Ecommerce/blog/news portal

moktaar

Welcome to Moktaar Innoor! We are dedicated to providing high-quality products and exceptional customer service. Our mission is to deliver the best shopping experience to our valued customers across the UAE and beyond. With a passion for excellence and a commitment to customer satisfaction, we strive to offer premium products at competitive prices. Our team works tirelessly to ensure every order is handled with care and delivered promptly. We believe in building long-lasting relationships with our customers based on trust and reliability. Thank you for choosing Moktaar Innoor — your satisfaction is our greatest reward. Shop with confidence

অনিয়ন্ত্রিত দামে দিশেহারা

বাজারে আগুন, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: অনিয়ন্ত্রিত দামে দিশেহারা দেশবাসী​দেশের কাঁচাবাজারগুলোতে এখন পা ফেললেই সাধারণ ক্রেতাদের আঁতকে উঠতে হচ্ছে। প্রতিদিনের রান্নাবান্নার অতি প্রয়োজনীয় আয়োজনটুকু সারতেও সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর কিংবা গ্রামের ছোট বাজার—সবখানেই একই চিত্র। বাজারমুখী হলেই সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে, কারণ আয়ের সাথে নিত্যদিনের ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।​মাস শেষে উপার্জনের বড় একটি অংশই এখন চলে যাচ্ছে স্রেফ জীবনধারণের মৌলিক খাদ্যসামগ্রী কিনতে। ফলে সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনের জন্য সামান্য টাকা সঞ্চয় করা এখন বহু পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে এসে কিছুটা দরদাম করার সুযোগও যেন উঠে গেছে; চড়া দামের সামনে নিরুপায় হয়ে পরিমাণের চেয়ে অনেক কম কেনাকাটা করেই ঘরে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যাগ হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের এই অসহায়ত্ব এখন দেশের প্রতিটা বাজারের নিত্যদিনের দৃশ্য।​বাজার বিশ্লেষক ও বিক্রেতারা পরিবহণ খরচ, সরবরাহ ঘাটতি কিংবা পাইকারি বাজারের চড়া দামের কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত এর পুরো চাপটা এসে পড়ছে চূড়ান্ত ভোক্তার ওপর। মাঠপর্যায়ে কঠোর বাজার তদারকি না থাকা এবং হাতবদলে দাম বাড়ানোর প্রবণতাই এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাধারণ মানুষের জীবনের এই অতিরিক্ত চাপ ও বোগান্তি কমাতে এখনই কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি।

অনিয়ন্ত্রিত দামে দিশেহারা Read More »

জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায়!

​বাংলাদেশ সরকার দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি পরিবেশ-বান্ধব সমাধান হিসেবে বর্জ্য থেকে শক্তি (Waste-to-Energy) উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এই লক্ষ্যে, একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে, যা ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।​প্রকল্পের মূল তথ্য এবং চুক্তির বিবরণ:​এই প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক বর্জ্য-থেকে-শক্তি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। প্রতিদিন ঢাকার বর্জ্য পোড়ানো হবে এবং সেই তাপশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।​সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, এই প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত প্রতিটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার ২৫ টাকায় কিনে নেবে। এই দামটি কিছুটা বেশি মনে হতে পারে, তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান। বর্তমানে বাংলাদেশে অন্যান্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গড় দাম ৬-৮ টাকা প্রতি ইউনিট। সেই তুলনায় ২৫ টাকা বেশ বেশি। তবে, এই প্রকল্পে প্রযুক্তির ব্যয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশাল খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, এটি একটি পাইলট প্রকল্প, ভবিষ্যতে প্রযুক্তির উন্নয়নে খরচ আরও কমে আসবে।​প্রকল্পের গুরুত্ব ও সুবিধা:​১. পরিবেশগত সুবিধা: এই প্রকল্পটি ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমস্যা সমাধান করবে। বর্জ্য ল্যান্ডফিলে ডাম্প করার পরিবর্তে পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে। ল্যান্ডফিলের আয়তনও প্রায় ৯০% হ্রাস পাবে।২. শক্তির বৈচিত্র্যকরণ: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এটি শক্তির উৎসগুলিকে বৈচিত্র্যময় করবে। এটি একটি পরিবেশ-বান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।৩. অর্থনৈতিক প্রভাব: প্রকল্প স্থাপনের ফলে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এছাড়াও, বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি হওয়ায় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।৪. বর্জ্য হ্রাস: এই প্রক্রিয়ার ফলে বর্জ্যের আয়তন প্রায় ৯০% হ্রাস পাবে, যা ল্যান্ডফিলের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।​চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান:​১. বর্জ্য সংগ্রহ ও বিভাজন: দক্ষ বর্জ্য সংগ্রহ এবং বিভাজন একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর জন্য উন্নত সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা প্রয়োজন।২. প্রযুক্তিগত পরিচালনা: বর্জ্য-থেকে-শক্তি প্ল্যান্টের পরিচালনা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। চীনা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।৩. বিদ্যুতের দাম: ২৫ টাকা প্রতি ইউনিট দাম কিছুটা বেশি মনে হতে পারে, তবে এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং পরিবেশগত সুবিধার কথা বিবেচনা করলে এই দাম যৌক্তিক। এছাড়া, এটি বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।​উপসংহার:​বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। যদিও এটির দাম কিছুটা বেশি, কিন্তু এটি একটি পরিবেশ-বান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। এই প্রকল্পটি যদি সফল হয়, তবে দেশের অন্যান্য শহরেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। এটি দেশের শক্তির বৈচিত্র্যকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায়! Read More »

