Ecommerce/blog/news portal

গল্প

বন্ধুরা, আজ তোমাদের সঙ্গে আমার জীবনের এমন একটি গল্প শেয়ার করব, যে গল্পের শেষটা এখনো শেষ হয়নি। কারণ গল্পের মানুষটি আজও জানে না, কেন আমি তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। তার নাম জসিম। জসিম আর আমি শুধু বন্ধু ছিলাম না, আমরা ছিলাম ছোটবেলার দুই ছায়ার মতো। আমাদের বন্ধুত্বের শুরুটা কোনো বড় ঘটনা দিয়ে হয়নি। শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে, গ্রামের মক্তবের মাটির ঘর থেকে। সকালবেলা দুজন একসঙ্গে মক্তবে যেতাম। হাতে বই, মাথায় হাজারো দুষ্টুমি। পড়াশোনার চেয়ে পথের গল্পই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারপর প্রাইমারি স্কুলে উঠলাম। স্কুলেও আমরা একসঙ্গে যেতাম, একসঙ্গে ফিরতাম। কখনো গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাঁটতাম, কখনো মাঠের পাশে বসে গল্প করতাম, কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরতাম। ছোটবেলায় বন্ধুত্বের কোনো হিসাব থাকে না। কে কত টাকা খরচ করল, কে কার জন্য কী করল, কে কার কাছে কতটুকু ঋণী, এসব কিছুই তখন মাথায় থাকে না। থাকে শুধু একজন মানুষকে নিজের মানুষ মনে করার সরল বিশ্বাস। জসিম ছিল আমার সেই মানুষগুলোর একজন। সময় চলে গেল। আমরা বড় হলাম। প্রাইমারি স্কুল পেরিয়ে হাই স্কুলে উঠলাম। তবুও আমাদের বন্ধুত্বের দূরত্ব বাড়ল না। বরং মনে হতো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বটা আরো গভীর হচ্ছে। স্কুলে যাওয়ার সময় একসঙ্গে যেতাম, ফেরার সময়ও একসঙ্গে ফিরতাম। জীবনের ছোট বড় কত কথা যে আমরা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি, তার হিসাব হয়তো আজ বসে করলেও শেষ হবে না। তারপর জীবন আমাদের দুজনকে নিয়ে গেল দেশের বাইরে। দুজনেই বিদেশে এলাম। ভাগ্যের কী অদ্ভুত খেলা, একই জায়গায় কাজ করার সুযোগও হয়ে গেল। ওমানের আল বুরাইমি মার্কেটের সেই দিনগুলো আজও আমার চোখের সামনে ভাসে। সেই সময় জসিম একটি দোকানে চাকরি করত। একদিন সে আমাকে বলল, সে আর ওই দোকানে চাকরি করবে না। দোকানটির মালিক ছিলেন আবু আহাম্মদ। মানুষটি আমাদের গ্রামেরই। আমি তাকে বললাম, যদি সত্যিই চাকরি করতে না চাস, তাহলে ক্যানসেলে চলে যা। আমি চেষ্টা করে তোকে আবার ভিসায় নিয়ে আসব। সে চলে গেল। তারপর শুরু হলো আমার দৌড়ঝাঁপ। একজন মানুষের জন্য আরেকজন মানুষ কতদূর যেতে পারে, তখন হয়তো আমি নিজেও জানতাম না। কত মানুষের কাছে গিয়েছি, কত দরজায় কড়া নেড়েছি, কত ওমানির বাড়িতে গিয়েছি, কত অনুরোধ করেছি, তার কোনো হিসাব নেই। শেষ পর্যন্ত নিজের টাকা খরচ করে তার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করলাম। আমি তখন ভাবিনি, এই টাকা ফেরত পাব কি না। কারণ সে আমার বন্ধু। ছোটবেলার বন্ধু। যার সঙ্গে মক্তবের পথ ভাগ করেছি, স্কুলের পথ ভাগ করেছি, বিদেশের পথও ভাগ করেছি। কিন্তু সব সম্পর্কের মধ্যে এক সময় হিসাব ঢুকে যায়। ভিসার পুরো টাকা সে আমাকে ফেরত দেয়নি। কিছু টাকা বাকি রেখেছিল। তার ওপর একজনের কাছে প্রায় এক হাজার দিরহামের মতো টাকা আটকে গিয়েছিল, সেই টাকাটাও আমি ফেরত পাইনি। আমি তাকে বলেছিলাম, তুই তো আমার জন্য নয়, নিজের জন্য ভিসা নিয়েছিস। টাকা তোকে দিতেই হবে। সে বলেছিল, তুমি ভিসা কিনছো, তোমারে ওই লোক টাকা ফেরত না দিলে সেটা কি আমি দায়ী ? সেদিন কথাটা আমার মনে লেগেছিল। তবুও বন্ধুত্বের কাছে আমি হিসাবটা ছোট করে দেখলাম। মনে হলো, টাকা পয়সা তো জীবনে আসবে যাবে। বন্ধুত্বটা থাকুক। তারপর আমি তাকে আমার নিজের দোকানে কাজ দিলাম। শুধু চাকরি নয়, আমার নিজের পরিচিতি, আমার নিজের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, আমার নিজের বিশ্বাস, সবকিছুর দরজা তার জন্য খুলে দিলাম। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আমার নামে মাল নিত সে। আমার নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করত। নিজের ব্যবসা থেকে লাভ করত, আবার আমার দোকানে চাকরি করে বেতনও পেত। আমি তখন এসবকে সুযোগ দেওয়া মনে করিনি। আমি মনে করতাম, আমি আমার বন্ধুকে দাঁড় করাচ্ছি। কারণ মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের জন্য আমরা হিসাব করি না। মনে করি, আজ আমি পাশে দাঁড়ালাম, কাল সে আমার পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু জীবন মাঝে মাঝে মানুষকে এমন শিক্ষা দেয়, যার জন্য কোনো বই পড়তে হয় না। একদিন আমার নিজের ভাই রবির সঙ্গে আমার ঝগড়া হলো। ঝগড়া কখনো শুধু দুইজন মানুষের মধ্যে থাকে না। কখনো সেটা আশেপাশের মানুষগুলোকেও পরীক্ষা নেয়। আমার ভাই বিভিন্ন মানুষের কাছে গেল। আমার নামে বিচার দিল। বলল, দোকানটি আমার নয়, দোকানটি তার। বিচার বসল। আর সেই বিচারে আমি এমন এক অবস্থার মধ্যে পড়লাম, যা একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। বারো বছরের প্রতিষ্ঠান। বারো বছর ধরে গড়ে তোলা সম্পর্ক। আমার পরিচিত কাস্টমার। আমার পরিচিত কোম্পানি। আমার পরিশ্রম। আমার ঘাম। আমার জীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। সবকিছু যেন এক মুহূর্তে আমার হাত থেকে সরে যেতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, দোকানটি আমার ভাই রবিকে দিয়ে দেওয়া হবে। সেদিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে যেন ভেঙে পড়েছিলাম। একজন মানুষ যখন নিজের ঘর হারায়, তখন শুধু একটা ঘর হারায় না। সে তার পরিচিত পৃথিবীর একটা অংশ হারায়। আর আমি সেদিন শুধু দোকান হারাইনি। আমি কিছু মানুষকে চিনেছিলাম। সেদিন চারপাশে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু যাকে আমি নিজের মানুষ মনে করতাম, যাকে এত বছর বন্ধু বলে বুকে রেখেছিলাম, সেই জসিমকে আমি পাশে পেলাম না। আমি তার কাছে কোনো বড় বক্তৃতা চাইনি। আমি চাইনি সে আমার হয়ে কারও সঙ্গে যুদ্ধ করুক। আমি শুধু চেয়েছিলাম, সে পাশে দাঁড়াক। কখনো কখনো একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে তার সমস্যার সমাধান করে দেওয়া নয়। শুধু তার পাশে দাঁড়িয়ে বলা, ভাই, আমি আছি। এই দুটি শব্দই যথেষ্ট। কিন্তু সেদিন সেই মানুষটি ছিল না। সেদিন আমি প্রথম বুঝলাম, বন্ধুত্বের স্মৃতি আর বন্ধুত্বের পরীক্ষা এক জিনিস নয়। শৈশবে যে মানুষটি তোমার সঙ্গে গ্রামের রাস্তায় হাঁটত, সে বড় হয়ে তোমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাস্তায় তোমার সঙ্গে হাঁটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেদিন আমার ভেতরে একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেল। আমি জসিমের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। সে হয়তো বুঝতেই পারেনি কেন। সে অনেকবার আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমাদের বাড়িতে গেছে। আমার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছে। এমনকি পরিবারকে দাওয়াতও দিয়েছে। কিন্তু আমি আর ফিরে যাইনি। কারণ আমার কাছে বিষয়টি দোকানের ছিল না। টাকারও ছিল না। ভিসার টাকারও ছিল না। বিষয়টি ছিল বিশ্বাসের। যে মানুষকে আমি নিজের মানুষ ভেবেছিলাম, আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তার অনুপস্থিতিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জসিম আজও হয়তো ভাবছে, আমি কেন তার সঙ্গে কথা বলি না। হয়তো সে মনে করে, আমি অহংকারী হয়ে গেছি। হয়তো মনে করে, কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমি রাগ করে আছি। হয়তো সে জানেই না, মানুষের হৃদয়ে কিছু দরজা আছে, যেগুলো ভাঙলে শব্দ হয় না। শুধু দরজাটা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। আমার জীবনে জসিমের সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিগুলো কিন্তু আমি মুছে ফেলিনি। মক্তবের সেই সকালগুলো আজও মনে আছে। স্কুলে যাওয়ার সেই পথগুলো আজও মনে আছে। গ্রামের রাস্তায় হাঁটার সেই দিনগুলো

