি কিছু বুঝলাম না।তিনি আবার বললেন, ভালা হইতে পয়সা লাগে না।বাসটা চলে গেল।আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম।সেদিন কথাটা খুব একটা বুঝিনি। শুধু মনে হয়েছিল, লোকটা আমাকে অপমান করলেন না কেন। চাইলে তো বলতে পারতেন, সিনেমা দেখতে গেলে টাকা থাকে, বাসে উঠলে ছাত্র হয়ে যাও।তিনি সেটা বলেননি।তিনি শুধু বলেছিলেন, ভালা হইতে পয়সা লাগে না।অনেক বছর হয়ে গেছে।এখন বুঝি, মানুষের জীবনে কিছু কিছু কথা থাকে, যেগুলোর দাম টাকা দিয়ে মাপা যায় না।সেদিন আমার পকেটে টাকা কম ছিল। তাই হয়তো ছাত্র পরিচয় দিয়ে হাফ ভাড়া দিতে চেয়েছিলাম। যুক্তির দিক থেকে দেখলে কাজটা ঠিক ছিল না। কলেজে যাওয়ার সময় আমি ছাত্র, তাই হাফ ভাড়া পাওয়ার অধিকার আমার ছিল। কিন্তু সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার সময়ও একই সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।আজ মনে হয়, লোকটা চাইলে আমাকে খুব সহজেই ছোট করে দিতে পারতেন।তিনি করেননি।তিনি আমার অভাবটাকে সবার সামনে প্রকাশ করেননি।বরং এমনভাবে কথাটা বললেন, যেন টাকা নেওয়াটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ না।ভাই, এসব বাদ দেন।ভালা হইতে পয়সা লাগে না।কী অদ্ভুত কথা।আজও কথাটা আমার কানে বাজে।জীবনে অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অনেক বড় বড় মানুষ দেখেছি। অনেক সুন্দর কথা শুনেছি। কিন্তু সেই বাসের লোকটার ওই ছোট্ট কথাটা আমার মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে।কারণ তিনি সেদিন আমাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি।তিনি আমাকে লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছিলেন।অভাবের সময় মানুষকে টাকা দিলে সে হয়তো বাঁচে একদিন। কিন্তু তার অভাবটাকে সম্মান দিয়ে ঢেকে দিলে, সে মানুষটা আপনাকে মনে রাখে সারাজীবন।সেদিন আমি সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।ছবির নাম মনে নেই।নায়ক নায়িকার কথাও মনে নেই।গানটাও আজ পুরোপুরি মনে নেই।শুধু মনে আছে, সন্ধ্যার সেই বাস।মনে আছে, ট্রাঙ্ক রোড ।মনে আছে, পকেটে কম টাকা।আর মনে আছে, একজন অচেনা মানুষ পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলেছিল,ভাই, এসব বাদ দেন, ভালা হইতে পয়সা লাগে না।মানুষ আসলে তার টাকা দিয়ে বড় হয় না।মানুষ বড় হয়, অন্য একজন মানুষের অভাবের সময় তাকে কতটা সম্মান দিতে পারে, সেইখানে।

ভালা ওইতে হইসা লাগে না Read More »

