Ecommerce/blog/news portal

moktaar

Welcome to Moktaar Innoor! We are dedicated to providing high-quality products and exceptional customer service. Our mission is to deliver the best shopping experience to our valued customers across the UAE and beyond. With a passion for excellence and a commitment to customer satisfaction, we strive to offer premium products at competitive prices. Our team works tirelessly to ensure every order is handled with care and delivered promptly. We believe in building long-lasting relationships with our customers based on trust and reliability. Thank you for choosing Moktaar Innoor — your satisfaction is our greatest reward. Shop with confidence

শিক্ষিত এবং দীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ক দরকার

শিক্ষিত জাতি হলেই হয় না, দীক্ষিত জাতিও হতে হয় একজন মানুষ শিক্ষিত হতে পারেন, অনেক ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন, দেশের উন্নয়ন করতে পারেন, কিন্তু শুধু শিক্ষিত হলেই একজন মানুষ সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠেন না। শিক্ষার সঙ্গে যদি নৈতিকতা না থাকে, জ্ঞানের সঙ্গে যদি বিবেক না থাকে, ক্ষমতার সঙ্গে যদি আত্মসংযম না থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা অনেক সময় মানুষের চরিত্রকে আলোকিত করার বদলে ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষিত আর দীক্ষিত, এই দুই শব্দের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য আছে। শিক্ষিত মানুষ জানেন কীভাবে একটি কাজ করতে হয়, আর দীক্ষিত মানুষ বোঝেন কোন কাজটি করা উচিত এবং কোন কাজটি করা উচিত নয়। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, দীক্ষা মানুষকে বিবেক দেয়। শিক্ষা মানুষকে দক্ষ করে, দীক্ষা মানুষকে মানবিক করে। শিক্ষা মানুষকে ক্ষমতার কাছে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু দীক্ষা শেখায় সেই ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। একজন রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু রাস্তা, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ, অর্থনীতি কিংবা অবকাঠামো তৈরি করা নয়। রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ অন্য মানুষের অধিকারকে সম্মান করবে, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াবে, ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করবে না, ভিন্ন মতের মানুষকে শত্রু মনে করবে না এবং আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার না করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। একটি দেশের পতন শুধু অর্থনীতির পতন দিয়ে শুরু হয় না। একটি দেশের পতন শুরু হয় মানুষের বিবেকের পতন দিয়ে। যখন সত্যের চেয়ে মিথ্যা বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, যখন ন্যায়ের চেয়ে দলীয় পরিচয় বড় হয়ে যায়, যখন মানুষের জীবনের চেয়ে ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের ভিতরে একটি নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তাই কোনো রাষ্ট্রনায়ক যদি সত্যিই সুদূরদৃষ্টিসম্পন্ন হন, তাহলে তার দায়িত্ব শুধু জনগণকে শিক্ষিত করা নয়, জনগণকে নৈতিকভাবে সচেতন করাও। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা দিয়ে শিক্ষিত মানুষ তৈরি করা যায়, কিন্তু পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, ন্যায়বোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের মাধ্যমে দীক্ষিত মানুষ তৈরি করতে হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই। আমরা শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু শিক্ষিত মানুষের সঙ্গে বিবেকবান মানুষ তৈরি করার কাজটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে করতে পারিনি। ফলে ডিগ্রি বেড়েছে, জ্ঞান বেড়েছে, প্রযুক্তি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা সবসময় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ক্ষমতায় থাকা মানুষের দায়িত্ব এখানে আরও বেশি। কারণ একজন সাধারণ মানুষ ভুল করলে তার প্রভাব সীমিত থাকে, কিন্তু একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি ভুল করলে তার প্রভাব পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, সমাজও ধীরে ধীরে সেই পথ অনুসরণ করে। আবার নেতৃত্ব যদি বিভাজন, প্রতিহিংসা, অহংকার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়, সেটিও সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আমি মনে করি, রাষ্ট্রনায়ককে প্রথমে নিজের ভেতরেই দীক্ষিত হতে হবে। ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না, ক্ষমতার ব্যবহারই মানুষকে বড় করে। একজন নেতা কত বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কতটি প্রকল্প করেছেন, কত বড় স্থাপনা তৈরি করেছেন, তার পাশাপাশি ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে, তিনি মানুষের চরিত্র কতটা উন্নত করেছিলেন, মানুষের মধ্যে কতটা সহনশীলতা তৈরি করেছিলেন, ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করেছিলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন একটি সমাজ রেখে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের বিবেকবান, মানবিক এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করা মানুষ, প্রত্যেকেই এই দেশের মানুষ। রাষ্ট্রের চোখে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান হওয়া উচিত। যে শিক্ষা মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায়, যে রাজনীতি মানুষকে ভিন্নমতের মানুষকে অমানুষ ভাবতে শেখায়, যে ক্ষমতা মানুষকে নিজের ভুল স্বীকার করতে দেয় না, সেই শিক্ষা এবং সেই ক্ষমতা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। কোনো একজন ব্যক্তির ওপর বাংলাদেশের সব ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ রাষ্ট্রের পতন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, আর রাষ্ট্রের উন্নতিও একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা, পরিবার, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণ, প্রত্যেকেরই এখানে দায়িত্ব আছে। তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে যারা থাকেন, তাদের দায় অবশ্যই বেশি। কারণ তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। তাই তাদের কাছ থেকেই আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। আমাদের এখন এমন বাংলাদেশ দরকার, যেখানে শুধু শিক্ষিত মানুষ নয়, দীক্ষিত মানুষও তৈরি হবে। এমন মানুষ, যে জানে তার অধিকার আছে, আবার অন্য মানুষেরও অধিকার আছে। এমন মানুষ, যে নিজের ধর্মকে ভালোবাসে, কিন্তু অন্যের ধর্মকে অপমান করে না। এমন মানুষ, যে দেশকে ভালোবাসে, কিন্তু দেশের ভুলকে ভুল বলতেও ভয় পায় না। এমন মানুষ, যে ক্ষমতাকে সম্মান করে, কিন্তু ক্ষমতার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সেতু, পদ্মা, ভবন কিংবা রাস্তাঘাট নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার মানুষ। মানুষ যদি নৈতিক হয়, সৎ হয়, মানবিক হয় এবং বিবেকবান হয়, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রও আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাই আজ আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কতজন শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছি, শুধু সেটা নয়। আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কতজন ভালো মানুষ তৈরি করেছি। কারণ শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী করতে পারে, কিন্তু দীক্ষাই মানুষকে মানুষ করে।

