Ecommerce/blog/news portal

moktaar

Welcome to Moktaar Innoor! We are dedicated to providing high-quality products and exceptional customer service. Our mission is to deliver the best shopping experience to our valued customers across the UAE and beyond. With a passion for excellence and a commitment to customer satisfaction, we strive to offer premium products at competitive prices. Our team works tirelessly to ensure every order is handled with care and delivered promptly. We believe in building long-lasting relationships with our customers based on trust and reliability. Thank you for choosing Moktaar Innoor — your satisfaction is our greatest reward. Shop with confidence

ব্লেজার

দুই হাজার সালের দিকের কথা, সবে এসএসসি পাস করেছি, সামনে কলেজ জীবন, বুকের ভেতর তখন কত স্বপ্ন, কত আনন্দ, কত অকারণ উত্তেজনা, জীবনটা তখন এত ছোট ছিল যে সামান্য কিছুতেই মনে হতো পৃথিবীটা বুঝি আমাদের হাতের মুঠোয়।শীতের এক সকালে কক্সবাজার যাওয়ার আয়োজন হলো, আমাদের এলাকা থেকে একটা বাস ভাড়া করা হয়েছিল, সঙ্গে প্রায় ষাট, সত্তরজন তরুণ, কারও বন্ধু, কারও সহপাঠী, কারও পরিচিত মুখ, সবাই মিলে যেন এক টুকরো তারুণ্য বাসের ভেতর উঠেছিল।রাতে বাস ছাড়ল, সারারাত গল্প, হাসাহাসি, গান আর জানালার বাইরে অন্ধকার রাস্তা, ভোরের দিকে যখন কক্সবাজার পৌঁছালাম, তখন মনে হলো জীবনে এর চেয়ে সুন্দর সকাল আর হয় না।সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন আমি প্রথম বুঝেছিলাম, পৃথিবী আসলে কত বড়।অনেকে সমুদ্রের পানিতে নেমে গোসল করছিল, কেউ দৌড়াচ্ছিল, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছিল, আর আমরা কয়েকজন দূরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলাম।ইচ্ছে ছিল আমরাও পানিতে নামব, সমুদ্রের ঢেউ শরীরে লাগাব, কিন্তু ইচ্ছে থাকলেই তো সবকিছু করা যায় না, সবার অতিরিক্ত কাপড় ছিল না, সামর্থ্যও ছিল না, তাই সমুদ্রের পানিতে নামা হলো না।আমরা শুধু সমুদ্রের পাড় ধরে হাঁটলাম।তবু সেদিন আনন্দের কোনো কমতি ছিল না।দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামল, আমরা ঘুরতে ঘুরতে গেলাম শুটকির বাজার, তারপর বার্মিজ মার্কেট।চারদিকে কত রঙ, কত মানুষ, কত জিনিস, মনে হচ্ছিল চোখ দুটো শুধু দেখেই যাবে, কিন্তু পকেটটা ছিল বড়ই লাজুক।তখন আমার পকেটে ছিল মোটামুটি সাড়ে তিনশো টাকা।সেই বয়সে সাড়ে তিনশো টাকা আমার কাছে কমও ছিল না, আবার বেশি কিছু কেনার মতো টাকাও ছিল না।হঠাৎ একটা কালো ব্লেজারের দিকে চোখ আটকে গেল।কেন জানি না, ব্লেজারটা আমার ভীষণ পছন্দ হয়ে গেল।কালো রঙের সেই ব্লেজারটা যেন আমার চোখে শুধু একটা পোশাক ছিল না, মনে হচ্ছিল এটা কিনতে পারলে আমিও বুঝি একটু বড় হয়ে যাব, একটু সুন্দর হয়ে যাব, কলেজে গিয়ে একদিন এটা গায়ে দিয়ে দাঁড়ালে হয়তো কেউ তাকিয়ে বলবে, ছেলেটাকে বেশ মানিয়েছে।দোকানদার দাম চাইল পাঁচশো টাকা।আমি পকেটের দিকে তাকালাম, তারপর মানুষটার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমার কাছে সাড়ে তিনশো টাকা আছে।তিনি রাজি হলেন না।আমি চলে এলাম।কিন্তু মনটা পড়ে রইল সেই কালো ব্লেজারের কাছে।প্রায় আধা ঘণ্টা পর আবার গেলাম।আবার বললাম, ভাই, আমার কাছে সাড়ে তিনশো টাকাই আছে, এর বেশি দিতে পারব না।তিনি বললেন, আমার কেনা দামই চারশো টাকা, আপনি চারশো টাকা দিতে পারবেন।আমি চুপ করে গেলাম।আমার কাছে তখন সাড়ে তিনশো টাকার বেশি সত্যিই ছিল না।লোকটা হয়তো আমার অবস্থা বুঝেছিলেন, কিন্তু ব্যবসার জায়গায় মায়া দিয়ে তো আর সবসময় হিসাব চলে না।আবার ফিরে এলাম।কিছুক্ষণ পর আবার গেলাম।শেষবারের মতো বললাম, ভাই, সাড়ে তিনশো টাকা নেন, ব্লেজারটা আমাকে দিয়ে দেন।তিনি দিলেন না।আমি আর কিছু বললাম না।চুপচাপ ফিরে এলাম আমাদের বাসের কাছে।কিছুক্ষণ পর বাস ছাড়ল কক্সবাজার থেকে।সমুদ্র পেছনে পড়ে রইল, বাজার পেছনে পড়ে রইল, বন্ধুরা গল্প করতে করতে বাড়ির পথে ফিরল, কিন্তু আমার ভেতরে একটা কালো ব্লেজার আটকে রইল।সেদিন হয়তো আমি একটা ব্লেজার কিনতে পারিনি, কিন্তু আসলে শুধু একটা পোশাকই হারাইনি, হারিয়েছিলাম আমার কিশোর বয়সের একটা ছোট্ট স্বপ্ন।আজ এত বছর পরও মাঝে মাঝে সেই রাতটার কথা মনে পড়ে।মনে পড়ে বার্মিজ মার্কেটের সেই দোকানটা, মনে পড়ে দোকানির মুখ, মনে পড়ে আমার সাড়ে তিনশো টাকা, আর মনে পড়ে সেই কালো ব্লেজারটা।জীবনে কত দামি পোশাক পরেছি, কত কিছু কিনেছি, কত কিছু হারিয়েছি, কিন্তু সেই সাড়ে তিনশো টাকায় কিনতে না পারা কালো ব্লেজারটার কথা আজও ভুলতে পারিনি।কারণ কিছু জিনিস আমরা না কিনেও সারাজীবন বয়ে বেড়াই।কিছু আফসোসের কোনো দাম থাকে না।আর কিছু স্বপ্ন, পূরণ না হয়েও মানুষের মনের ভেতর সারাজীবন সুন্দর থেকে যায়।সেই কালো ব্লেজারটা আমার কেনা হয়নি, কিন্তু আজও আমার স্মৃতির সবচেয়ে যত্নে রাখা আলমারিতে সেটাই যেন ঝুলে আছে।