নয় টিলার মাজারে একদিন

বিদেশের ব্যস্ত জীবন কখনো কখনো মানুষকে ক্লান্ত করে দেয়। চারপাশে অনেক মানুষ থাকে, অনেক শব্দ থাকে, অনেক ব্যস্ততা থাকে, তবুও মনের ভেতরে কোথাও একটা নীরবতা জমে থাকে।সেই নীরবতার সময়গুলোতে আমার মন ছুটে যায় নয়টিলার মাজারের দিকে। করের হাট থেকে কাছাকাছি পাহাড়ের কোলে থাকা এই জায়গাটি আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি যেন আমার নিজের সঙ্গে কথা বলার একটি জায়গা। এখানে এলে মনে হয়, পাহাড়গুলো যেন মানুষের না বলা কথাগুলো শুনতে পারে।চারপাশে সবুজ পাহাড়। দূরে নীলচে পাহাড়ের সারি। নিচ দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা চলে গেছে। মাঝে মাঝে গাড়ি চলে যায়, আবার সবকিছু আগের মতো শান্ত হয়ে যায়। পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ আর পাহাড়ের নীরবতা মিলে এখানে এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে।বিদেশের ব্যস্ততা, জীবনের নানা চিন্তা, মনের ভেতরের অস্থিরতা, সবকিছু নিয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে যাই, তখন আমি সেখানে যাই। কিছুক্ষণ বসি। চোখ বন্ধ করি। নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলি। একদিনের কথা সেদিনও আমি নয়টিলার মাজারে গিয়েছিলাম। উপরে বসে কিছুক্ষণ ধ্যান করলাম। তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করলাম।সিঁড়িগুলো অনেক লম্বা। পাহাড়ের বুক চিরে নিচের রাস্তা পর্যন্ত নেমে গেছে। এক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্য পাশে গভীর খাদ। দূরে গাড়িগুলো ছোট ছোট খেলনার মতো মনে হচ্ছিল।কিছুদূর নামার পর একটু ক্লান্ত লাগল। তাই একটি সিঁড়ির ধাপে বসে পড়লাম।ঠিক তখনই একটি ছেলে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। ছেলেটিকে আগে কখনো দেখিনি। সাধারণ পোশাক। মুখে ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল তার চোখ দুটি।সেখানে একটা লজ্জা ছিল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে করে বলল,স্যার, আমাকে একশো টাকা দেবেন? আমি পরে দিয়ে দেব। বাড়ি যাওয়ার ভাড়া নেই।কথাটা খুব সাধারণ। কিন্তু কথাটার ভেতরে যে কষ্ট ছিল, সেটা খুব সাধারণ ছিল না।আমরা প্রতিদিন কত মানুষকে দেখি। কেউ সাহায্য চায়, কেউ হাত বাড়ায়। কিন্তু সবাই একই রকম নয়। কারও হাতে চাওয়ার অভ্যাস থাকে, আবার কেউ অনেক কষ্টে নিজের আত্মসম্মান ধরে রেখে শেষবারের মতো সাহায্য চায়।এই ছেলেটির মধ্যে আমি সেই দ্বিতীয় মানুষটিকেই দেখেছিলাম।তার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, সে টাকা চাইতে আসেনি, সে আসলে তার একটা কঠিন সময় পার করার জন্য একটু আশ্রয় চাইতে এসেছে।আমি জানতাম, হয়তো এই টাকা আর আমার কাছে ফিরে আসবে না। হয়তো সে যে কথা বলেছে, তা রাখতে পারবে না।কিন্তু সেদিন আমি হিসাব করিনি।কারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় লাভ ক্ষতির হিসাব করতে হয় না। আমি পকেট থেকে টাকা বের করে তাকে একশো টাকা নয়, পাঁচশো টাকা দিলাম। ছেলেটি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল। হয়তো সে ভাবেনি এমন কিছু হবে। তারপর দুই হাত জোড় করে আমাকে ধন্যবাদ দিল।তার চোখে তখন যে কৃতজ্ঞতা দেখেছিলাম, সেটাই ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।সে চলে গেল।আমি বসে রইলাম সেই সিঁড়ির ধাপে।ভাবছিলাম, মানুষ আসলে কত অদ্ভুত। কারও কাছে পাঁচশো টাকা খুব সামান্য, আবার কারও কাছে সেটাই হতে পারে বাড়ি ফেরার সাহস।সেদিন নয়টিলার মাজারে আমি শুধু ধ্যান করতে যাইনি। সেদিন আমি একজন মানুষের ভেতরের কষ্ট দেখেছিলাম।আমরা অনেক সময় বড় বড় কাজ করার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু জীবন সবসময় বড় সুযোগ দেয় না।কখনো কখনো একটি ছোট সাহায্য, একটি ভালো কথা, একটি সহানুভূতির হাত, কারও জীবনে অনেক বড় আশার আলো হয়ে আসে।মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কাছে কত টাকা আছে, তা নয়।মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, অন্য একজন মানুষের কষ্ট দেখে তার হৃদয় কতটা নরম হয়।

নয় টিলার মাজারে একদিন Read More »