শিক্ষিত এবং দীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ক দরকার Read More »

পলাশ চন্দ্র দে। আমার বন্ধু

আমাদের গ্রামখানি যেন প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া এক টুকরো স্বর্গ। গ্রামের পূর্ব দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ পাহাড়, যার গায়ে সকালের রোদ পড়লে সোনার মতো ঝিলমিল করে ওঠে। ছোটবেলায় আমরা দল বেঁধে সেই পাহাড়ে যেতাম কাঠ কাটতে। কাঁধে দা, নিয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠতাম, পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর পাখির ডাকে মন ভরে যেত। কাঠ কেটে বোঝা বাঁধতাম, তারপর ঘামে ভেজা গায়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরতাম। বর্ষাকাল এলে আমাদের গ্রামের রূপ পাল্টে যেত সম্পূর্ণ। মাঠঘাট জলে ভরে যেত, খাল-বিল একাকার হয়ে যেত চারদিকে। তখন আমরা মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়তাম । কই, শিং, মাগুর, পুঁটি মাছে ভরে যেত আমাদের ডালা। কাদামাখা শরীরে, ভেজা কাপড়ে বাড়ি ফেরার সেই আনন্দ আজও ভুলিনি। সন্ধ্যা নামলে গ্রামের ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত প্রদীপ। তখন বিদ্যুৎ ছিলো না।, দূর থেকে ভেসে আসত রাখালের বাঁশির সুর।আর শিয়ালের হুক্কা হুয়া ডাক।এমনি করে পাহাড়, ছোট নদী, মাঠ, আর সহজ-সরল মানুষের ভালোবাসায় গড়া আমাদের গ্রাম আজও আমার স্মৃতির গভীরে অমলিন হয়ে আছে। মেহেদিনগরেই আমার ছোটবেলা কেটেছে। আর এই মেহেদিনগরেই আমার একজন বন্ধু ছিল।তার নাম পলাশ। পলাশ কে এখন মনে করলে প্রথমেই যে জিনিসটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেটা হলো একটা ফুটফুটে সুন্দর ছেলে। চেহারায় একটা অদ্ভুত মায়া ছিল। চুলগুলো ছিল কোকড়ানো। ছোটবেলায় তার মা যখন চুল আঁচড়ে দিতেন, তখন চুলগুলো পুরোপুরি বশ মানত না। একটু পরেই আবার কোকড়ানো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত।মায়ের কাছে পলাশ ছিল আদরের ছেলে। বাবার কাছেও। বাড়ির সবার চোখের মণি ছিল সে। আমাদের বন্ধুত্বটা খুব বড় কোনো ঘটনা দিয়ে শুরু হয়নি । আমরা একসঙ্গে স্কুলে পড়তাম। পাশাপাশি বসতাম। একসঙ্গে পড়তাম। একসঙ্গে হাসতাম। কখনো অঙ্ক বুঝতে না পারলে একজন আরেকজনকে বুঝিয়ে দিতাম।হারাধন স্যারের কাছে আমরা দুজন অঙ্ক পড়তাম।হারাধন স্যার অঙ্ক খুব সুন্দর করে বুঝাতেন। তার পড়ানোর মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ ছিল। কঠিন অঙ্কও তিনি এমনভাবে বুঝাতেন, মনে হতো অঙ্ক আসলে কঠিন কোনো জিনিস না। শুধু ঠিক জায়গাটা বুঝে ফেলতে হয়।পলাশ অঙ্কে খুব ভালো ছিল।আসলে ভালো বললে কম বলা হয়। অঙ্কের ওপর তার একটা আলাদা দখল ছিল। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোও খুব ভালো বুঝত। আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম, এই ছেলেটা যদি ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে, অনেক দূর যাবে। এসএসসিতে আমরা দুজনেই ভালো করলাম। তারপর দুজনেই নিজামপুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হলাম।