ব্লেজার Read More »

কুকুরের প্রতি সদয় হোন

একটি প্রাণী আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারে না, নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে না, শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিতে পারে। সেই চোখের ভাষা যে মানুষ বুঝতে পারে, তার হৃদয় কখনো পুরোপুরি পাথর হয়ে যেতে পারে না।প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা মানুষের দুর্বলতা নয়, বরং মানুষের সবচেয়ে সুন্দর শক্তিগুলোর একটি। যে মানুষ একটি ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেয়, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি দেয়, আহত প্রাণীর পাশে দাঁড়ায়, সে শুধু একটি প্রাণীকে বাঁচায় না, নিজের ভেতরের মানবিকতাকেও বাঁচিয়ে রাখে।আমরা মানুষ বলে পৃথিবীর সবকিছুর ওপর আমাদের অধিকার আছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়। পাখির আকাশ আছে, মাছের জল আছে, কুকুরের রাস্তা আছে, বিড়ালের আশ্রয় আছে, গাছের ছায়া আছে। প্রত্যেক প্রাণীরই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।একটি প্রাণীকে ভালোবাসতে অনেক বড় কিছু হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটু খাবার, এক বাটি পানি, একটু আশ্রয়, কিংবা বিপদের সময় একটু নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াই অনেক সময় তার পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।মনে রাখবেন, প্রাণী আপনার উপকার করতে পারবে কি না, সেটা বিবেচনা করে যদি আপনি তার প্রতি মমতা দেখান, তাহলে সেটা হয়তো লেনদেন। কিন্তু কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই একটি অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা।মানুষের মহত্ত্ব শুধু সে মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তা দিয়ে বোঝা যায় না। সে দুর্বল, অসহায় এবং নির্বাক প্রাণীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তার মধ্যেও মানুষের চরিত্রের সবচেয়ে গভীর পরিচয় লুকিয়ে থাকে।পৃথিবীটা একটু সুন্দর হোক। মানুষের জন্য, প্রাণীর জন্য, সব জীবনের জন্য।

কুকুরের প্রতি সদয় হোন Read More »

রাজস্ব আদায়, নতুন বেতন কাঠামো ও জ্বালানি ভর্তুকি নিয়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ, ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার দাবি কতটা সত্য?

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি চাপ, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে এখনই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।২০২৬ ২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আয় মাত্র ৩ লাখ কোটি টাকা হবে, এমন দাবি সঠিক নয়। তবে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর আগে ২০২৫ ২৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। ফলে নতুন অর্থবছরে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কতটা অর্জিত হবে, সেটিই এখন অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও সরকারের ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ২০২৬ ২৭ অর্থবছরে এর পুরো অর্থ একসঙ্গে ব্যয় করা হবে না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা আগে জানা গেলেও বাজেটের বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণ করে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্যও সামনে এসেছে।অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের কারণে একবারেই ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, এমন সরল হিসাব পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজন বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৫ ২৬ অর্থবছরের শেষ নাগাদ তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে তেল খাতে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।তবে এই ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা এর আগের বিভিন্ন হিসাবকে ৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি সরকারি ভর্তুকি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং সরকারি ভর্তুকি দুটি আলাদা বিষয়।বাজেটের ব্যয় কাঠামো নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বেতন ভাতা এবং ঋণের সুদ মিলিয়ে বাজেটের ৮০ শতাংশ ব্যয় হবে, এমন দাবি সঠিক নয়। ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতাও সরকারের পরিচালন ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ। কিন্তু এই দুটি খাতকে একত্র করলেও মোট বাজেটের ৮০ শতাংশ হয় না।তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। বরং সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং একই সঙ্গে স্থায়ী ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। বেতন ভাতা, পেনশন, ঋণের সুদ, ভর্তুকি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকলে উন্নয়নমূলক খাতে সরকারের অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।বিশ্বব্যাংকও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। সরকার কি নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জন করতে পারবে। নতুন বেতন কাঠামো ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয়ের চাপ কীভাবে সামলানো হবে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে ভর্তুকি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।তাই বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া তথ্যভিত্তিক হবে না। তবে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, ঋণের সুদ, বেতন ভাতা, ভর্তুকি এবং জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় যে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করছে, সেটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজস্ব আদায় কত হচ্ছে, সরকারের ব্যয় কত বাড়ছে, ঋণের পরিমাণ কতটা বাড়ছে এবং সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে এই হিসাবগুলো সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে তার ওপর।

রাজস্ব আদায়, নতুন বেতন কাঠামো ও জ্বালানি ভর্তুকি নিয়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ, ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার দাবি কতটা সত্য? Read More »