হঠাৎ বৃষ্টি

বৃষ্টি হলে তোমাকে মনে পড়ে বৃষ্টি হলে আমার একটা অদ্ভুত সমস্যা হয়। আমি কাজ করতে পারি না। কেউ যদি তখন আমাকে খুব জরুরি কোনো কাজও দেয়, আমি কাজটা হাতে নিয়ে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি, আমি কাজ করছি না। জানালার দিকে তাকিয়ে আছি। বৃষ্টির দিকে। বৃষ্টির দিকে তাকালে কেন জানি তার কথা মনে পড়ে। এটা অবশ্য নতুন কোনো ব্যাপার না। বহু বছর ধরে হচ্ছে। আজ বিকেলেও বৃষ্টি হচ্ছে। আমি জানালার পাশে বসে আছি। চায়ের কাপটা অনেকক্ষণ ধরে টেবিলের ওপর পড়ে আছে। চা ঠান্ডা হয়ে গেছে। কিন্তু আমার উঠতে ইচ্ছে করছে না। বৃষ্টির শব্দ শুনছি। টুপটাপ। তারপর একটু জোরে। তারপর আবার ধীরে। এই শব্দের মধ্যেই হঠাৎ মনে হলো, সে বুঝি পাশের ঘর থেকে বলবে, ভাইয়া, তুমি আবার বৃষ্টিতে ভিজতে বের হইছো? আমি হেসে ফেললাম। ঘরে আমি একা। তবুও হাসলাম। মানুষের স্মৃতি বড় অদ্ভুত জিনিস। মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার কথাগুলো থেকে যায়। এমনকি তার বলা সাধারণ কথাগুলোও। একসময় যে কথাগুলো শুনে বিরক্ত লাগত, পরে সেই কথাগুলোর জন্যই বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা তৈরি হয়। সে আমাকে ভাইয়া ডাকত। ডাকটা খুব সাধারণ ছিল। কিন্তু সে যেভাবে ডাকত, সেটা সাধারণ ছিল না। একটু টেনে। একটু দুষ্টুমি করে। কখনো সামনে থেকে বলত, ভাইয়া। আমি তাকালেই হাসত। আমি বলতাম, কী? সে বলত, কিছু না। আমি বলতাম, তাহলে ডাকলে কেন? সে বলত, ডাকতে ইচ্ছে করছে তাই ডাকছি। এই মেয়েটার যুক্তির কোনো ঠিক ছিল না। তবে তার সব যুক্তি আমি মেনে নিতাম। একদিন খুব বৃষ্টি হলো। সেদিন আমি বাইরে ছিলাম। ছাতা ছিল না। সত্যি বলতে কী, ছাতা থাকলেও হয়তো ব্যবহার করতাম না। বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালো লাগে। বৃষ্টিতে ভিজলে মনে হয়, পৃথিবীটা কিছুক্ষণের জন্য মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছে। রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়। দোকানের শাটারের নিচে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। রিকশাগুলো ধীরে চলে। গাছের পাতাগুলো ধুয়ে যায়। শহরটা কিছুক্ষণের জন্য খুব শান্ত হয়ে যায়। সেদিনও আমি ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরলাম। দরজার সামনে দাঁড়াতেই সে দরজা খুলে দিল। আমার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, আবার ভিজে এসেছো। আমি বললাম, হুম। সে বলল, ছাতা ছিল না? আমি বললাম, ছিল। সে অবাক হয়ে বলল, ছিল? হ্যাঁ। তাহলে ব্যবহার করো নাই কেন? আমি বললাম, বৃষ্টিটা সুন্দর ছিল। সে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, তুমি আসলেই একটা পাগল। আমি বললাম, জানি। সে আর কিছু বলল না। ভেতরে গিয়ে একটা টাওয়াল নিয়ে এল। তারপর আমার মাথা মুছতে শুরু করল। আমি বললাম, দাও, আমি নিজেই মুছতে পারব। সে বলল, চুপ। আমি আবার বললাম, সত্যি বলছি, দাও। সে এবার একটু রাগ করে বলল, ভাইয়া, তুমি চুপ করে দাঁড়াও তো। আমি চুপ করে গেলাম। সে খুব যত্ন করে আমার চুল মুছছিল। চুল থেকে পানি ঝরছিল। তারপর কপাল মুছে দিল। গাল মুছে দিল। আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সে বলল, কী দেখো? আমি বললাম, তোমাকে। সে সঙ্গে সঙ্গে বলল, আমাকে দেখার কী আছে? আমি বললাম, আছে। সে চোখ ছোট করে বলল, কী আছে? আমি বললাম, অনেক কিছু আছে। সে আর কথা বলল না। শুধু মুচকি হাসল। সেই হাসিটা আমি এখনো মনে করতে পারি। কিছু কিছু হাসি মানুষের চোখে ছবি হয়ে থেকে যায়। বৃষ্টি থামার পরও সেই ছবি মুছে যায় না। সেদিন সে আমাকে শুকনো জামা এনে দিয়েছিল। তারপর বলেছিল, ঠান্ডা লাগবে। আমি বলেছিলাম, লাগবে না। সে