গল্প Read More »

রাহুর প্রভাবে জীবনের পরিবর্তন

আমি একজন লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং দীর্ঘদিনের জ্যোতিষ ও নিউমেরোলজি-চর্চাকারী হিসেবে মানুষের জীবন, আচরণ এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রহ-নক্ষত্র ও সংখ্যার প্রতীকী সম্পর্ককে নিজের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করি। আমার পর্যবেক্ষণে রাহু এমন একটি শক্তি, যাকে শুধু জন্মছকের কোনো একটি ঘরে বসিয়ে বিচার করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না। রাহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ক্ষেত্র হলো মানুষের মুখ, কথা এবং জিহ্বা। কারণ মুখ দিয়েই মানুষ নিজের চিন্তা প্রকাশ করে, প্রতিশ্রুতি দেয়, মানুষকে বিশ্বাস করায়, আবার কখনো নিজের কথার কারণেই নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনে।জ্যোতিষের এই প্রতীকী ব্যাখ্যা থেকে আমি মনে করি, মুখের রাহু যখন অশুভভাবে সক্রিয় হয়, তখন মানুষের কথাবার্তাতেও তার ছাপ পড়তে পারে। কথায় অসংযম আসে, অতিরঞ্জন বাড়ে, এমন কথা বলা হয় যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না। কখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যা পরে রাখা সম্ভব হয় না। কখনো নিজের ভুল স্বীকার না করে কথার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। আর একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত থাকলেও, একজন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এই সমস্যার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।যেমন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনার মুখের ভাষাই পতনের অন্যতম কারণ ছিল।বর্তমানে নতুন সরকারে ও অনেকেই আছেন যাদের রাহুর দশা চলছে এবং তাঁদের ও পতন নিশ্চিত।কারণ রাজনীতিতে কথাই একটি বড় অস্ত্র। একজন রাজনৈতিক নেতা একটি বক্তব্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, আবার একটি ভুল বক্তব্য দিয়েই নিজের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে পারেন। মুখের রাহু খারাপ হলে আমার জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—মানুষ নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। কখন কী বলা উচিত, কী বলা উচিত নয়, কোথায় নীরব থাকা প্রয়োজন এই বোধটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।রাজনীতিতে এর ফল ভয়ংকর হতে পারে। একজন নেতা একদিন যে কথা বলেন, পরদিন তার সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলে ফেলতে পারেন। একসময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে অস্বীকার করতে পারেন। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও এমন কথা বলে ফেলতে পারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয় এই নেতার কোন কথাটি সত্য?রাহুর আরেকটি বড় সমস্যা হলো কথা দিয়ে বাস্তবতাকে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা। রাজনৈতিক জীবনে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য দিয়ে প্রভাবিত করা সম্ভব হলেও, বাস্তবতাকে দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, মানুষের জীবনযাত্রা এসব বাস্তব বিষয় কোনো বক্তব্য দিয়ে চিরদিন আড়াল করা যায় না।মুখের রাহু যখন রাজনৈতিক জীবনে নেতিবাচকভাবে প্রকাশ পায়, তখন কথার মধ্যে অতিরিক্ত অহংকার, আক্রমণাত্মক ভাষা, অপমানজনক বক্তব্য, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এবং প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। (আম্মার, আয়াস, মুসাদ্দেক ইত্যাদি )!নেতা হয়তো ভাবতে পারেন তিনি শক্তিশালী ভাষায় কথা বলে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন।কিন্তু বাস্তবে সেই ভাষাই ধীরে ধীরে মানুষের বিরক্তি ও অনাস্থার কারণ হয়ে উঠতে পারে।আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মুখ শুধু কথা বলার জায়গা নয়, রাজনৈতিক চরিত্র প্রকাশেরও জায়গা। একজন মানুষ কীভাবে কথা বলেন, বিরোধীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, নিজের ভুল নিয়ে কী বলেন,এসবের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক মানসিকতা প্রকাশ পায়।আমার জ্যোতিষ ও নিউমেরোলজির পর্যবেক্ষণে, রাহুর নেতিবাচক প্রভাব শুধু মিথ্যা বলা বা ভুল কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর বড় একটি দিক হলো বিভ্রম সৃষ্টি করা। অর্থাৎ এমনভাবে কথা বলা, যাতে মানুষ মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে অন্য কোনো বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রবণতা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসা, নিজের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অন্যের ব্যর্থতার কথা বলা, কিংবা জনগণের মূল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।এসবকেও রাহুর প্রতীকী ছায়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়।আর রাহু যখন অহংকারের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তখন একজন রাজনৈতিক নেতা মনে করতে পারেন।তিনি যা বলবেন সেটিই সত্য, তার কথার বিরোধিতা করার অধিকার কারও নেই। সমালোচনা শুনতে না চাওয়া, নিজের ভুল স্বীকার না করা এবং সবসময় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা ধীরে ধীরে তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।এখানেই রাহুর সবচেয়ে ভয়ংকর রাজনৈতিক দিকটি দেখা যায়। মুখের রাহু প্রথমে কথাকে নষ্ট করে, তারপর কথার বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে, আর শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থাকে নষ্ট করতে পারে। আর রাজনীতিতে জনগণের আস্থা হারানোর চেয়ে বড় বিপদ খুব কমই আছে।একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য তাই শুধু ভালো বক্তা হওয়া যথেষ্ট নয়; তাকে কথার দায়িত্বও বুঝতে হয়। কারণ একজন সাধারণ মানুষ নিজের মুখের একটি ভুল কথার জন্য হয়তো কয়েকজন মানুষের কাছে বিব্রত হন। কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক বা বড় রাজনৈতিক নেতা ভুল কথা বললে তার প্রভাব পড়ে হাজার, লাখ কিংবা কোটি মানুষের ওপর।আমি একজন লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে মনে করি, রাজনীতিতে কথার স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি কথার দায়িত্বও প্রয়োজন। আর একজন অ্যাস্ট্রোলজি ও নিউমেরোলজি-চর্চাকারী হিসেবে আমার প্রতীকী পাঠ হলো—রাহুর শক্তি যখন মুখ ও জিহ্বার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তার নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ।রাহু মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারে।খ্যাতি, পরিচিতি, ক্ষমতা, প্রভাব, মানুষের মনোযোগ। কিন্তু সেই একই রাহু যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে মানুষ নিজের মুখ দিয়েই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ তৈরি করতে পারে। নিজের বক্তব্যই একসময় তার রাজনৈতিক জীবনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাই আমার দৃষ্টিতে রাজনীতিতে রাহুর সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো—কথা বলার আগে ভাবুন, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে হিসাব করুন, কাউকে অপমান করার আগে পরিণতি ভাবুন এবং জনগণকে কিছু বলার আগে নিজের কথার সত্যতা যাচাই করুন।কারণ রাজনীতিতে ক্ষমতা হারানোর আগে অনেক সময় মানুষ বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। আর বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে গেলে ক্ষমতা থাকলেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা ধরে রাখা কঠিন।

রাহুর প্রভাবে জীবনের পরিবর্তন Read More »