প্রভা

আমার একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটা হলো, আমরা অনেক সময় একজন মানুষকে তার পুরো জীবন দিয়ে বিচার করি না, বিচার করি তার একটা ভুল, একটা বক্তব্য, কিংবা আমার মতের বিরুদ্ধে যাওয়া একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে। একজন মানুষ সারাজীবনে একশটা ভালো কাজ করল, মানুষের উপকার করল, ভালো কিছু করার চেষ্টা করল, কিন্তু আমরা হয়তো সেই ভালো কাজগুলোর কথা মনে রাখলাম না। অথচ সে একটা ভুল করল, কিংবা এমন একটা কথা বলল যেটা আমার পছন্দ হলো না, ব্যস, তখন তার ব্যক্তিত্ব, পরিবার, অতীত, পেশা, এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। আমার কাছে মনে হয়, মতের অমিল আর মানুষের প্রতি অসম্মান এক জিনিস নয়। কারো কোনো কাজ আমার ভালো না লাগতেই পারে, তার বক্তব্যের সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকতেই পারে, তার কোনো সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনাও আমি করতে পারি। কিন্তু তাই বলে মানুষটাকে ছোট করা, অপমান করা কিংবা তার সব ভালো কাজকে অস্বীকার করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। কাউকে ভালো বলতে হলে তার অন্ধ সমর্থক হতে হবে না। আবার কারো একটা কাজের বিরোধিতা করতে গিয়ে তার সারাজীবনের ভালো কাজগুলোও মুছে ফেলতে হবে না। ভালো কাজকে ভালো বলা, খারাপ কাজকে খারাপ বলা, এই সহজ বিবেচনাটুকুই আমাদের সমাজে আরও বেশি প্রয়োজন। মতের বিরোধিতা করুন, যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করুন, ভুল হলে ভুল ধরিয়ে দিন, কিন্তু মানুষটাকে ধ্বংস করার প্রতিযোগিতায় নামবেন না। কারণ আজ যাকে একটা ভুলের জন্য আপনি অপমান করছেন, কাল একই ভুল আপনারও হতে পারে। মানুষ ভুল করবে, আবার মানুষ ভুল থেকে শিখবেও। তাই একজন মানুষের একটা ভুলকে তার পুরো পরিচয় বানিয়ে না ফেলে, তার ভালো মন্দ সবকিছু মিলিয়েই তাকে বিচার করা উচিত। আমাদের সমাজটা হয়তো সেদিনই একটু সুন্দর হবে, যেদিন আমরা সত্যিকার অর্থে শিখব, ভালো কাজকে ভালো বলতে, খারাপ কাজকে খারাপ বলতে, মতের অমিলকে স্বাভাবিকভাবে নিতে, আর মতের অমিল হলেও একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে।

প্রভা Read More »