বলেছিল, লাগবে। আমি বলেছিলাম, তুমি ডাক্তার নাকি? সে বলেছিল, ডাক্তার হতে হয় না। তোমাকে চিনি বলেই জানি। আমি হাসলাম। সে বলল, এখন হাসছো। রাতে জ্বর এলে তখন বুঝবা। আমি বললাম, তখন তুমি থাকবে তো? সে এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তারপর বলল, থাকব। কী অদ্ভুত। একটা শব্দ। থাকব। সেদিন সেই শব্দটার কোনো মূল্য বুঝিনি। আজ বুঝি। মানুষের জীবনে কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর অর্থ মানুষ পরে বুঝতে শেখে। সেদিন সন্ধ্যায় আমরা জানালার পাশে বসেছিলাম। বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল। জানালার কাচে পানি জমে ছিল। সে আঙুল দিয়ে কাচের ওপর একটা গোল দাগ করছিল। আমি বললাম, কী করছো? সে বলল, কিছু না। আমি বললাম, সবসময় কিছু না করো কেন? সে বলল, তুমি তো সবকিছুর উত্তর চাও। আমি বললাম, চাই। সে বলল, তাহলে বৃষ্টিকে জিজ্ঞেস করো। আমি বললাম, বৃষ্টি উত্তর দেবে? সে বলল, দেবে। আমি বললাম, কী উত্তর দেবে? সে একটু ভেবে বলল, যাকে মনে পড়ে, সে কাছে না থাকলেও তার কথা মনে থাকে। আমি চুপ করে গেলাম। সে বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার চুলের কয়েকটা গোছা মুখের ওপর এসে পড়েছিল। আমি হাত বাড়িয়ে সরিয়ে দিতে চেয়েও দিলাম না। কিছু কিছু মুহূর্তে মানুষ খুব সাধারণ একটা কাজ করতে গিয়েও ভয় পায়। ভয় হয়, মুহূর্তটা নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের তখন কোনো বড় স্বপ্ন ছিল না। বড় কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। আমাদের সুখ ছিল খুব ছোট। একসঙ্গে চা খাওয়া। বৃষ্টিতে জানালার পাশে বসা। আমি বাইরে থেকে ফিরলে তার টাওয়াল এগিয়ে দেওয়া। আমার দেরি হলে তার রাগ করা। আমি অসুস্থ হলে তার চিন্তা করা। আর মাঝে মাঝে সেই দুষ্টুমি করে বলা, ভাইয়া। আমি কখনো তাকে জিজ্ঞেস করিনি, তুমি আমাকে এত যত্ন করো কেন? জিজ্ঞেস করলে হয়তো সে হাসত। হয়তো বলত, জানি না। অথবা হয়তো বলত, তুমি বুঝবে না। মানুষ অনেক সময় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রশ্নগুলো করে না। কারণ সে ধরে নেয়, সময় আছে। পরে জিজ্ঞেস করবে। পরে কথা বলবে। পরে দেখা হবে। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেই পরে সবসময় আসে না। একদিন সে সত্যিই চলে গেল। কোথায় গেল, কেন গেল, সেটা এই গল্পে বলার মতো কোনো সুন্দর উত্তর নেই। শুধু এটুকু সত্যি, তার পর থেকে বৃষ্টি আমার কাছে আর আগের মতো নেই। বৃষ্টি এখনো সুন্দর। কিন্তু বৃষ্টির সৌন্দর্যের মধ্যে একটা কষ্ট মিশে গেছে। আজও বৃষ্টি হলে মনে হয়, দরজাটা খুলবে। সে দাঁড়িয়ে থাকবে। হাতে টাওয়াল। চোখে রাগ। মুখে হাসি। বলবে, আবার ভিজে এসেছো ভাইয়া? আমি হয়তো বলব, হুম। সে বলবে, ছাতা ছিল না? আমি বলব, ছিল। সে বলবে, ব্যবহার করো নাই কেন? আমি বলব, বৃষ্টি সুন্দর ছিল। তারপর সে হয়তো আগের মতোই মাথা নাড়বে। বলবে, তুমি আসলেই একটা পাগল। আমি বলব, জানি। তারপর সে আমার মাথা মুছে দেবে। এই কল্পনাটা আমি মাঝে মাঝে এত স্পষ্টভাবে দেখি যে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যাই, আমি একা। তারপর হঠাৎ বাস্তবতা ফিরে আসে। ঘরটা নীরব। জানালার পাশে কেউ নেই। টেবিলে এক কাপ ঠান্ডা চা। বাইরে বৃষ্টি। আর আমার ভেতরে অনেক পুরোনো একটা বিকেল। আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াই। বৃষ্টির দিকে তাকাই। অনেকক্ষণ। তারপর খুব আস্তে বলি, তুমি কি জানো, তোমার সেই টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছে দেওয়ার স্মৃতিটা আজও আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটা? তুমি কি জানো, তোমার সেই দুষ্টুমি করে ভাইয়া ডাকাটা আজও আমার কানে