সেই সময় আমাদের জীবনটা ছিল খুব সুন্দর।দুজনেই কলেজের হোস্টেলে রুম নিলাম। একই রুমে থাকতাম। একই মেসে খাওয়া দাওয়া করতাম। দিনের বেশিরভাগ সময় একসঙ্গে কাটত।পলাশ বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হলো।আমি বিজ্ঞান থেকে ভালো ফল করেও আর্টসে ভর্তি হলাম। আমার জীবনে তখন একটা অদ্ভুত শূন্যতা ছিল। কে আমাকে কোন পথে যেতে হবে সেটা বলবে, এমন কেউ ছিল না। পড়াশোনায় আমি খারাপ ছিলাম না। বরং নিজের প্রতি একটু বেশি বিশ্বাস ছিল। কিন্তু জীবনের পথ দেখানোর মতো কোনো গাইড ছিল না।কখনো কখনো একটা ছেলে খুব মেধাবী হয়েও শুধু পথ দেখানোর অভাবে অন্যদিকে চলে যায়।আমার জীবনেও হয়তো তেমন কিছু হয়েছিল। কিন্তু পলাশ বিজ্ঞানেই রয়ে গেল।হোস্টেলের সেই ছোট্ট রুমটা এখনো মাঝে মাঝে আমার মনে পড়ে।দুজনের বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একটা খাটে কাপড়। টেবিলের ওপর খাতা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে কলেজের মাঠ দেখা যায়।রাতে পড়তে পড়তে কখন যে ঘুম চলে আসত, বুঝতাম না।সকালে একজন আরেকজনকে ডাকতাম।এই ওঠ।ক্লাস আছে।আরেকটু ঘুমাই।আরে বেটা,আরেকটু ঘুমালে স্যার তোরে উঠায় দিবে।এই ছিল আমাদের জীবন। বাড়িতে যাওয়ার আগে বলত, তোর বাড়িতে কোনো খবর দেয়া লাগবে?কখনো পলাশ বাড়িতে যেত।সে বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের কাছে আমার খবর দিত।আবার আমি যখন বাড়িতে আসতাম, তাকে হোস্টেলে রেখে তার বাড়িতে গিয়ে খবর দিতাম।এই ছোট ছোট কাজগুলো তখন আমাদের কাছে কোনো বিশেষ ব্যাপার ছিল না।বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক সম্ভবত এটাই। তখন বোঝা যায় না, কোন স্মৃতিটা একদিন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে দাঁড়াবে।পলাশের বাড়িতে আমার যাতায়াত ছিল।তার মা আমাকে খুব পছন্দ করতেন।আমি তাকে মাসিমা বলে ডাকতাম।মাসিমা আমাকে দেখলেই খুব আদর করতেন।কখনো লাড্ডু দিতেন।আমি লাড্ডু খেতাম আর ভাবতাম, এই বাড়িতে আসলে আমার নিজের বাড়ির মতোই লাগে।পলাশের বোনও আমাকে খুব শ্রদ্ধা করত। বড় ভাইয়ের বন্ধু হিসেবে আমার প্রতি তার একটা আলাদা সম্মান ছিল। পলাশ ও আমাদের বাড়িতে আসত।আমার বাবার অসুখ বিসুখ হলে সে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে আসত। কখনো ইঞ্জেকশন নিয়ে আসত। কখনো স্যালাইন নিয়ে আসত।তখন বুঝিনি, বন্ধুত্বের অর্থ অনেক সময় বড় বড় কথা নয়।বন্ধুত্ব মানে হতে পারে, একজন অসুস্থ মানুষের জন্য ওষুধ নিয়ে বাড়িতে চলে আসা।বন্ধুত্ব মানে হতে পারে, বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তার বাবার পাশে দাঁড়ানো।বন্ধুত্ব মানে হতে পারে, বন্ধুর মা তোমাকে লাড্ডু দিলে নিজের মায়ের মতো করে সেই লাড্ডু খেয়ে ফেলা।পলাশ এমনই একজন বন্ধু ছিল। তারপর জীবন বদলাতে শুরু করল।