জুরাইনের সেই টেম্পু

সম্ভবত তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। বার্ষিক পরীক্ষা মাত্র শেষ হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একটা অদ্ভুত আনন্দ থাকে। মনে হয়, পৃথিবীর সব রাস্তা এখন বেড়ানোর জন্য খোলা। বন্ধুরা কেউ নানার বাড়ি যায়, কেউ মামার বাড়ি যায়, কেউ আবার দূরের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আমি অবশ্য এসবের কোনোটাই করতে পারতাম না। আমার নানা বাড়ি ছিল, মামা বাড়িও ছিল। কিন্তু সেই বাড়িগুলোতে আমাদের জন্য খুব একটা জায়গা ছিল না। আমার মা, বাবা, ভাই বোনদেরকে তাঁরা খুব একটা পছন্দ করতেন না।হয়তো গরীব ছিলাম বলে।তাই আমাদের বাড়িতে কখনো তেমন দাওয়াত আসত না। কেউ বলত না, পরীক্ষা শেষ হয়েছে, চলে আয়, কয়েকদিন থাকবি। ছোটবেলায় এসব নিয়ে আমার মনে কোনো প্রশ্ন জাগত না। শিশুরা অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। তারা শুধু দেখে, তারপর মেনে নেয়। আমি তখনও জানতাম না, কেন আমাকে কেউ ডাকছে না। কেন অন্য ছেলেরা মামার বাড়ি যায়, আর আমি যাই না। কেন অন্যদের নানা বাড়ির গল্প আছে, অথচ আমার নেই। এসব প্রশ্নের উত্তর বুঝতে আমার আরও অনেক বছর লেগেছিল। সেবার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নানা বাড়ি বা মামা বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হলো না। আমাকে যেতে হলো আমার বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে। তাঁরা থাকতেন ঢাকার ফতুল্লা, ওয়াবদা কলোনিতে। ঢাকা শহর তখন আমার কাছে বিশাল একটা পৃথিবী। আমি ছোট মানুষ। ঢাকা শহরের কোনো রাস্তা চিনি না, কোনো মোড় চিনি না। কোনদিকে গেলে কোথায় পৌঁছানো যায়, তার কিছুই জানি না। আমার ভাইয়ের শ্বশুর সরকারি চাকরি করতেন। সম্ভবত ইলেকট্রিক অফিসে। সরকারি চাকরি করার কারণে তাঁরা সরকারি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন। সেই ফ্ল্যাটেই পরিবারের সবাই থাকতেন। আমিও গিয়ে উঠলাম সেখানে। শুরুতে ভালোই লাগছিল। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন শহর। কিন্তু কয়েকদিন যাওয়ার পর একটা বিষয় ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম। আমাকে কেউ কোথাও নিয়ে যাচ্ছে না। ঢাকা শহরটা আমার কাছে অচেনা। অথচ আশেপাশে কত কিছু। রাস্তা আছে, দোকান আছে, গাড়ি আছে, মানুষ আছে, কত রকমের শব্দ আছে। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতাম আর ভাবতাম, এই শহরটা কেমন? কেউ যদি একদিন বলত, চল, তোকে ঢাকা শহরটা ঘুরিয়ে আনি, তাহলে হয়তো আমার পৃথিবীটাই অন্যরকম হয়ে যেত। কিন্তু কেউ বলল না। আমি কাউকে কিছু বলতেও পারতাম না। ছোট মানুষ ছিলাম। তার ওপর লজ্জা। কাউকে গিয়ে বলা যায় নাকি, আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যান? তখন আমার ভাইয়ের শ্বশুর মাঝে মাঝে আমাকে দশ টাকা, বিশ টাকা দিতেন। বাইরে কিছু খাওয়ার জন্য। আমাদের সংসারে তখন অভাব ছিল। মা বাবা চাইলেও আমাকে হাতে টাকা দিতে পারতেন না। তাই সেই দশ টাকা, বিশ টাকা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার ছিল। সেই টাকা পেলে আমি মাঝে মাঝে বাইরে গিয়ে ফুচকা খেতাম। ফুচকা খাওয়ার আনন্দটা তখন অনেক বড় আনন্দ ছিল। একদিন হঠাৎ আমার মাথায় কী যেন ঢুকল। ভাবলাম, আমি নিজেই তো বের হতে পারি। ঢাকা শহরটা একটু দেখে আসি। কেউ নিয়ে যাবে না তো কী হয়েছে? আমি একাই যাব। সেদিন সাহস করে বের হয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে একটা ব্রিজের কাছে গেলাম। ব্রিজের গোড়ায় টেম্পু দাঁড়িয়ে ছিল। টেম্পুগুলো এদিক যায়, ওদিক যায়। চালকেরা চিৎকার করে যাত্রী ডাকছে। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। তারপর হঠাৎ কী মনে করে একটা টেম্পুতে উঠে পড়লাম। আমার জীবনে সম্ভবত সেটাই ছিল প্রথম কোনো অচেনা গাড়িতে একা ওঠা। টেম্পু চলতে শুরু করল। প্রথম কয়েক মিনিট আমার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর লাগছিল। মনে হচ্ছিল, আমি ঢাকা শহর ঘুরছি। আমি একজন অভিযাত্রী। একজন ছোট্ট অভিযাত্রী। কিন্তু সেই রোমাঞ্চ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। টেম্পু যত সামনে যেতে লাগল, আমার বুকের ভেতর তত ধকধক করতে লাগল। রাস্তা অচেনা। মানুষ অচেনা। দোকান অচেনা। চারপাশের সবকিছু অচেনা। হঠাৎ আমার মনে হলো, আমি তো জানিই না কোথায় যাচ্ছি। বাসায় ফিরব কীভাবে? ঠিক তখনই আমি টেম্পুওয়ালাকে বললাম, ভাই, আমি নামব। লোকটা টেম্পু থামাল। আমি সঙ্গে সঙ্গে নেমে গেলাম। তারপর হাঁটা শুরু করলাম। কোথা দিয়ে এসেছি, ঠিক জানি না। কোন রাস্তা ধরে ফিরতে হবে, তাও জানি না। তবু হাঁটতে হাঁটতে কোনোভাবে আবার সেই বাসায় ফিরে এলাম। সেদিনের সেই ঘটনা আজও আমার মনে আছে। জীবনে প্রথমবার বুঝেছিলাম, অচেনা পৃথিবী দেখতে যাওয়ার চেয়ে কখনো কখনো নিজের চেনা ছোট্ট ঘরটায় ফিরে আসাটাই বড় আনন্দ। সেদিনের পর আর কখনো একা বাইরে বের হইনি। কেউ আমাকে ঘুরাতে নিয়ে যায়নি। আমিও কাউকে বলিনি। চুপচাপ ঘরের ভেতরেই থাকতাম। আজ এত বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে আমার সেই ছোট্ট ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ে। ছেলেটা হয়তো খুব বেশি কিছু চাইত না। সে শুধু চাইত কেউ একজন তার হাত ধরে বলুক, চল, তোকে একটু ঘুরিয়ে আনি। চল, তোকে ঢাকা শহরটা দেখাই। চল, তোকে একটা নতুন জায়গা দেখাই। চল, আজ তোকে ফুচকা খাওয়াই। কিন্তু জীবনে অনেক সময় সবচেয়ে ছোট চাওয়াগুলোই পূরণ হয় না। সেদিন টেম্পু থেকে নেমে আমি শুধু বাসায় ফিরে আসিনি। আমার মনে হয়, সেদিন আমি একটু বড়ও হয়ে গিয়েছিলাম। আমি শিখে গিয়েছিলাম, সব জায়গায় নিজের জন্য কেউ হাত বাড়িয়ে দেবে না। কখনো কখনো নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা শিশুর কাছে দশ টাকা বিশ টাকা যতটা মূল্যবান নয়, তার চেয়েও মূল্যবান হলো একজন বড় মানুষের হাত ধরে বলা, ভয় পেয়ো না, আমি আছি। আমার ছোটবেলায় সেই কথাটা খুব কমই শুনেছি। তাই হয়তো আজও ঢাকার সেই ব্রিজ, সেই টেম্পু, সেই অচেনা রাস্তা আর ভয়ে কাঁপতে থাকা ছোট্ট ছেলেটাকে আমি ভুলতে পারিনি। কিছু স্মৃতি মানুষ ভুলতে পারে না। কারণ সেগুলো শুধু স্মৃতি নয়। সেগুলোর ভেতরেই ছোটবেলাটা চুপ করে বসে থাকে

জুরাইনের সেই টেম্পু Read More »

দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি মায়া না থাকলে দেশকে ভালোবাসা যায় না