এখনই থামাতে হবে

আজকে যদি একজন হিন্দু মারা যায়, কাল নিরাপদ থাকবে না কোনো মুসলমান। পরশু নিরাপদ থাকবে না কোনো মানুষ।কথাটা মনে রাখবেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কখনো একজনকে মেরে থেমে থাকে না। আগুন যখন ঘরে লাগে, সে ঘরের মালিকের ধর্ম দেখে পোড়ে না। আজ যে মানুষটা হিন্দু বলে আক্রান্ত হচ্ছে, কাল একই উগ্রতার শিকার হতে পারে একজন মুসলমান, একজন বৌদ্ধ, একজন খ্রিস্টান, একজন নাস্তিক, এমনকি একজন সাধারণ মানুষও।বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু কোনো একটি ধর্মের মানুষের ওপর হামলা নয়। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, মানুষ যখন অন্য মানুষের কষ্ট দেখে চুপ থাকতে শেখে।আজ যদি আমরা বলি, হিন্দু মরছে, আমার কী, তাহলে কাল অন্য কেউ মরলে আরেকজন বলবে, আমার কী। এইভাবে একটা সমাজ ধীরে ধীরে মানুষের সমাজ থেকে উগ্রতার সমাজে পরিণত হয়।বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়েও নিরাপত্তা সতর্কতা রয়েছে।তাই আজ হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্নটা শুধু হিন্দুর প্রশ্ন না। এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। কারণ রাষ্ট্র যদি একজন নাগরিককে তার ধর্মের কারণে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা শেষ পর্যন্ত কারো জন্যই নিরাপদ থাকে না।আমি কোনো ধর্মকে দায়ী করছি না। ইসলাম কোনো অপরাধীর ব্যক্তিগত উগ্রতাকে সমর্থন করে না, হিন্দুধর্মও করে না, বৌদ্ধধর্মও করে না, খ্রিস্টধর্মও করে না, ইহুদিধর্মও করে না। অপরাধীর পরিচয় আগে অপরাধী, তার ধর্ম পরে।আমাদের ভয়টা এখানেই, যদি বিচারহীনতা চলতে থাকে, যদি উগ্রবাদীরা বারবার সাহস পায়, যদি মানুষ ধর্মের নামে মানুষকে শত্রু ভাবতে শুরু করে, তাহলে বাংলাদেশে শুধু সংখ্যালঘুরাই বিপদে পড়বে না, পুরো সমাজের মানবিক কাঠামো ভেঙে পড়বে।আজ হিন্দুকে বাঁচানো মানে শুধু একজন হিন্দুকে বাঁচানো নয়। আজ হিন্দুকে বাঁচানো মানে আগামী দিনের মুসলমানকে বাঁচানো। বৌদ্ধকে বাঁচানো। খ্রিস্টানকে বাঁচানো। নাস্তিককে বাঁচানো। সর্বশেষে মানুষকে বাঁচানো।বাংলাদেশ কোনো উগ্রবাদীর দেশ না। বাংলাদেশ কোনো ধর্মীয় সন্ত্রাসীর দেশও না। এই দেশ কৃষকের, শ্রমিকের, জেলের, ছাত্রের, মায়ের, বাবার, হিন্দুর, মুসলমানের, বৌদ্ধের, খ্রিস্টানের, সবার।কেউ যদি ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে, তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের নামে মানুষ হত্যা করে, তার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে। কেউ যদি বিদেশি কোনো শক্তির স্বার্থে বাংলাদেশের মাটিকে অশান্ত করতে চায়, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।কারণ বাংলাদেশকে বাঁচানোর একটাই পথ, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা।আজ যদি আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াই, তাহলে বাংলাদেশ বাঁচবে। আর যদি আজ একজনের মৃত্যুতে আমরা চুপ থাকি, কাল সেই নীরবতার আগুন আমাদের দরজায়ও এসে দাঁড়াতে পারে।হিন্দু মরলে বাংলাদেশ মরে। মুসলমান মরলে বাংলাদেশ মরে। মানুষ মরলে বাংলাদেশ মরে।তাই ধর্ম নয়, উগ্রবাদকে প্রতিরোধ করুন। মানুষকে নয়, অপরাধীকে ঘৃণা করুন। প্রতিশোধ নয়, বিচার চাইুন। আর বাংলাদেশের মাটিতে এমন একটা সমাজ তৈরি করুন, যেখানে মানুষের পরিচয় তার ধর্ম দিয়ে নয়, তার মানবিকতা দিয়ে হবে।