হঠাৎ বৃষ্টি Read More »

মানুষের মূল রূপ এবং গন্তব্য একই, কোথাও থেকে এসেছি, কোথাও যেতে হবে..

মানুষের উৎপত্তি যেখান থেকেই হোক, পৃথিবীর সব মানুষের একটা জায়গায় এসে অদ্ভুত মিল হয়ে যায়। আমরা সবাই এই পৃথিবীতে আসি, কিছু সময় এখানে থাকি, তারপর একদিন চলে যাই। কেউ আগে যায়, কেউ পরে যায়, কিন্তু শেষ গন্তব্য থেকে কেউ পালাতে পারে না। তাই মানুষে মানুষে যত পার্থক্যই থাকুক, জন্ম আর মৃত্যুর এই সত্য আমাদের সবাইকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়।আমার কাছে মানুষের জীবনটা যেন একটা দীর্ঘ ভ্রমণের মাঝখানের সময়। আমরা কোথা থেকে এসেছি, কোথায় ফিরে যাব, এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মানুষের ধর্ম, দর্শন আর বিশ্বাসের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের হাতে যে সময়টুকু আছে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।রোন্ডা বার্নের The Magic বইটি পড়তে গিয়ে কৃতজ্ঞতার শক্তি নিয়ে ভাবার একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। বইটির মূল শিক্ষাগুলোর একটি হলো, জীবনের ছোট ছোট ভালো জিনিসগুলোকেও উপলব্ধি করা এবং কৃতজ্ঞ হতে শেখা। আর The Greatest Secret এ তিনি মানুষের চিন্তা, চেতনা, ভয়, দুঃখ এবং গভীর আনন্দ নিয়ে আরও ভেতরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।সেখান থেকে আমার নিজের একটা উপলব্ধি হয়েছে। মানুষ জীবনের মাঝখানের এই সময়টাকে শুধু দুশ্চিন্তা, হিংসা, অহংকার, প্রতিযোগিতা আর অভিমান দিয়ে নষ্ট করে ফেললে সে আসলে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটাই নষ্ট করে। কারণ টাকা হারালে আবার টাকা উপার্জন করা যায়, ঘর হারালে আবার ঘর বানানো যায়, কিন্তু চলে যাওয়া একটা মুহূর্তকে পৃথিবীর কোনো শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে না।তাই জীবনকে আমি শুধু বেঁচে থাকার বিষয় হিসেবে দেখি না। জীবন হলো অনুভব করার সময়, শেখার সময়, ভালোবাসার সময়, ভুল থেকে ফিরে আসার সময়, অন্য মানুষের উপকার করার সময়, প্রকৃতিকে দেখার সময়, প্রাণীদের প্রতি মায়া দেখানোর সময়, নিজের ভেতরের মানুষটাকে আবিষ্কার করার সময়।আমরা অনেক সময় ভাবি, গন্তব্যে পৌঁছানোই জীবনের সবচেয়ে বড় বিষয়। অথচ হয়তো আসল সৌন্দর্যটা গন্তব্যে নয়, পথের মধ্যে। একজন মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন তার হাতে সুযোগ থাকে নিজেকে বদলানোর, অন্যকে ক্ষমা করার, কারও চোখের পানি মুছে দেওয়ার, কারও মুখে হাসি ফোটানোর এবং নিজের জীবনটাকে একটু অর্থপূর্ণ করে তোলার।জীবন তাই আমার কাছে একটা রোমাঞ্চকর যাত্রা। এখানে আনন্দ আছে, কষ্ট আছে, পাওয়া আছে, হারানো আছে, প্রেম আছে, বিচ্ছেদ আছে, সফলতা আছে, ব্যর্থতা আছে। সবকিছু মিলিয়েই জীবন। শুধু সুখ চাইলে জীবনকে পুরোপুরি পাওয়া যায় না, কারণ কষ্টও অনেক সময় মানুষকে এমন কিছু শেখায়, যা সুখ কখনো শেখাতে পারে না।আমরা কেউ জানি না আমাদের হাতে আর কতটা সময় আছে। তাই আগামীকাল ভালো থাকব বলে আজকের ভালোবাসাটা আটকে রাখা ঠিক নয়। পরে ক্ষমা করব বলে আজকের অভিমান ধরে রাখা ঠিক নয়। একদিন সময় হলে মানুষের পাশে দাঁড়াব বলে আজকের সুযোগটা হারিয়ে ফেলা ঠিক নয়।কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা শেষ পৃষ্ঠা আছে। সেই পৃষ্ঠাটা কখন আসবে, আমরা কেউ জানি না। কিন্তু শেষ পৃষ্ঠা আসার আগে পর্যন্ত কলমটা আমাদের হাতেই আছে।তাই জীবন যতটুকু সময় দিয়েছে, সেই সময়টুকু ভালোভাবে বাঁচি। মানুষের প্রতি ভালোবাসা রাখি, প্রাণীর প্রতি মায়া রাখি, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব রাখি, নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস রাখি এবং প্রতিদিন অন্তত একটা ভালো কাজ করার চেষ্টা করি।হয়তো এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং কোথায় ফিরে যাব, সেই রহস্যের সব উত্তর আমাদের জানা নেই। কিন্তু মাঝখানে যে অল্প সময়টুকু পেয়েছি, সেটাকে কীভাবে ব্যবহার করব, সেই সিদ্ধান্তটা অনেকটাই আমাদের হাতে।জীবন ছোট, কিন্তু সুন্দর। সময় অল্প, কিন্তু সম্ভাবনা অসীম। তাই গন্তব্যের ভয় না করে, পথটাকে সুন্দর করে তোলাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা।