মন্ত্র থেকে মন্ত্রী, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রণা। কিন্তু মন্ত্রীর মনে যদি দেশ না থাকে, মানুষের জন্য মায়া না থাকে, তাহলে সেই মন্ত্রণা দিয়ে দেশ চলবে কীভাবে। চেয়ার বড় হলেই মানুষ বড় হয় না, মানুষের জন্য কাজ করলেই মানুষ বড় হয়।বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই কথাটা আজ খুব গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। কারণ একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব শুধু সংসদে দাঁড়িয়ে বড় বড় কথা বলা নয়, একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের জীবনটা একটু সহজ করা। একজন মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যাস পাচ্ছে কিনা, বিদ্যুৎ পাচ্ছে কিনা, তার ব্যবসা চলছে কিনা, কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে কিনা, পরিবারের খরচ চালাতে পারছে কিনা, এসব প্রশ্নের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার সরাসরি সম্পর্ক আছে। তাই মন্ত্রীর বক্তব্য যতই সুন্দর হোক, মানুষের জীবনে তার কোনো পরিবর্তন না এলে সেই বক্তব্যের মূল্য খুব বেশি থাকে না।আজ বাংলাদেশের মানুষ গ্যাস সংকটের কষ্ট বুঝতেছে। অনেক জায়গায় রান্নার গ্যাসের চাপ কম, কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, শিল্পকারখানা জ্বালানির সংকটে পড়ছে। গ্যাসের সংকট আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও চাপ তৈরি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, সেই কেন্দ্র চালানোর জন্য জ্বালানি দরকার। ফলে গ্যাস সংকট যখন বাড়ে, তখন তার প্রভাব শুধু রান্নাঘরে থাকে না, শিল্পে যায়, ব্যবসায় যায়, পরিবহনে যায়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যায়, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এসে পড়ে।বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। একজন মন্ত্রী হয়তো সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে, নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এসব কথার প্রয়োজন আছে। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকে, একজন দোকানদার যখন ফ্রিজ চালাতে পারে না, একজন কারখানা মালিক যখন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, একজন শিক্ষার্থী যখন গরমের মধ্যে পড়তে বসে, তখন তার কাছে বক্তৃতার চেয়ে বিদ্যুতের সুইচে আলো জ্বলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।আমাদের রাজনীতির একটা বড় সমস্যা হলো, আমরা অনেক সময় সমস্যার সমাধানের চেয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা দিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে যাই। কে আগে কী ভুল করেছে, কে কত বছর ক্ষমতায় ছিল, কে কত বড় দুর্নীতি করেছে, কে দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে, এসব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু জনগণ শেষ পর্যন্ত একটা প্রশ্ন করে, আপনি ক্ষমতায় এসে আমার জীবনটা কতটুকু সহজ করলেন।আগের সরকার ভুল করেছে, সেটা থাকলে তদন্ত হোক, তথ্য প্রকাশ হোক, প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের সরকারের ভুলকে অনন্তকাল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। কারণ ক্ষমতা মানেই দায়িত্ব। জনগণ যখন কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন সেই দায়িত্বের সঙ্গে অতীতের সমস্যার সমাধানের দায়িত্বও চলে আসে।সংসদের ভেতরে আলোচনা, বিতর্ক, সমালোচনা অবশ্যই দরকার। সংসদ যদি শুধু হাততালি দেওয়ার জায়গা হয়, তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। আবার সংসদ যদি শুধু একে অপরকে অপমান করার জায়গা হয়ে যায়, সেটাও জনগণের জন্য ভালো নয়। সংসদের আসল কাজ হলো জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলা, সরকারের কাছে প্রশ্ন করা, সরকারের ব্যাখ্যা শোনা, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সমাধানের পথ বের করা।সংসদের ভেতরে যদি গ্যাস সংকট নিয়ে আলোচনা হয়, তাহলে শুধু কে দায়ী সেটা বললেই হবে না। জানতে হবে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কতদূর এগিয়েছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে, এলএনজি আমদানিতে কত খরচ হচ্ছে, ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কতটা থাকবে, শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা হলে শুধু লোডশেডিংয়ের কথা বললেই হবে না, জানতে হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কত, জ্বালানি সরবরাহ কত, সঞ্চালন ব্যবস্থা কোথায় দুর্বল, বিতরণ ব্যবস্থায় কোথায় সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।এখানেই একজন মন্ত্রীর আসল যোগ্যতা প্রকাশ পায়। বড় বড় কথা বলা খুব সহজ। কঠিন হলো জনগণকে সত্য কথা বলা। কঠিন হলো ভুল স্বীকার করা। কঠিন হলো নিজের দলের ভুলের বিরুদ্ধেও দাঁড়ানো। কঠিন হলো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যেটা হয়তো আজ জনপ্রিয় হবে না, কিন্তু দশ বছর পরে দেশের জন্য ভালো হবে।বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আজ গ্যাসের সংকট হলো, তাই গ্যাস আমদানি করলাম। কাল বিদ্যুতের সংকট হলো, তাই নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বানালাম। পরশু আবার জ্বালানির দাম বাড়ল, তখন ভর্তুকি দিলাম। এভাবে শুধু সংকটের পেছনে পেছনে দৌড়ালে একটা দেশ স্থায়ীভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের দরকার এমন জ্বালানি নীতি, যেখানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রয়োজনীয় আমদানি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সাশ্রয়, সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে।একজন মন্ত্রী যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে তাঁকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু বড় ব্যবসায়ী বা বড় শিল্পপতিদের অর্থনীতি নয়। এই দেশের অর্থনীতি একজন রিকশাচালকের আয়, একজন কৃষকের ধান, একজন ক্ষুদ্র দোকানদারের ব্যবসা, একজন পোশাক শ্রমিকের বেতন, একজন প্রবাসীর পাঠানো টাকা, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্ন, সবকিছুর সমষ্টি।একজন সাধারণ মানুষের ঘরে গ্যাস না থাকা ছোট ঘটনা নয়। একজন ব্যবসায়ীর দোকানে বিদ্যুৎ না থাকা ছোট ঘটনা নয়। একটা কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়া ছোট ঘটনা নয়। কারণ এসব ছোট ছোট সমস্যাই একসময় জাতীয় অর্থনীতির বড় সংকটে পরিণত হয়।তাই মন্ত্রীর চেয়ার যত বড় হবে, তাঁর দায়িত্বও তত বড় হবে। চেয়ার মানুষকে বড় করে না, চেয়ার মানুষের দায়িত্ব বড় করে। একজন মন্ত্রী যদি সেই দায়িত্বকে সম্মান করেন, তাহলে তিনি জনগণের কষ্টকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখবেন। আর যদি চেয়ারকে নিজের ক্ষমতার প্রতীক মনে করেন, তাহলে তিনি মানুষের কাছ থেকে দূরে চলে যাবেন।আমাদের দরকার এমন মন্ত্রী, যিনি শুধু সংসদে বক্তৃতা দেবেন না, মাঠে যাবেন। শুধু ফাইল দেখবেন না, মানুষের কথা শুনবেন। শুধু কর্মকর্তাদের রিপোর্ট পড়বেন না, সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাও শুনবেন। শুধু নিজের দলের প্রশংসা শুনবেন না, বিরোধীদের যুক্তিও শুনবেন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনা মানে নিজের কথা সবাইকে শোনানো নয়, রাষ্ট্র পরিচালনা মানে সবার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া।বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের শত্রু নয়। জনগণ কোনো দলের শত্রুও নয়। জনগণ শুধু চায়, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, দেশটা ভালো থাকুক। মানুষ চায় সন্তান ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, পরিবারের চিকিৎসা হোক, ব্যবসা চলুক, কৃষক ন্যায্য দাম পাক, শ্রমিক সময়মতো বেতন পাক, ঘরে বিদ্যুৎ থাকুক, রান্নাঘরে জ্বালানি থাকুক। এই সাধারণ চাওয়াগুলো পূরণ করাই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য।তাই মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্নটা খুব সহজ। আপনার মন্ত্রণা কি শুধু সংসদের মাইক্রোফোনের জন্য, নাকি বাংলাদেশের মানুষের ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য। আপনার বক্তব্য কি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য, নাকি দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য। আপনি কি শুধু চেয়ারটাকে বড় করবেন, নাকি চেয়ারে বসে নিজের মানুষটাকেও বড় করবেন।মন্ত্র থেকে মন্ত্রী, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রণা। শব্দের এই খেলাটা আসলে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার একটা বড় শিক্ষা দেয়। মন্ত্রীর মুখের কথা তখনই মূল্যবান, যখন সেই কথার সঙ্গে কাজ থাকে। প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পরিকল্পনা থাকে। পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন থাকে। আর ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি থাকে।বাংলাদেশের এখন বড় বড় কথা কম দরকার, বড় কাজ বেশি দরকার। রাজনৈতিক সাফাই কম দরকার, সত্য কথা বেশি দরকার। একে অপরকে দোষারোপ কম দরকার, সমস্যার সমাধান বেশি দরকার। কারণ সাধারণ মানুষ রাজনীতির ভাষণ দিয়ে চুলায় ভাত রান্না করতে পারে

দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি মায়া না থাকলে দেশকে ভালোবাসা যায় না Read More »

কাম সারছে!

কিছুক্ষণ আগে রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।ঘটনাটি ঘটেছে মহান জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে। জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান এবং গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে জানা গেছে।এর আগের রাতেও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।একটার পর একটা এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দিনের ব্যস্ত সময় হোক কিংবা রাত, রাস্তায় বের হলে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ নিরাপদ থাকবে কীভাবে?আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেও যদি তারা বারবার জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এই চক্র বন্ধ হবে কীভাবে?অভিযোগ রয়েছে, কিছু অপরাধী বারবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জামিনে বের হয়ে আসে। কেউ কেউ আবার বাইরে এসে অভিযোগকারী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর সাহসও পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই অপরাধীদের পেছনে কারা আছে?কারা তাদের আশ্রয় দেয়?কারা তাদের ব্যবহার করে?কোন প্রভাব বা সুপারিশের কারণে তারা বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আসে?এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।কারণ একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাই শেষ কথা নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।একটি রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষ যদি রাস্তায় বের হয়ে নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।মানুষ কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চায় না। মানুষ বিচার চায়।মানুষ বড় কোনো প্রতিশ্রুতিও চায় না। মানুষ চায় নিরাপদে রাস্তায় হাঁটতে, নিরাপদে রিকশায় যেতে, নিরাপদে ঘরে ফিরতে।মানুষ দুই মুঠো খেয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায়।মানুষ তার জানমালের নিরাপত্তা চায়।মিথ্যা গল্প নয়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও নয়। মানুষ এখন বাস্তব নিরাপত্তা চায়।

কাম সারছে! Read More »