এখনই থামাতে হবে Read More »

সুমাইয়া ও তার বাবার কান্ড কীর্তন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও অর্থ বিনিময়ে প্রচারের অভিযোগে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ (২৫) এবং তার মূল সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই অনৈতিক কাজের তথ্য জেনেও তা সমর্থন করা এবং উপার্জিত অর্থ গ্রহণের অপরাধে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও একই মামলার আসামি করা হয়েছে।ঘটনা ও তদন্তের মূল তথ্য: * অপরাধের কৌশল: সুমাইয়া ও তার চক্র টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিক্রি করত। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। বেশি গ্রাহক আকৃষ্ট করতে ৩,৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দেওয়ার অফারও চালু করেছিল তারা। * অভিযান ও আলামত জব্দ: সাইবার নজরদারির মাধ্যমে গত ১০ আগস্ট বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরদিন (১১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে সুমাইয়ার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। * বাবার সম্পৃক্ততা: গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এই অপকর্মের বিষয়ে পুরোপুরি জানতেন। বাধা দেওয়া দূরে থাক, তিনি নিয়মিত ওই আয়ের টাকা গ্রহণ করতেন। * আইনি ব্যবস্থা: রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উদঘাটনে গ্রেপ্তার দুজনকেই আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

সুমাইয়া ও তার বাবার কান্ড কীর্তন Read More »