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কি কোনো বিদেশি শক্তির নেপথ্য প্রভাব কাজ করছে?বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বারবার ‘যাবেন কি যাবেন না’ ধরনের অনিশ্চয়তা, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর কথিত পরিবর্তন এবং সমাজে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী বয়ান সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।কিছু বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্ন নয় এটি সরাসরি বাংলাদেশের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।ভারতের নীতির সমালোচনা করা বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্ক যেকোনো বিষয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতেই পারে।কিন্তু প্রশ্ন হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ, শিক্ষার্থী থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর একই ধরনের ভারত-বিরোধী বয়ান যদি ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর পেছনে কোনো সমন্বিত প্রচারণা আছে কি না, সেটি কি রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচাই করা কি হয়েছে?এখানে আবেগ নয় প্রয়োজন প্রমাণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও স্বচ্ছ তদন্ত।বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রয়েছে।তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিতকোনো দেশের পক্ষে নয়,কোনো দেশের বিপক্ষে নয়সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থে।যদি কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, ভারত-বিরোধী উত্তেজনা কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সেটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির হাতে নির্ভরশীল হতে পারে না।ভারতকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।পাকিস্তানকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।চীন, আমেরিকা বা অন্য কোনো শক্তির অন্ধ অনুসরণও নয়।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ঢাকার মাটিতে বসেই নেওয়া হচ্ছে, নাকি কোথাও কোনো অদৃশ্য হাত কলকাঠি নাড়ছে?এই প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়তথ্য, প্রমাণ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে আসা উচিত।— মোকতার আল নূরPolitical Columnist | Online Activist

Read More »

মৃণাল কান্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছিল একটি ছেলে , তা ইতোমধ্যে মানুষের সামনে এসেছে। প্রশ্ন হলো—সে কি এখনও সেই দলের সঙ্গে যুক্ত?রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে, তীব্র বিরোধিতাও থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে কাউকে নিয়ে নোংরা, অশ্রাব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করার অধিকার কেউ পেতে পারে না।একজন রাজনৈতিক কর্মী যখন প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখন বিষয়টি শুধু তার ব্যক্তিগত চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি যদি কোনো দলের পরিচয়ে রাজনীতি করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সেই দল কি তার বক্তব্য ও আচরণের দায় এড়িয়ে যেতে পারে?দলের নীতি-নৈতিকতা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ মানুষের সম্মান নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ রাজনীতি শুধু ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা নয়; রাজনীতি মানুষের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা, শালীনতা ও দায়িত্ববোধেরও নাম।আমরা রাজনৈতিক বিতর্ক চাই, যুক্তি চাই, কঠিন সমালোচনাও চাই। কিন্তু গালাগালি, কুরুচিপূর্ণ ভাষা, ব্যক্তিগত অপমান এবং রাজনৈতিক অসভ্যতাকে রাজনীতির স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে দেখতে চাই না।কোনো দলের কর্মী যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সেই দলের নেতৃত্বেরও দায়িত্ব আছে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে মোকাবিলা করার।রাজনীতিতে মতের যুদ্ধ হোক—কিন্তু ভাষার নোংরামি নয়।

Read More »

রাষ্ট্রনায়ক

দেশ চালানো কোনো আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শুধু জনপ্রিয়তা, বক্তৃতার দক্ষতা কিংবা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার যোগ্যতাই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা।একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জনগণ যাকে চাইবে, তাকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়া আর একটি জটিল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা এক বিষয় নয়।একটি দেশ চালাতে হলে জানতে হয় রাজনীতি, বুঝতে হয় অর্থনীতি, সমাজনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং নিরাপত্তার জটিল সমীকরণ। জানতে হয় দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজারব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো। একই সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিবর্তনও বুঝতে হয়।কারণ আজকের পৃথিবীতে কোনো রাষ্ট্রই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে না।তাই একজন নির্বাচিত নেতা সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের অন্যতম বড় গুণ হলো তিনি জানবেন, কোন বিষয়ে কার জ্ঞান ও দক্ষতা সবচেয়ে বেশি এবং প্রয়োজনের সময় সেই জ্ঞানকে কীভাবে রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে হয়।সেখানেই আসে দক্ষ ও জ্ঞানী উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয়তা।রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন মানুষদের পাশে থাকা জরুরি, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ, সৎ, দূরদর্শী এবং বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। অর্থনীতির জন্য অর্থনীতিবিদ, পররাষ্ট্রনীতির জন্য কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বোঝেন এমন মানুষ, আইন ও বিচারব্যবস্থার জন্য যোগ্য আইনজ্ঞ, প্রশাসনের জন্য অভিজ্ঞ প্রশাসক, নিরাপত্তার জন্য দক্ষ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অর্থাৎ রাষ্ট্রের জটিল সমস্যাগুলোকে যোগ্য মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।কারণ একজন নেতার চারপাশে যদি শুধু তোষামোদকারী মানুষ থাকে, তাহলে তিনি ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। কিন্তু যদি তাঁর পাশে এমন মানুষ থাকেন যারা প্রয়োজনের সময় সত্য কথা বলতে পারেন, ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তুলে ধরতে পারেন এবং যুক্তি দিয়ে বিকল্প পথ দেখাতে পারেন তাহলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলোও হবে অধিকতর বাস্তবসম্মত ও টেকসই।গণতন্ত্র মানে শুধু ভোটে জেতা নয়।গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য হলো জনগণের রায়কে সম্মান করে দক্ষতা, জ্ঞান ও যোগ্যতার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।তাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যার হাতেই আসুক, তাঁর উচিত নিজের চারপাশে যোগ্য মানুষদের জায়গা দেওয়া। রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতা, ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং তোষামোদের চেয়ে সত্য ও যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।কারণ একটি রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ। আর কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে জ্ঞান, জনপ্রিয়তার চেয়ে যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কের পরিচয়।