যোগ্য ব্যক্তি অরাজনৈতিক হলেও শ্রেয়

এতদিনে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে আমার মনে হয়। দেশের উন্নয়ন, মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার কাজ যদি সত্যিই করতে হয়, তাহলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই হবে না, প্রয়োজন হবে দেশকে সবার আগে রাখার মানসিকতা। আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখছি, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মানুষের কাছে যায়, ভোট চায়, নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক সময় জনগণের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থ, ক্ষমতা ধরে রাখা এবং পরবর্তী নির্বাচনের হিসাবটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। তখন জনগণ হয়ে যায় ভোটের সময়ের মানুষ, আর ক্ষমতা হয়ে যায় রাজনৈতিক শক্তির প্রধান লক্ষ্য। আমার প্রশ্ন হলো, রাজনীতি কি শুধু ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতি কি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। রাজনীতি কি শুধু একজন আরেকজনকে হারানোর জন্য। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, তাহলে মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, কৃষি, ব্যবসা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক শান্তি কেন রাজনৈতিক হিসাবের নিচে চলে যাবে। আমরা যখন দেখি কোনো বিষয়ে সংসদে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, কোথাও কোনো সিনেমা বা শিল্পকর্ম নিয়ে আপত্তি উঠছে, আবার কোনো রাজনৈতিক নেতা সেই আপত্তিকে সমর্থন করছেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, রাষ্ট্র কি যুক্তি দিয়ে চলবে, নাকি জনমতকে খুশি করার রাজনৈতিক হিসাব দিয়ে চলবে। আবার যখন কোনো ব্যক্তি এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন এবং তার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তখন আমাদের আরও একটি বিষয় ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কোনো পক্ষকে খুশি করা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আইন সবার জন্য সমান রাখা। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে শত্রু বানানো যাবে না। কেউ সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে রাষ্ট্রবিরোধী বলা যাবে না। আবার কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতির কথা বলার সুযোগকে ব্যবহার করে অন্যের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি এখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছি না। কারণ অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। কারও বক্তব্য, কোনো মিছিল, কোনো সিদ্ধান্ত বা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তথ্য, আইন এবং যুক্তির মাধ্যমে। গুজব, উত্তেজনা কিংবা রাজনৈতিক অপপ্রচার দিয়ে নয়। আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্ষমতাসীনরা ভাববে, এতে আমার ভোট বাড়বে কি না। নাকি আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবা হবে, এতে দেশের মানুষের উপকার হবে কি না। রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আমার আপত্তি রাজনীতি করার জন্য নয়। রাজনীতি প্রয়োজন। গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল প্রয়োজন। সংসদ প্রয়োজন। বিরোধী দল প্রয়োজন। জনগণের ভোট প্রয়োজন। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে যদি ক্ষমতার লোভ যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে রাজনীতি মানুষের সেবা থেকে ধীরে ধীরে ক্ষমতার ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যোগ্যতা, সততা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা। কেউ রাজনীতিবিদ হলেই খারাপ, আর কেউ অরাজনৈতিক হলেই ভালো, এমন সরল সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। অরাজনৈতিক মানুষও ভুল করতে পারেন, রাজনৈতিক মানুষও অসাধারণ কাজ করতে পারেন। আসল বিচার হওয়া উচিত মানুষটি কী করছেন, কেন করছেন এবং তার সিদ্ধান্তে জনগণের কতটা উপকার হচ্ছে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে মন্ত্রী হওয়ার জন্য শুধু দলীয় আনুগত্য যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন হবে যোগ্যতা। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার জন্য শুধু রাজনৈতিক পরিচয় যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন হবে অভিজ্ঞতা, সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা। আমি রাজতন্ত্রের পক্ষে অন্ধভাবে কথা বলছি না। কারণ রাজা ভালো হলে রাজতন্ত্র ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু রাজা খারাপ হলে জনগণের হাতে তাকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা কোথায় থাকবে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ। তাই আমাদের গণতন্ত্র বাতিল করার আগে বরং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবতে হবে। আমাদের দরকার এমন গণতন্ত্র, যেখানে ভোট শুধু পাঁচ বছর পর একটি ব্যালট দেওয়ার নাম নয়। জনগণ যেন প্রতিদিন সরকারের কাছে প্রশ্ন করতে পারে। সংসদ যেন সত্যিকারের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। সাংবাদিক যেন প্রশ্ন করতে পারে। শিল্পী যেন সৃজনশীল হতে পারে। নাগরিক যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারে। ধর্মীয় মানুষ যেন নিজের ধর্ম পালন করতে পারে। আবার অন্য ধর্মের মানুষও যেন নিরাপদে নিজের বিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারে। বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়। বাংলাদেশ কোনো একটি ধর্মের নয়। বাংলাদেশ কোনো একজন নেতার নয়। বাংলাদেশ কোনো মন্ত্রীরও নয়। বাংলাদেশ এই দেশের কোটি কোটি মানুষের। তাই যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যে দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক, যে ব্যক্তি মন্ত্রী হোক, তাকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা জনগণের আমানত। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যে ক্ষমতায় আছে, কাল সে ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে। আজ যে বিরোধী দলে আছে, কাল সে সরকারে যেতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র থেকে যায়, জনগণ থেকে যায়, দেশের ভবিষ্যৎ থেকে যায়। আমার ভয় রাজনৈতিক দল নিয়ে নয়, আমার ভয় হলো এমন রাজনীতি নিয়ে যেখানে দেশের ভবিষ্যতের চেয়ে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ বড় হয়ে যায়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে ভোটের হিসাব থাকবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকবে মানুষ। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে কোনো উগ্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপের কারণে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে। আবার এমন বাংলাদেশও চাই না যেখানে সাধারণ মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হবে। রাষ্ট্রকে মাঝখানে দাঁড়িয়ে ন্যায়, আইন এবং যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তা, সেতু আর ভবন বানালেই উন্নয়ন হবে না। মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা বাড়াতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বেকার যুবকদের কাজ দিতে হবে। শিল্পকারখানা বাড়াতে হবে। কৃষককে বাঁচাতে হবে। ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তা দিতে হবে। শিক্ষাকে আধুনিক করতে হবে। চিকিৎসাকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবের বাইরে নিয়ে আসতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের এমন নেতৃত্ব দরকার যারা জনগণকে ভোটার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখবে। আমি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নই। আমি অন্ধ দলীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নই। আমি সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে, যেখানে জনগণের স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতার স্বার্থ বড় হয়ে যায়। দেশ চালানোর জন্য রাজনীতি প্রয়োজন, কিন্তু দেশ বাঁচানোর জন্য বিবেক প্রয়োজন। সংসদ প্রয়োজন, কিন্তু সংসদের ভেতরে সত্য বলার সাহসও প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজন, কিন্তু সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী নাগরিক সমাজও প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক মানুষ এবং অরাজনৈতিক মানুষকে শত্রু বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং যার মধ্যে যোগ্যতা আছে, তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। যে ভালো কাজ করবে, তাকে সমর্থন করতে হবে। যে ভুল করবে, সে যে দলেরই হোক, তার সমালোচনা করতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোনো দলের নয়। প্রশ্নটা বাংলাদেশ। ক্ষমতা কার হাতে থাকবে সেটা

যোগ্য ব্যক্তি অরাজনৈতিক হলেও শ্রেয় Read More »

হেডম জাহাজের কচ্ছপ!