“পরিশ্রম”আপনার চেহারাটা মনে রাখে

পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নাই। মানুষ জীবনে যত বড় স্বপ্নই দেখুক, সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে হলে তাকে ঘাম ঝরাইতে হয়, সময় দিতে হয়, ধৈর্য ধরতে হয়, অনেক না পাওয়া মেনে নিতে হয়। তবে আমার কাছে পরিশ্রমের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, আপনি যখন নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, নিজের ভবিষ্যতের জন্য এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির আশায় পরিশ্রম করেন, তখন সেই পরিশ্রম আর শুধু পরিশ্রম থাকে না, সেটা আপনার জীবনের একটা সাধনা হয়ে যায়। মানুষের প্রশংসার জন্য পরিশ্রম করবেন না। মানুষ আপনাকে আজ বাহবা দেবে, কাল ভুলে যাবে। মানুষের প্রশংসা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আপনার পরিশ্রমের ফল আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে। ভগবদগীতার একটি গভীর শিক্ষা হলো, মানুষের অধিকার তার কর্মে, ফলের ওপর নয়। অর্থাৎ আপনার কাজ হলো নিজের দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করা, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। ফল কখন আসবে, কতটা আসবে, সেটা নিয়ে সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকার দরকার নাই। কুরআনের শিক্ষাতেও মানুষের নিজের চেষ্টা ও কর্মের গুরুত্বের কথা এসেছে। কুরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ তার নিজের প্রচেষ্টারই ফল পায়। তাই শুধু দোয়া করলেই হবে না, শুধু প্রার্থনা করলেই হবে না, নিজের জায়গা থেকে চেষ্টাটাও করতে হবে। বৌদ্ধধর্মের শিক্ষাতেও অধ্যবসায়, আত্মসংযম এবং সঠিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব রয়েছে। খ্রিস্টীয় শিক্ষাতেও কাজকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করার কথা বলা হয়েছে। ধর্মের পথ আলাদা হতে পারে, উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু সৎভাবে কাজ করা, মানুষের উপকার করা, অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং নিজের দায়িত্ব পালন করার শিক্ষা সব মানুষের জন্যই মূল্যবান। তাই আপনি যখন পরিশ্রম করবেন, কাউকে দেখানোর জন্য করবেন না। মানুষ আপনাকে দেখুক, প্রশংসা করুক, বাহবা দিক, এসবের জন্য পরিশ্রম করবেন না। কারণ মানুষের প্রশংসা আজ আছে, কাল নাই। মানুষের স্মৃতি আজ আপনাকে মনে রাখবে, কাল অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে। আপনি নিজের পরিবারের জন্য পরিশ্রম করুন। আপনার সন্তান যেন আপনার কষ্ট দেখে শিখতে পারে, জীবনে কিছু পেতে হলে চেষ্টা করতে হয়। আপনি নিজের জন্য পরিশ্রম করুন, যাতে একদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে বলতে পারেন, আমি চেষ্টা কম করি নাই। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করেছি। আমি পড়ে গিয়েছি, আবার দাঁড়িয়েছি। আমি হেরেছি, কিন্তু হাল ছাড়ি নাই। আর যদি আপনি বিশ্বাসী মানুষ হন, তাহলে আপনার পরিশ্রমের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসাটাও রাখুন। তবে ভরসা মানে বসে থাকা নয়। দোয়া করবেন, প্রার্থনা করবেন, তারপর নিজের কাজটাও করবেন। শুধু ভাগ্যের ওপর বসে থেকে সাফল্যের অপেক্ষা করলে জীবন বদলায় না। মনে রাখবেন, সঠিক পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না। হয়তো তার ফল সঙ্গে সঙ্গে পাবেন না। আপনি এক বছর পরিশ্রম করবেন, দুই বছর করবেন, তারপরও ফলাফল আপনার প্রত্যাশামতো নাও আসতে পারে। তখন মনে হবে, এত কষ্ট করলাম, এত সময় দিলাম, এত চেষ্টা করলাম, তবুও কেন কিছু হলো না। সেই সময়টাতেই আসল পরীক্ষা। যে মানুষ ফল না পেয়েও সঠিক কাজ করে যেতে পারে, যে মানুষ প্রশংসা না পেলেও নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে পারে, যে মানুষ মানুষকে দেখানোর জন্য নয়, নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকার জন্য পরিশ্রম করতে পারে, শেষ পর্যন্ত সেই মানুষটাই ভিতর থেকে সবচেয়ে শক্ত মানুষ হয়ে ওঠে। আর একটা কথা মনে রাখবেন, শুধু অনেক পরিশ্রম করলেই হবে না, সঠিক জায়গায় সঠিক পরিশ্রম করতে হবে। ভুল পথে দৌড়ালে দ্রুত এগিয়ে গেলেও গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। তাই পরিশ্রমের সঙ্গে জ্ঞান দরকার, ধৈর্য দরকার, সততা দরকার, পরিকল্পনা দরকার এবং নিজের ভুল থেকে শেখার মানসিকতা দরকার। আপনার আজকের ছোট ছোট চেষ্টা হয়তো আজ কারও চোখে পড়ছে না। আপনার রাত জাগা, আপনার চিন্তা, আপনার ব্যর্থতা, আপনার নীরব কান্না, আপনার পরিবারের জন্য করা ত্যাগ, এগুলোর কোনো সাক্ষী হয়তো নাই। কিন্তু আপনি থামবেন না। কারণ মানুষের চোখে আপনার পরিশ্রমের মূল্য কম হতে পারে, কিন্তু আপনার জীবনে সেই পরিশ্রমের মূল্য একদিন ঠিকই দেখা যাবে। আপনি যতটা পারেন সৎভাবে কাজ করুন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করুন। কারও ক্ষতি করে নয়, কাউকে ঠকিয়ে নয়, অন্যের অধিকার মেরে নয়। নিজের ঘাম দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার চেষ্টা করুন। কারণ অন্যের চোখে বড় হওয়ার চেয়ে নিজের বিবেকের কাছে বড় হওয়াটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাফল্য শুধু টাকা, বাড়ি, গাড়ি কিংবা পরিচিতির নাম নয়। সাফল্য হলো, আপনি এমন একজন মানুষ হতে পারলেন কিনা, যার কারণে আপনার পরিবার নিরাপদ বোধ করে, আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে ভালো কিছু শেখে, আপনার প্রতিবেশী আপনার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় আপনার নিজের বিবেক আপনাকে কোনো প্রশ্ন না করে। কয়েকদিন আগে মেকানিক দোকানদার আবদুল্লাহ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ভাই, আপনার মধ্যে একটা জিনিস আমি দেখছি, আপনি অনেক চিন্তা করেন, আপনি অনেক পরিশ্রমী, আর এই পরিশ্রমের কারণেই আজকে আপনি এত দূরে আসছেন। আবদুল্লাহ ভাইয়ের কথাটা আমার মনে দাগ কেটে গেছে। কারণ জীবনে অনেক সময় আমরা নিজের পরিশ্রমের মূল্য নিজেরাই বুঝতে পারি না, কিন্তু দূর থেকে তাকিয়ে থাকা একজন মানুষ আমাদের সেই পরিশ্রমটা দেখতে পায়। তাই বলি, পরিশ্রম করতে কখনো ফাঁকি দেবেন না। অলসতাকে নিজের বন্ধু বানাবেন না। মানুষের বাহবার জন্য নয়, নিজের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করুন। সৎ থাকুন, ধৈর্য ধরুন, সঠিক পথে থাকুন, আর নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান। কারণ আজ আপনার পরিশ্রম হয়তো নীরব, কিন্তু একদিন সেই পরিশ্রমই আপনার হয়ে কথা বলবে। –

“পরিশ্রম”আপনার চেহারাটা মনে রাখে Read More »