রাষ্ট্রনায়ক Read More »

বাংলাদেশে আবারো জঙ্গীবাদের উথান

দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা ইস্যুতে জনআলোচনা যখন ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, জঙ্গিরা বড় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রীর আড়ালে বিস্ফোরক বহন বা সংরক্ষণের কৌশল ব্যবহারের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি সাভার এলাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিটের একটি অভিযানে কথিত জঙ্গি আস্তানা থেকে IED বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের উৎস, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্য কোনো নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এর আগে বরিশালের একটি আদালতে বোমা হামলা এবং মেট্রোরেল এলাকায় ছাতা-সদৃশ বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীকে বিস্ফোরক বহন বা লুকিয়ে রাখার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিতে পারে।ছাতা, রাইস কুকার, টিফিন ক্যারিয়ার ও ফ্লাস্কের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ ধরনের কৌশল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও বাড়তি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বড় আকারের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ছোট গ্রুপ বা ‘স্কেলেটন গ্রুপ’ হিসেবে জঙ্গিদের ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।এছাড়া অপরিচিত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করা এবং স্থানীয়দের নজর এড়িয়ে চলার কৌশলও তারা অনুসরণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে কোনো ব্যক্তি বা ভাড়াটিয়ার অপরিচিত হওয়াকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।সাম্প্রতিক ছোট আকারের হামলা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাগুলো জঙ্গিদের সম্ভাব্য ‘টেস্ট কেস’ কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ছোট আকারের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাই করার চেষ্টা করতে পারে।তবে এসব ঘটনাকে একটি সমন্বিত জঙ্গি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণ সামনে আসা প্রয়োজন।অন্যদিকে, কোনো কোনো জঙ্গিবিরোধী অভিযানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযান সত্যিকার অর্থে সঠিক ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা উচিত তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। একইভাবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করাও উচিত নয়।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যাচাইহীন তথ্য, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।জঙ্গি তৎপরতার সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, সংগঠনের কাঠামো এবং সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শনাক্ত করার ওপর নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে।কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া উগ্রবাদে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় কোনো নিষিদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক বা মালিকবিহীন কোনো বস্তু না ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রাস্তা, গণপরিবহন, স্টেশন, আদালত বা জনসমাগমস্থলে কোনো অস্বাভাবিক ব্যাগ, বাক্স, ছাতা বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ বা সরানোর পরিবর্তে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সত্যিই কোনো নতুন জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকিকে অবহেলা না করে আগেভাগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।তাদের মতে, জঙ্গি নেটওয়ার্ক বড় আকার ধারণ করার আগেই এর অর্থায়ন, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।Moktaar L Nn

বাংলাদেশে আবারো জঙ্গীবাদের উথান Read More »

Unveiling the New Season: Your Ultimate

Step into the world of effortless style and discover why Only Shop is the must-visit destination for fashion-forward individuals. In this post, we explore the latest collections, decode the season’s hottest trends, and show you how to curate a wardrobe that is uniquely you. From versatile denim to chic statement pieces, get ready to elevate your everyday look with our exclusive insights and style tips. Don’t just follow trends; set them. Read on to find your new favorite outfit! Step into the world of effortless style and discover why Only Shop is the must-visit destination for fashion-forward individuals. In this post, we explore the latest collections, decode the season’s hottest trends, and show you how to curate a wardrobe that is uniquely you. From versatile denim to chic statement pieces, get ready to elevate your everyday look with our exclusive insights and style tips. Don’t just follow trends; set them. Read on to find your new favorite outfit!

Unveiling the New Season: Your Ultimate Read More »

Shopping Cart