একদিন ওমানের আল বুরাইমি পাসপোর্ট অফিসে গেছিলাম ভিসা রিনিউ করার কামে। কাজ শেষ কইরা বাইরে আইসা দেখি, পরিচিত একজন সিলেটি ভদ্রলোক দাঁড়াইয়া আছেন। উনিও সম্ভবত ভিসা রিনিউ করার কামেই আইছেন। আমার কাছে গাড়ি আছিল, উনার কাছে গাড়ি আছিল না। উনি সাধারণ একটা চাকরি করেন, আমিও উনাকে চিনতাম। মানুষ পরিচিত, সামনে দাঁড়াইয়া আছে, তাই ভাবলাম জিজ্ঞেস করি, ভাই গাড়ি আছে নাকি নাই। যদি না থাকে, আমার গাড়িতে চলেন, আমি পৌঁছাইয়া দেই। উনি কিছু কইলেন না, চুপচাপ আমার গাড়িতে আইসা বসলেন। গাড়িতে বসার পর দেখি উনি একজনরে ফোন দিয়া কইতেছেন, হ্যাঁ ভাই, আমার গাড়ির ব্যবস্থা হইয়া গেছে, তুমি আর আইসো না। আমি গাড়ি চালাইতেছি আর মনে মনে ভাবতেছি, বাহ, ব্যাপার তো ভালোই। লোকটার জন্য আলাদা গাড়ি আসতেছিল, লোকজন তার জন্য অপেক্ষা করতেছিল। আমার গাড়িতে উঠছে ঠিকই, কিন্তু ফোনে এমন ভাব দেখাইতেছে, মনে হইতেছে যেন তার গাড়ি সব সময় দরজার সামনে রেডি থাকে, শুধু আজকে ভাগ্যক্রমে আমার গাড়িতে উঠছে। উনারে গন্তব্যে নামাইয়া দিয়া আমি আর কিছু কইলাম না। কিন্তু ফেরার পথে একটা কথা মনে হইল। দুনিয়াতে কিছু মানুষ আছে, যাদের হাতে আসলে খুব বেশি কিছু নাই, কিন্তু ভাবটা এমন, যেন পুরো দুনিয়ার হ্যান্ডেল তাদের হাতে। চাকরি ছোট হইতে পারে, ব্যবসা ছোট হইতে পারে, পকেট পাতলা হইতে পারে, কিন্তু হেডাম থাকে জাহাজের কচ্ছপ এর মতন । আবার কিছু মানুষ আছে, যাদের সত্যিই অনেক কিছু আছে, কিন্তু তারা সেটা কাউরে বুঝাইতে যায় না। কারো উপকার করলে সেটা নিয়া গল্প করে না, নিজের অবস্থান দেখাইতে গিয়া অন্য মানুষরে ছোট করে না। মানুষ বড় হয় তার ব্যবহার দিয়া। আর একটা কথা, অন্যের গাড়িতে উঠলেও সমস্যা নাই, অন্যের সাহায্য নিলেও সমস্যা নাই। সমস্যা তখনই, যখন সেই সাহায্যটাকেও নিজের হেডাম দেখানোর মঞ্চ বানাই ফেলি। জীবনে যত উপরে উঠি, তত নিচু হইয়া চলা দরকার। কারণ মাথার উপরে যত বড় আকাশই থাকুক, শেষ পর্যন্ত মানুষরে মাটির উপর দিয়াই হাঁটতে হয়।

হেডম জাহাজের কচ্ছপ! Read More »

ইটের দেয়াল আর সেলাই মেশিনের নীরবতা!

​একটি পোশাক কারখানা মানে কেবল চার দেয়ালের একটি ইমারত কিংবা কিছু যন্ত্রের গুঞ্জন নয়; এটি শত শত নিবেদিতপ্রাণ মানুষের স্বপ্ন, ঘাম এবং জীবিকার বাতিঘর। সেই বাতিঘরই এবার নিভে গেল। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস লিমিটেড’ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বন্ধ ঘোষণা করেছে।​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে কারখানাটির দরজায় ঝুলছে চিরতরে বন্ধের নোটিশ। দীর্ঘদিনের মন্দা, বৈরী পরিস্থিতি আর স্বার্থান্বেষী মহলের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন এক উদ্যোক্তা, আর কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন বহু দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।​চিঠির পাতায় এক উদ্যোক্তার নীরব দীর্ঘশ্বাস​প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক আবেগঘন চিঠিতে এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। আবেগ আর বাস্তবতার দ্বন্দ্বে লেখা সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন—ব্যবসায়ে টানা দুই বছর উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও মন্দা তো ছিলই, তার ওপর যুক্ত হয়েছিল কিছু মানুষের স্বার্থান্বেষী অপতৎপরতা। বহু চেষ্টা করেও কারখানাটি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।​উদ্যোক্তা তার চিঠিতে অনুশোচনা ও কৃতজ্ঞতার সুর মিলিয়ে লেখেন:​”আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক দক্ষ এবং উৎসর্গী, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন যারা খারাপ সময়েও ধৈর্য ধরে পাশে থেকেছেন। তাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞ। আমি যেন সকল পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করে একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি এবং ভবিষ্যতে কোনো উপায়ে আবার এই কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারি—সবার কাছে সেই দোয়াই চাই।”​শিল্প খাতের কঠিন বাস্তবতা ও মানবিক পরিণতি​তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনিশ্চয়তা প্রায়শই মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে। একটি কারখানার উৎপাদন থমকে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি নয়, বরং শত শত শ্রমিকের হাঁড়ির খবর বন্ধ হয়ে যাওয়া।​স্বার্থান্বেষী চক্রের চাপ আর ব্যবসায়িক মন্দার মেলবন্ধনে যখন একটি উদ্যোগ এভাবে অকালে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে সমগ্র শিল্পের সুরক্ষা নিয়ে। তবে সমস্ত অন্ধকার পেরিয়ে আবার নতুন ভোরের প্রত্যয় খুঁজে পাওয়ার আকুতি রেখে গেছে উদ্যোক্তার সেই বিদায়ী চিঠি।

ইটের দেয়াল আর সেলাই মেশিনের নীরবতা! Read More »

Shopping Cart