অনুভূতি

কখনো কখনো জীবনের ছোট্ট একটা ঘটনা আমাদের ভেতরে অনেক বড় একটা উপলব্ধি তৈরি করে।প্রায় এক বছর আগে অনলাইনে একজন মানুষের কাছে আমি কিছু টাকা পাওনা হয়েছিলাম। তার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনেছিলাম, কিন্তু প্রোডাক্টটা পাইনি, টাকাটাও আর ফেরত পাইনি। বিষয়টা একসময় প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।হঠাৎ আজকে সেই মানুষটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বললেন, ভাই, আমার কাছে একটু গিল্টি ফিল হচ্ছে। আমি আপনার টাকাটা দিয়ে দিতে চাই। এরপর তিনি আমার সেই পুরোনো পাওনা টাকাটা আমাকে পাঠিয়ে দিলেন।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মাত্র দুই দিন আগে একজন ক্যান্সার রোগী আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাকে কিছু টাকা সাহায্য করেছিলাম। সেই সাহায্য করার সময় আমি কোনো বিনিময়ের আশা করিনি। শুধু মনে হয়েছিল, একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে দাঁড়ানো উচিত।দুই দিন পর হঠাৎ করে এক বছরের পুরোনো সেই পাওনা টাকা আমার কাছে ফিরে এলো।আমি এটাকে কোনো হিসাবের সূত্র হিসেবে দেখছি না। বরং আমার কাছে এটা একটা সুন্দর আত্মিক অনুভূতি। মনে হলো, আমরা যখন মন থেকে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, তার জন্য মন থেকে দোয়া করি, তখন হয়তো সেই ভালো কাজের প্রভাব কোনো না কোনোভাবে আমাদের জীবনেও ফিরে আসে।আল্লাহ কীভাবে কার রিজিকের দরজা খুলে দেন, সেটা আমরা কেউ জানি না। কখনো মানুষের মাধ্যমে, কখনো এমন কোনো জায়গা থেকে, যেখান থেকে আমরা আর কিছু পাওয়ার আশাই করি না।তাই ভালো কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে বিনিময় আশা করবেন না। কাউকে সাহায্য করলে মনে রাখবেন, আপনি হয়তো তার জীবনটা একটু সহজ করে দিচ্ছেন। আর আপনার নিজের জীবনের হিসাবটা আল্লাহ নিজের মতো করে সামলে নিতে পারেন।আমার আজকের উপলব্ধি খুব সহজ।মানুষের উপকার করুন, সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়ের পাশে দাঁড়ান, মন থেকে দোয়া করুন। বিনিময়ে কিছু পাওয়ার জন্য নয়, মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।কারণ রিজিক শুধু টাকা দিয়ে আসে না। কখনো রিজিক আসে শান্তি হয়ে, কখনো মানুষের ভালোবাসা হয়ে, কখনো বিপদের সময় একজন মানুষের হাত হয়ে, আর কখনো এক বছর আগের হারিয়ে যাওয়া পাওনা টাকা হয়ে।আমরা শুধু ভালো কাজটা করে যাই। বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিই।

অনুভূতি Read More »