মানুষের মূল রূপ এবং গন্তব্য একই, কোথাও থেকে এসেছি, কোথাও যেতে হবে.. Read More »

ভুলিনি তোমায় আজও

বছরের প্রথম বৃষ্টি নামলেই আমার বুকের ভেতর কেমন একটা পুরোনো দরজা খুলে যায়। সেই দরজার ওপাশে কোনো ঘর নেই, কোনো মানুষ নেই, অথচ সেখানে তার মুখটা আজও ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। বৃষ্টি নামলে সবাই জানালা বন্ধ করে। আমি জানালা খুলে বসে থাকি। বৃষ্টির পানি এসে ঘরের মেঝে ভিজিয়ে দেয়, পর্দা ভিজে যায়, বেলকনি ভিজে যায়,বইয়ের পাতা ভিজে যায়। তবু জানালা বন্ধ করতে ইচ্ছে করে না। কারণ বৃষ্টির শব্দের মধ্যে আমি আজও তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। সে বলত, তুমি বৃষ্টিতে ভিজলে অসুস্থ হয়ে যাবে। আমি হেসে বলতাম, তুমি পাশে থাকলে অসুখও ভয় পাবে। সে তখন মুখ বাঁকিয়ে বলত, তোমার কথার কোনো ঠিক নেই। সেই মেয়েটা আজ কোথায়, আমি জানি না। শুধু জানি, পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে হয়তো সে এখনো বেঁচে আছে। হয়তো তার চুলে এখনো বৃষ্টির পানি পড়ে। হয়তো কোনো এক সন্ধ্যায় সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখে। হয়তো কোনো এক মুহূর্তে তারও আমার কথা মনে পড়ে। আবার হয়তো পড়ে না। মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্ট বোধ হয় এখানেই। যে মানুষটাকে আমরা প্রতিদিন মনে করি, সে আমাদের একদিনও মনে করে কি না, তার কোনো উত্তর আমাদের হাতে থাকে না। আমাদের সম্পর্ক হয়েছিল বিয়ের মাধ্যমে । এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যেটা নিয়ে গল্প লেখা যায়। কোনো সিনেমার মতো প্রথম দেখা নয়। কোনো নাটকীয়তা নয়। প্রথম দিকে তাকে আলাদা করে মনে রাখিনি। কথা বলতাম, হাসতাম, ঝগড়া করতাম। তার রাগ আমার ভালো লাগত। তার অভিমান আমার কাছে শিশুর মতো মনে হতো। সে যখন চুপ করে থাকত, তখন মনে হতো পৃথিবীর সব শব্দ যেন তার ঠোঁটের কাছে এসে থেমে গেছে। একদিন সে আমাকে বলেছিল, তুমি কি কখনো আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে। আমি খুব সহজভাবে বলেছিলাম, পারব। সে অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর বলেছিল, মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এত নিশ্চিত হয়ে কথা বলে কেন। আমি তখন তার কথার অর্থ বুঝিনি। আজ বুঝি। কিছু মানুষকে হারানোর আগে আমরা জানিই না, তারা আমাদের জীবনে কতটা জায়গা নিয়ে আছে। সময় গড়িয়ে গেল। একদিন কোনো এক ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝি বড় হয়ে গেল। তারপর কথার সঙ্গে কথা যোগ হলো, অভিমানের সঙ্গে অভিমান। যে মানুষ দুজন একসময় সারাদিন কথা বলেও ক্লান্ত হতো না, তারা একদিন একই ঘরে বসে থেকেও নীরব হয়ে গেল। আমি ভেবেছিলাম, সময় সব ঠিক করে দেবে। সে হয়তো ভেবেছিল, আমি একদিন গিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনব। দুজনেই ভুল ভেবেছিলাম। কারণ সময় কখনো কখনো মানুষকে কাছে আনে না, বরং দূরত্বকে পাকাপোক্ত করে দেয়। শেষবার যখন সে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, তার চোখে পানি ছিল। আমি দেখেছিলাম। তবু কিছু বলিনি। সে হয়তো চেয়েছিল আমি তাকে থামাই। আমি থামাইনি। সে দরজার কাছে গিয়ে একবার ফিরে তাকিয়েছিল। আজও সেই ফিরে তাকানোটা আমার চোখের সামনে ভাসে। কী আশ্চর্য, মানুষ চলে যাওয়ার সময় দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়, অথচ তার চলে যাওয়ার শব্দ বছরের পর বছর ঘরের ভেতর বাজতে থাকে। সেদিন যদি আমি তাকে ডাকতাম। সেদিন যদি বলতাম, থেকো। সেদিন যদি নিজের অহংকারটুকু পাশে রেখে বলতাম, আমি তোমাকে হারাতে চাই না। তাহলে কি সে থেকে যেত। জানি না। এই না জানাটাই আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি। কারণ মানুষ কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর না পেয়েও সারাজীবন বেঁচে থাকে। আমি এখন একা থাকি। একসময় একা থাকা আমার ভালো লাগত। এখন একা ঘরকে ভয় লাগে। রাতে ঘুম আসে না। বই খুলে বসি। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ি। তারপর হঠাৎ মনে হয়, এই গল্পটা সে পড়লে কী বলত। সিনেমা দেখতে বসি। নায়ক যখন নায়িকার হাত ধরে, তখন আমার মনে হয়, তার হাতটা যদি আমার হাতে থাকত। কোনো সুন্দর গান শুনলে মনে হয়, এই গানটা তাকে শোনানো দরকার ছিল। কবিতা লিখতে বসলে প্রথমে পৃথিবীর কথা লিখতে চাই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কথাই লিখে ফেলি। গল্প লিখতে বসলে কোনো চরিত্রকে তার মতো দেখতে হয়ে যায়। তারপর বিরক্ত হয়ে কাগজ ছিঁড়ে ফেলি। কারণ তাকে নিয়ে লেখা যায় না। কিছু মানুষকে নিয়ে লেখা শুরু করলে শব্দগুলো কাঁদতে শুরু করে। আমি যখন খুব একা থাকি, তখন তার নিষ্পাপ মুখটা পৃথিবীর সবকিছুর মধ্যে খুঁজে বেড়াই। রাস্তার পাশে কোনো মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, এই তো সে। বৃষ্টির মধ্যে কোনো মেয়ে ছাতা ছাড়া হাঁটলে মনে হয়, এই বুঝি সে। কোনো দোকানে তার মতো হাসি শুনলে বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে ওঠে। তারপর বুঝতে পারি, সে নয়। সে কেউই নয়। সে শুধু আমার স্মৃতি। আর স্মৃতির চেয়ে নিষ্ঠুর জিনিস পৃথিবীতে খুব কম আছে। কারণ মানুষকে হারালে একদিন তাকে কবর দিতে হয়। কিন্তু স্মৃতিকে কবর দেওয়া যায় না। স্মৃতি প্রতিদিন দরজা খুলে ঘরে ঢোকে। কখনো বৃষ্টির শব্দ হয়ে। কখনো কোনো পুরোনো গানের সুর হয়ে। কখনো কোনো বইয়ের পাতায়। কখনো অকারণে আসা এক দীর্ঘশ্বাস হয়ে। একদিন গভীর রাতে তার পুরোনো একটা ছবি হাতে নিয়ে বসেছিলাম। ছবিতে সে হাসছিল। কী নিষ্পাপ সেই হাসি। ছবিটার দিকে তাকিয়ে আমি বললাম, তুমি জানো, তোমাকে ছাড়া আমি কতটা একা হয়ে গেছি। ছবিটা কোনো উত্তর দিল না। আমি আবার বললাম, তুমি কি জানো, তোমাকে হারানোর পর আমি কতবার তোমাকে ফিরে পেয়েছি। সে নিশ্চুপ। আমি বললাম, বৃষ্টিতে তোমাকে পেয়েছি। কবিতায় তোমাকে পেয়েছি। সিনেমার দৃশ্যে তোমাকে পেয়েছি। ভিড়ের মধ্যে পেয়েছি। নির্জনতায় পেয়েছি। স্বপ্নে পেয়েছি। শুধু জেগে থাকা জীবনে তোমাকে পাইনি। সেদিন প্রথম বুঝলাম, ভালোবাসার মানুষকে হারানো মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়। তার সঙ্গে হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের অনেকগুলো সম্ভাবনা। একসঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার সম্ভাবনা। একসঙ্গে কোনো সিনেমা দেখার সম্ভাবনা। রাতে ঝগড়া করে সকালে আবার হাসার সম্ভাবনা। একদিন বৃদ্ধ হয়ে পাশাপাশি বসে থাকার সম্ভাবনা। মানুষ আসলে শুধু অতীতের জন্য কাঁদে না। সে কাঁদে সেই ভবিষ্যতের জন্যও, যেটা আর কখনো ঘটবে না। বছর কেটে গেছে। আমার চুলে এখন কিছু সাদা রং এসেছে। মানুষ ভাবে আমি তাকে ভুলে গেছি। আমি কাউকে কিছু বলি না। কারণ কিছু সত্যি পৃথিবীর কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয় না। আজও বর্ষার প্রথম দিনে আমি জানালা খুলে বসি। বৃষ্টি নামে। রাস্তায় পানি জমে। দূরের গাছগুলো ঝাপসা হয়ে যায়। আর আমার চোখের সামনে আবার সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে যায়। তার মুখে সেই পুরোনো হাসি। সে যেন বলছে, তুমি বৃষ্টিতে ভিজো না, অসুস্থ হয়ে যাবে। আমি মনে মনে বলি, তুমি পাশে থাকলে অসুখও ভয় পেত। তারপর নিজের কথাতেই বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। কারণ এখন পাশে কেউ নেই। শুধু বৃষ্টি আছে। শুধু স্মৃতি আছে। আর আছে একটা মানুষ, যে আজও মনে মনে অপেক্ষা করে। আমি জানি না সে কোনোদিন ফিরে আসবে কি না। হয়তো আসবে না। হয়তো কোনো এক শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সে তার নিজের জীবন নিয়ে হাঁটছে। হয়তো তার সংসার হয়েছে। হয়তো তার সন্তান হয়েছে। হয়তো কোনো এক বৃষ্টির রাতে সে জানালার পাশে বসে অন্য কারো কথা ভাবছে। আমি তার