শিক্ষিত জাতি হলেই হয় না, দীক্ষিত জাতিও হতে হয়একজন মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন, অনেক ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন, দেশের উন্নয়ন করতে পারেন, কিন্তু শুধু শিক্ষিত হলেই একজন মানুষ সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠেন না। শিক্ষার সঙ্গে যদি নৈতিকতা না থাকে, জ্ঞানের সঙ্গে যদি বিবেক না থাকে, ক্ষমতার সঙ্গে যদি আত্মসংযম না থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা অনেক সময় মানুষের চরিত্রকে আলোকিত করার বদলে ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।শিক্ষিত আর দীক্ষিত, এই দুই শব্দের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য আছে। শিক্ষিত মানুষ জানেন কীভাবে একটি কাজ করতে হয়, আর দীক্ষিত মানুষ বোঝেন কোন কাজটি করা উচিত এবং কোন কাজটি করা উচিত নয়। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, দীক্ষা মানুষকে বিবেক দেয়। শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করে, দীক্ষা মানুষকে মানবিক করে। শিক্ষা মানুষকে ক্ষমতার কাছে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু দীক্ষা শেখায় সেই ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।একজন রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু রাস্তা, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ, অর্থনীতি কিংবা অবকাঠামো তৈরি করা নয়। রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ অন্য মানুষের অধিকারকে সম্মান করবে, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াবে, ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করবে না, ভিন্ন মতের মানুষকে শত্রু মনে করবে না এবং আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার না করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।একটি দেশের পতন শুধু অর্থনীতির পতন দিয়ে শুরু হয় না। একটি দেশের পতন শুরু হয় মানুষের বিবেকের পতন দিয়ে। যখন সত্যের চেয়ে মিথ্যা বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, যখন ন্যায়ের চেয়ে দলীয় পরিচয় বড় হয়ে যায়, যখন মানুষের জীবনের চেয়ে ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের ভিতরে একটি নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।তাই কোনো রাষ্ট্রনায়ক যদি সত্যিই সুদূরদৃষ্টিসম্পন্ন হন, তাহলে তার দায়িত্ব শুধু জনগণকে শিক্ষিত করা নয়, জনগণকে নৈতিকভাবে সচেতন করাও। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা দিয়ে শিক্ষিত মানুষ তৈরি করা যায়, কিন্তু পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, ন্যায়বোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের মাধ্যমে দীক্ষিত মানুষ তৈরি করতে হয়।আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই। আমরা শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু শিক্ষিত মানুষের সঙ্গে বিবেকবান মানুষ তৈরি করার কাজটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে করতে পারিনি। ফলে ডিগ্রি বেড়েছে, জ্ঞান বেড়েছে, প্রযুক্তি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা সবসময় সেই অনুপাতে বাড়েনি।ক্ষমতায় থাকা মানুষের দায়িত্ব এখানে আরও বেশি। কারণ একজন সাধারণ মানুষ ভুল করলে তার প্রভাব সীমিত থাকে, কিন্তু একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ভুল করলে তার প্রভাব পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, সমাজও ধীরে ধীরে সেই পথ অনুসরণ করে। আবার নেতৃত্ব যদি বিভাজন, প্রতিহিংসা, অহংকার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়, সেটিও সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।তাই আমি মনে করি, রাষ্ট্রনায়ককে প্রথমে নিজের ভেতরেই দীক্ষিত হতে হবে। ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না, ক্ষমতার ব্যবহারই মানুষকে বড় করে। একজন নেতা কত বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কতটি প্রকল্প করেছেন, কত বড় স্থাপনা তৈরি করেছেন, তার পাশাপাশি ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে, তিনি মানুষের চরিত্র কতটা উন্নত করেছিলেন, মানুষের মধ্যে কতটা সহনশীলতা তৈরি করেছিলেন, ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করেছিলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন একটি সমাজ রেখে গেছেন।বাংলাদেশের মানুষকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের বিবেকবান, মানবিক এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করা মানুষ, প্রত্যেকেই এই দেশের মানুষ। রাষ্ট্রের চোখে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান হওয়া উচিত। যে শিক্ষা মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায়, যে রাজনীতি মানুষকে ভিন্নমতের মানুষকে অমানুষ ভাবতে শেখায়, যে ক্ষমতা মানুষকে নিজের ভুল স্বীকার করতে দেয় না, সেই শিক্ষা এবং সেই ক্ষমতা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।কোনো একজন ব্যক্তির ওপর বাংলাদেশের সব ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ রাষ্ট্রের পতন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, আর রাষ্ট্রের উন্নতিও একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণ, প্রত্যেকেরই এখানে দায়িত্ব আছে।তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে যারা থাকেন, তাদের দায় অবশ্যই বেশি। কারণ তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। তাই তাদের কাছ থেকেই আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি।আমাদের এখন এমন বাংলাদেশ দরকার, যেখানে শুধু শিক্ষিত মানুষ নয়, দীক্ষিত মানুষও তৈরি হবে। এমন মানুষ, যে জানে তার অধিকার আছে, আবার অন্য মানুষেরও অধিকার আছে। এমন মানুষ, যে নিজের ধর্মকে ভালোবাসে, কিন্তু অন্যের ধর্মকে অপমান করে না। এমন মানুষ, যে দেশকে ভালোবাসে, কিন্তু দেশের ভুলকে ভুল বলতেও ভয় পায় না। এমন মানুষ, যে ক্ষমতাকে সম্মান করে, কিন্তু ক্ষমতার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সেতু, পদ্মা, ভবন কিংবা রাস্তাঘাট নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার মানুষ। মানুষ যদি নৈতিক হয়, সৎ হয়, মানবিক হয় এবং বিবেকবান হয়, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রও আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।তাই আজ আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কতজন শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছি, শুধু সেটা নয়। আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কতজন ভালো মানুষ তৈরি করেছি। কারণ শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী করতে পারে, কিন্তু দীক্ষাই মানুষকে মানুষ করে।

Read More »

বাংলাদেশে একসময় বলা হয়েছিল চাকরির বন্যা আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই জবের বন্যার পানি গেল কই।ইউনূস সরকারের সময়টা ছিল মাত্র প্রায় ১৮ মাস। এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৪৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, এতে প্রায় এক লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হলেও সেগুলোর বড় অংশ ছিল ছোট আকারের প্রতিষ্ঠান।২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্যও খুব একটা আশার কথা বলছে না। পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।এখন আমার প্রশ্ন খুব সহজ।যে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর কী হবে।যে শ্রমিকগুলো চাকরি হারিয়েছে, তারা আজ কীভাবে সংসার চালাচ্ছে।যে পরিবারে একজন মানুষ কারখানায় কাজ করে পাঁচজনের সংসার চালাতো, সেই মানুষটি চাকরি হারানোর পর তার পরিবারের দায়িত্ব কে নিচ্ছে।যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কোথায়।বিনিয়োগ কোথায়।নতুন শিল্প কোথায়।আর সবচেয়ে বড় কথা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে শুধু বেকারত্ব নিয়ে কথা বললে বেকারত্ব কমবে কীভাবে।বেকার মানুষকে শুধু উপদেশ দিয়ে কর্মসংস্থান দেওয়া যায় না। চাকরি তৈরি করতে হলে শিল্প চালু রাখতে হয়, বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হয়, ব্যাংক ঋণের পথ সহজ করতে হয়, বিদ্যুৎ গ্যাসের নিশ্চয়তা দিতে হয়, আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হয় এবং উদ্যোক্তাকে নিরাপদ পরিবেশ দিতে হয়।কারণ একটি কারখানা শুধু একটি ভবন নয়। একটি কারখানার ভেতরে শত শত পরিবারের রান্নার চুলা জ্বলে।একজন শ্রমিকের চাকরি হারানো মানে শুধু একজনের আয় বন্ধ হওয়া নয়, একটা পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া।তাই সরকার যে দলেরই হোক, আমার প্রশ্ন সরকারের কাছেই।চাকরির বন্যার প্রতিশ্রুতি যদি সত্যি হয়, তাহলে সেই বন্যার পানি আমরা দেখতে পাচ্ছি না কেন।আর যদি শিল্প প্রতিষ্ঠান একের পর এক বন্ধ হতে থাকে, তাহলে আগামী দিনের লাখ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে কোথায়।দেশের মানুষ রাজনৈতিক স্লোগান কম শুনতে চায়। মানুষ কাজ চায়, নিরাপদ আয় চায়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ চায়।কারণ খালি পেটে কোনো সংস্কার, কোনো স্লোগান, কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতাই মানুষের ঘরে শান্তি আনতে পারে না।

Read More »

পালের সাথে চলুন, নিরাপদ থাকুন

আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ওয়াইল্ড বিস্টের পাল যখন একসাথে থাকে, তখন তাদের নিরাপত্তা অনেকটাই বেড়ে যায়। শিকারিরা সাধারণত দুর্বল, অসুস্থ অথবা দল থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাণীকে সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। প্রকৃতির এই দৃশ্য আমাদের মানুষের সমাজের জন্যও একটা বড় শিক্ষা বহন করে।একজন মানুষ যখন একা হয়ে যায়, তখন তার বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কমে যায়। কিন্তু মানুষ যখন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তখন অন্যায়কারীর জন্য অন্যায় করা কঠিন হয়ে যায়। কারণ ঐক্য শুধু শক্তি দেয় না, ঐক্য মানুষের মনে সাহসও তৈরি করে।বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা যেন নিজেদের মধ্যে বিভক্ত না থাকে। তবে এই ঐক্য কোনোভাবেই অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। বরং হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাইকে নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে একসাথে দাঁড়াতে হবে।আজ যদি কোনো হিন্দু পরিবার আক্রান্ত হয়, মুসলমান প্রতিবেশীকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো মুসলমান পরিবার আক্রান্ত হলে হিন্দু প্রতিবেশীকেও তার পাশে দাঁড়াতে হবে। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ বিপদে পড়লেও একইভাবে সবাইকে পাশে দাঁড়াতে হবে।কারণ একজন মানুষকে রক্ষা করা মানে শুধু একজন মানুষকে রক্ষা করা নয়, নিজের সমাজের মানবিকতাকেও রক্ষা করা।রংপুরের সাহারপুরের মতো কোনো ঘটনায় যদি মানুষের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে অপরাধীর ধর্ম পরিচয় নয়, অপরাধটাই প্রধান বিষয়। তদন্ত সঠিকভাবে হতে হবে, সত্য বের করতে হবে, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা যাবে না এবং অপরাধী যে ধর্মেরই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।আমাদের মনে রাখতে হবে, বিচ্ছিন্ন মানুষকে ভয় দেখানো সহজ, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সমাজকে ভয় দেখানো কঠিন। তবে ঐক্য মানে কারও বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হওয়া নয়। ঐক্য মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হওয়া।হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক, খ্রিস্টান হোক, এই দেশ সবার। একজনের নিরাপত্তা নষ্ট হলে অন্যজনও নিরাপদ থাকে না।তাই দলবদ্ধ হই, কিন্তু বিদ্বেষের জন্য নয়। একত্রিত হই, কিন্তু প্রতিশোধের জন্য নয়। একসাথে দাঁড়াই, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।যে সমাজে মানুষ বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সেই সমাজকে সহজে ভেঙে দেওয়া যায় না।