ভুলিনি তোমায় আজও Read More »

রেড এলার্ট!

আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাসের কারণে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)। এই আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে টানা বজ্রঝড় ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান ও আসিরের কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি এবং নিম্নাঞ্চল ও উপত্যকাগুলোতে পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং যানচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলা এবং সরকারি আবহাওয়া নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেড এলার্ট! Read More »

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিএইসি ও জিই ভারনোভার চুক্তি

(পাবনা): রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কারিগরি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) আধুনিক (এসসিএডিএ/ইএমএস) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও ‘জিই ভারনোভা’-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।চুক্তির আওতায় রূপপুরের দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় ডাটা সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ সমন্বয়ের ফলে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে সরবরাহ করা যাবে এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং-পরবর্তী পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কমিশনিং ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার জন্য এই ডিজিটাইজেশন ও কারিগরি ইন্টিগ্রেশন অত্যন্ত জরুরি।

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিএইসি ও জিই ভারনোভার চুক্তি Read More »

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি চেয়েছে দুদক!

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. জাহিদ কালামের স্বাক্ষর করা চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব উল আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব ১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে বদলি সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।এ ছাড়া তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল এবং নতুন করে পদায়ন সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে দুদক। মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং সহায়ক রেকর্ডপত্রও জমা দিতে বলা হয়েছে।দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন এবং পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার নামে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় একটি চক্রের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে মোট ৭৬ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে এসব অভিযোগে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান দল অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়গুলো যাচাই করবে।অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডারেও অনিয়মের বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাব বিস্তারের মতো আরও কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের আগের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দুদকের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরবর্তীতে দুদকের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানে নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি চেয়েছে দুদক! Read More »

নেপাল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে

বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট কোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিকল্প কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে ভারতের কাছেও অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্প দুটি গত সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বন্যার আগে বর্ষা মৌসুমে নেপাল থেকে বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হতো। বন্যার পর দেশটির মোট বিদ্যুৎ রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রকল্পের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি সংকটের পেছনে শুধু বন্যাই নয়, ভারতের অনুমোদন নবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এর ফলে আরও তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না নেপাল। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও সঞ্চালন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি ভারত। নেপাল এখন ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সঞ্চালন অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিকল্পভাবে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি পাওয়ার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যসূত্র, দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।

নেপাল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে Read More »

Shopping Cart