পালের সাথে চলুন, নিরাপদ থাকুন Read More »

যে আম পাড়া হয়নি

আমার বাবা খুব দরিদ্র মানুষ ছিলেন। দারিদ্র্য কী জিনিস, সেটা বুঝে ওঠার বয়স তখন আমার হয়নি। কিন্তু এখন পেছনে ফিরে তাকালে বুঝি, বাবার জীবনটা ছিল নদীর মতো, কখনো নিজের জায়গায় স্থির থাকতে পারেনি। আমাদের পুরোনো বাড়ি ছিল গাঙের পাশে। শান্তির হাটের পশ্চিম দিকে যে গাঙটা ছিল, তার পাড়েই ছিল বাবাদের বাড়ি। বন্দে আলী ভূঁইয়া বাড়ি , দাদার বাড়ি। সেই বাড়ি, সেই উঠান, সেই মাটি, সবকিছু একদিন গাঙের পেটে চলে গেল। গাঙ ঘর নেয়, উঠান নেয়, গাছ নেয়, মানুষের স্মৃতিও নিয়ে যায়। বাবা মা আমাদের সবাইকে নিয়ে তখন উঠে এলেন জামালপুরে। নানার বাড়িতে। নানা আমাদের থাকার জন্য একটু জায়গা দিলেন। বাবা সেখানে একটা ঘর তুললেন। সেই ঘরেই আমরা থাকতে শুরু করলাম। যতদিন না অন্য জায়গায় একটু জমি কিনে নিজেদের একটা বাড়ি করা যায়, ততদিন সেই ঘরটাই ছিল আমাদের পৃথিবী। আমি তখন খুব ছোট। কত ছোট ছিলাম, সেটা আজ আর মনে নেই। বয়সের হিসাব হারিয়ে গেছে, কিন্তু কিছু কিছু দৃশ্য মানুষের স্মৃতিতে বয়সের চেয়েও বেশি শক্ত হয়ে বেঁচে থাকে। আমারও একটা দৃশ্য এখনো চোখের সামনে ভাসে। আমি তখন বাবার কোলে ছিলাম। বাবা আমাকে কোলে নিয়ে উঠানে হাঁটছিলেন। উঠানের একপাশে একটা আমগাছ ছিল। বাবা হঠাৎ আমাকে কোলে রেখেই আমগাছের দিকে গেলেন। গাছ থেকে একটা আম পাড়বেন, তারপর আমাকে দেবেন। কেন জানি না, সেই দৃশ্যটা আমার মনে গেঁথে আছে। বাবা আম পাড়তে গেলেন। ঠিক তখনই নানী শুরু করে দিলেন গালিগালাজ, চিৎকার চেঁচামেচি । বাবা সেদিকে তাকালেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মনোযোগ অন্যদিকে চলে গেল। আর সেই আমটা বাবা আমার জন্য আর পাড়লেন না। আমটা পাড়া হলো না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর পরও সেই আমটা আমার স্মৃতিতে পেকে আছে। জীবনে আমি কত আম খেয়েছি, কত মিষ্টি ফল খেয়েছি, কত ভালো ভালো খাবার খেয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু ছোটবেলায় বাবার হাতে পাড়া সেই আমটা, যেটা আসলে কোনোদিন আমার হাতে আসেনি, সেটাই আজও আমার মনে সবচেয়ে বেশি রয়ে গেছে। ছোটবেলায় ঘটনাটা হয়তো আমার কাছে ছিল একটা অপূর্ণতা। একটা ছোট্ট দুঃখ। একটা অদ্ভুত স্বপ্নের মতো স্মৃতি। কিন্তু এখন বড় হয়ে বুঝি, ওই আমটা শুধু একটা আম ছিল না। ওই আমের মধ্যে ছিল আমার বাবার দরিদ্র জীবন। ছিল আমাদের নদীভাঙা বাড়ি। ছিল গাঙের কাছে হারিয়ে যাওয়া শৈশব। ছিল নানার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া একটা পরিবার। ছিল বাবার সামান্য সামর্থ্যের মধ্যে সন্তানকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা। বাবা হয়তো সেদিন জানতেনই না, তাঁর পাড়া হয়নি যে আমটা, সেটা একদিন তাঁর সন্তানের স্মৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল আম হয়ে থাকবে। জীবন বড় অদ্ভুত। কিছু জিনিস আমরা পেয়েও ভুলে যাই। আর কিছু জিনিস কোনোদিন পাই না, অথচ সারাজীবন বুকের মধ্যে নিয়ে ঘুরি। আমার বাবার সেই আমটা আজও আমার কাছে তেমনই একটা আম। যে আম বাবা পাড়তে পারেননি, কিন্তু যেটা আমার শৈশবের উঠানে আজও ঝুলে আছে।

যে আম পাড়া হয়নি Read More »

Shopping Cart