পলাশের পড়াশোনা আর বেশি দূর এগোতে পারল না।ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়ল।তারপর সংসারের চাপ এসে তার সামনে দাঁড়াল। বোনের বিয়ে। পারিবারিক দায়িত্ব।টাকার অভাব। আর তার ওপর বাবার মৃত্যু। বাবা মারা যাওয়ার পর ওর ওপর দায়িত্ব যেন এক লাফে অনেক গুণ বেড়ে গেল। একটা ছেলে তখন আর শুধু ছেলে থাকে না।সে হয়ে যায় পরিবারের ভরসা।মায়ের ভরসা।বোনের ভরসা।ঘরের ভরসা।নিজের স্বপ্ন তখন অনেক সময় নিজের কাছেই ছোট হয়ে যায়। পলাশ ও হয়তো নিজের স্বপ্নগুলো এক এক করে সরিয়ে রাখছিল।তারপর সে ফার্মেসির কাজে ঢুকে গেল।মেহেদিনগর রোডে তাদের ফার্মেসি ছিল।তার বাবা আগে ফার্মেসি চালাতেন। পরে পলাশ সেখানে বসত।ফার্মেসিটা ভালোই চলত।গ্রামের মানুষ তাকে চিনত।কেউ ওষুধ নিতে আসত।কেউ অসুখের কথা বলত।কেউ পরামর্শ চাইত।পলাশ ধৈর্য ধরে সবার কথা শুনত।তার স্বভাবটাই এমন ছিল।মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতে পারত।আমার তখন বিদেশ নিয়ে অনেক ব্যস্ততা ছিল।এই অংশটা আজ আর বলব না।কারণ কিছু গল্পের কিছু দরজা পরে খুলতে হয়।আজ শুধু এতটুকুই থাক।আমি দূরে ছিলাম।ও মেহেদিনগরে ছিল।ফার্মেসিতে বসত।সংসার করত।মায়ের দেখাশোনা করত।নিজের মতো করে জীবন চালানোর চেষ্টা করত। তারপর একদিন খবর পেলাম, ওর জীবনে ভালো সময় নেই।ধার হয়েছে।অনেক ধার।গ্রামের অনেক মানুষের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছিল।সম্ভবত সব ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি।মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া খুব সহজ।ফেরত দেওয়াটা কঠিন।আর টাকা ফেরত দিতে না পারলে মানুষ শুধু টাকা হারায় না, নিজের মুখটাও হারাতে শুরু করে।একসময় নিজের গ্রামের রাস্তায় হাঁটাও কঠিন হয়ে যায়।কারণ পরিচিত প্রতিটি মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, এই মানুষটার কাছ থেকে তো টাকা নিয়েছি।এই মানুষটাকে তো এখনো দিতে পারিনি।মানুষের চোখের দিকে তাকানো তখন কঠিন হয়ে যায়।পলাশ ও হয়তো সেই কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। এক সময় সে আমাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার দিতে বলেছিলো।আমি তাকে টাকা দিয়েছিলাম।সে পরে সেই টাকা আমাকে ফেরত দিয়েছিল।এই ঘটনাটা খুব ছোট মনে হতে পারে।কিন্তু আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ।কারণ ও কৃতজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার মানুষ ছিল না।টাকা নেওয়ার সময় সে যেভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল, সেটা আমার মনে আছে।আর টাকা ফেরত দেওয়ার সময়ও তার মধ্যে সেই মানুষটাকেই দেখেছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে সে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেল।শুধু আমার কাছ থেকে না।আমাদের গ্রাম থেকে।তারপর একদিন শুনলাম, সে তার মা, বোন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে

পলাশ চন্দ্র দে। আমার বন্ধু Read More »

রংপুরের ৪খুনের অবাক করা তথ্য /ভোর পর্যন্ত জীবিত ছিল পরিবার

রংপুরের চার খুন, পুলিশের বয়ানের বাইরে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মিলল না রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের করুণ পরিণতি নয়, এই ঘটনা এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে আরও বড় একটি প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে, আমরা কি সত্যিটা জানতে পারব। চারটি প্রাণ চলে গেছে, একটি পরিবার পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আর সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তারা হত্যার পর বাড়ির ভেতরে গোসল করেছে, ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়েছে এবং পরে আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে ঘটনাটিকে অন্য রকম দেখানোর চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু এখানেই মানুষের প্রশ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং শুরু হচ্ছে। কারণ কোনো মামলায় পুলিশের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটাই শেষ সত্য নয়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় আলামত, ফরেনসিক পরীক্ষা, মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, সময়ের হিসাব, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ময়নাতদন্ত এবং আদালতে যাচাইযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে। আর এই মামলায় ইতোমধ্যেই এমন কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলোর পরিষ্কার ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে নিহত আগামী চক্রবর্তীর কথিত একটি শেষ মেসেজকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আগামী তাঁর পরিচিত একজনকে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। যদি স্ক্রিনশটটি সত্যি হয় এবং সময়ের তথ্যটি প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করা যায়, তাহলে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটকে চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না। ওই মেসেজ সত্যিই আগামী পাঠিয়েছিলেন কি না, কোন ডিভাইস থেকে পাঠানো হয়েছিল, সার্ভার বা প্ল্যাটফর্মের তথ্য কী বলছে এবং সেই সময় তাঁর ফোনের অবস্থান কোথায় ছিল, এসব ফরেনসিকভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ একটি সত্যিকারের ডিজিটাল প্রমাণ পুরো মামলার সময়ের হিসাবই বদলে দিতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়িটি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের বক্তব্যেও বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি এসেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিদ্যুৎ কখন বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, কে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল, মিটার বা বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো কারসাজির চিহ্ন ছিল কি না, বিদ্যুৎ বিভাগের রেকর্ড কী বলছে, এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সময়ের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, সেটি হলো গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের পরনের শার্ট। ঘটনাস্থলে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর পরনের শার্টের সঙ্গে সিদ্ধার্থের পরনের শার্টের মিল দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস দাবি করেছেন, পুলিশ যখন সিদ্ধার্থকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়, তখন তার গায়ে নকশার ওই শার্ট ছিল না, গায়ে ছিল একটি গেঞ্জি। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, শার্টটি আড়ংয়ের এবং একই ধরনের শার্ট অনেক মানুষের কাছেই থাকতে পারে। তাঁর দাবি, সিদ্ধার্থকে যখন হেফাজতে নেওয়া হয় তখনও তার গায়ে ওই শার্ট ছিল। এখানে কাউকে দোষী বলার মতো কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু প্রশ্নটি তদন্ত করে পরিষ্কার করা খুবই সহজ। সিদ্ধার্থকে প্রথম আটক করার সময়ের ভিডিও ফুটেজ কোথায়, কে তাকে প্রথম দেখেছে, তখন তার পরনে কী ছিল, পুলিশের বডি ক্যামেরা বা ঘটনাস্থলের ভিডিওতে কী দেখা যায়, আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তার পোশাক কার হেফাজতে ছিল, এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে শার্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। একটি মামলায় এমন ছোট একটি বিষয়ও কখনো কখনো বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করে। আরও একটি বড় প্রশ্ন পুলিশের কথিত ইয়াবা সেবনের কাহিনী নিয়ে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে ওই বাড়ির ছাদে গিয়েছিল এবং গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরাও একে একে হত্যার শিকার হন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এবং বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে দুই তরুণকে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, পাশের নির্মাণাধীন ভবনটি যদি ফাঁকা ও নিরিবিলি হয়ে থাকে, তাহলে মাদক সেবনের জন্য দুই তরুণ কেন একটি বসতবাড়ির ছাদ বেছে নেবে। তারা সেখানে কীভাবে প্রবেশ করল, তাদের গতিবিধি কোনো সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে কি না, মোবাইল ফোনের অবস্থান কী বলছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া মাদক বা মাদক সেবনের সরঞ্জামে তাদের আঙুলের ছাপ বা ডিএনএ পাওয়া গেছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তরই আসল সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। এদিকে গণপতি চক্রবর্তীর স্বজনদের পক্ষ থেকে বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবির একটি ঘটনার কথাও বলা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এই তথ্যও তদন্তের বাইরে রাখা উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার করে বলা দরকার, চাঁদা দাবির অভিযোগ ছিল বলেই এই হত্যাকাণ্ড তার কারণে ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে নেই। তদন্তকারীদের উচিত এই সম্ভাবনাটিও খতিয়ে দেখা, পাশাপাশি ডাকাতি, ব্যক্তিগত বিরোধ, মাদক, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সবগুলো সম্ভাবনা সমান গুরুত্বে যাচাই করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিহত পরিবারটির জন্য সত্যের কোনো বিকল্প নেই। গণপতি চক্রবর্তী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী, মেয়ে এবং ছোট ছেলেটিও এই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে। একটি পরিবার শেষ হয়ে গেছে। এখন যদি তদন্তে কোনো ভুল হয়, যদি তাড়াহুড়ো করে কাউকে অপরাধী বানিয়ে ফেলা হয়, অথবা প্রকৃত অপরাধী কিংবা অপরাধের পেছনের অন্য কোনো কারণ আড়ালে থেকে যায়, তাহলে শুধু একটি মামলার বিচারই ব্যর্থ হবে না, মানুষের রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুই অভিযুক্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু জবানবন্দি দিয়েছে মানেই তদন্তের সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে, এমনটা বলা যায় না। জবানবন্দির সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত, মোবাইল ফোনের তথ্য, ডিজিটাল প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যের মিল থাকতে হবে। ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে আজকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এখন এই তথ্য পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রমের সঙ্গে কীভাবে মিলে যায়, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। এই কারণেই মামলার তদন্তভার ডিবিতে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এখন নতুন করে পুরো ঘটনাটি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কে কখন কোথায় ছিল, বাড়িতে কে ঢুকেছিল, কে বের হয়েছিল, বিদ্যুৎ কখন বন্ধ হয়েছিল, মোবাইল ফোনগুলো কখন সক্রিয় ছিল, কথিত শেষ মেসেজের সত্যতা কী, অভিযুক্তদের পোশাক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার বাস্তবতা কী, ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত কার সঙ্গে মেলে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সময় কতটা, এবং সবচেয়ে বড় কথা, হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী

রংপুরের ৪খুনের অবাক করা তথ্য /ভোর পর্যন্ত জীবিত ছিল পরিবার Read More »

সরকার বদলেছে, মানুষের ভাগ্য কি বদলেছে?

সরকার বদলেছে, ক্ষমতার চেয়ার বদলেছে, নেতৃত্বের মুখ বদলেছে, এখন বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রাজনীতির স্বরূপও কি বদলাবে, নাকি শুধু ক্ষমতার হাতটাই বদলাবে। এই প্রশ্নটা কোনো দলের বিরুদ্ধে না, কোনো দলের পক্ষে না, এই প্রশ্নটা দেশের সাধারণ মানুষের। কারণ মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করে নাই, মানুষ অপেক্ষা করছে নিজের জীবনের পরিবর্তনের জন্য। মানুষ চায় বাজারে গেলে নিত্যপণ্যের দাম যেন তার সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, একজন বাবা যেন সন্তানের পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকে, একজন শিক্ষিত তরুণ যেন চাকরির আশায় বছরের পর বছর ঘুরতে না হয়, একজন ব্যবসায়ী যেন ঘুষ আর হয়রানি ছাড়া নিজের ব্যবসা করতে পারে, একজন কৃষক যেন নিজের ফসলের ন্যায্য দাম পায়, একজন শ্রমিক যেন তার শ্রমের সম্মান পায়, একজন সাধারণ মানুষ যেন থানায় গেলে ভয় না পায়, অফিসে গেলে ঘুষ না দিতে হয়, হাসপাতালে গেলে অসহায় হয়ে ফিরতে না হয়। মানুষ চেয়েছিল এমন একটা রাষ্ট্র, যেখানে দল পরিচয় দিয়ে বিচার হবে না, ক্ষমতার কাছের মানুষ আর সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা আইন থাকবে না, যেখানে অন্যায় করলে সে যে দলেরই হোক, তাকে জবাব দিতে হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মানুষের মনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার জায়গাটা এখনো খুব গভীর। মানুষ জানতে চায়, এত রক্ত, এত ত্যাগ, এত কান্না, এত স্বপ্নের পরে আমরা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন হলে হবে না, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। শুধু নতুন মন্ত্রী দরকার না, নতুন চিন্তা দরকার। শুধু নতুন সরকার দরকার না, নতুন রাষ্ট্রচিন্তা দরকার। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছে, অনেক স্লোগান শুনেছে, অনেক নির্বাচনী ইশতেহার দেখেছে, কিন্তু এবার মানুষ কথার চেয়ে কাজ দেখতে চায়। মানুষ দেখতে চায়, দুর্নীতি কমেছে কি না, বাজারের আগুন কমেছে কি না, কর্মসংস্থান বেড়েছে কি না, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না, ব্যাংকিং খাতের আস্থা ফিরেছে কি না, প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হয়েছে কি না, বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের বিশ্বাস বেড়েছে কি না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে পারে, রেমিট্যান্স বাড়তে পারে, অর্থনীতির কিছু সূচক ভালো হতে পারে, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের ঘরে যদি বাজারের ব্যাগ ছোট হয়ে যায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি ভয় বাড়ে, চাকরির দরজা যদি বন্ধ থাকে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল মানুষ নিজের জীবনে অনুভব করতে পারবে না। অর্থনীতির আসল পরীক্ষা কাগজের হিসাব না, মানুষের সংসারের হিসাব। রাজনীতির আসল পরীক্ষা বক্তৃতার মঞ্চ না, মানুষের জীবনের বাস্তবতা। তাই নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দেশ চালানো না, মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ কাউকে চিরস্থায়ী ক্ষমতা দেয় না, জনগণ দায়িত্ব দেয়, আর সেই দায়িত্বের হিসাব একদিন জনগণের কাছেই দিতে হয়। আজ যারা ক্ষমতার ঘরে বসে আছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, এই চেয়ার কারও বাপ দাদার সম্পত্তি না, এই চেয়ার জনগণের আমানত। জনগণ যদি দেখে তাদের কষ্ট কমেছে, তাদের নিরাপত্তা বেড়েছে, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়েছে, তাদের কথা রাষ্ট্র শুনছে, তাহলে মানুষ সরকারকে ভালোবাসবে। কিন্তু যদি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসে, যদি দলীয় পরিচয় আবার যোগ্যতার ওপরে চলে যায়, যদি দুর্নীতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়, যদি ক্ষমতাবানরা আবার আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায়, তাহলে শুধু সরকারের নাম বদলাবে, মানুষের ভাগ্য বদলাবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে পাঁচ বছর পর পর শুধু ক্ষমতার মালিক বদলাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন একই জায়গায় পড়ে থাকবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে সরকার বদলালে মানুষের মনে নতুন আশার জন্ম হবে, যেখানে রাজনীতি হবে মানুষের জন্য, রাষ্ট্র হবে নাগরিকের জন্য, আইন হবে সবার জন্য সমান, আর ক্ষমতা হবে সেবা করার দায়িত্ব। তাই আজ প্রশ্নটা খুব সহজ, কিন্তু উত্তরটা অনেক কঠিন, সরকার বদলেছে, এবার কি রাজনীতির স্বরূপ বদলাবে, দেশের মানুষের ভাগ্য কি সত্যিই বদলাবে, মানুষ সরকারের কাছে যে অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, সুশাসন আর সম্মান চেয়েছিল, মানুষ কি সেগুলো পাবে। এই প্রশ্নের উত্তর এখন বক্তৃতায় দেওয়া যাবে না, উত্তর দিতে হবে কাজ দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, মানুষ ফলাফল দেখতে চায়। কারণ ক্ষমতার পরিবর্তন তখনই সত্যিকারের পরিবর্তন হবে, যখন সেই পরিবর্তনের আলো গিয়ে পৌঁছাবে গ্রামের কৃষকের ঘরে, শ্রমিকের ঘরে, মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে, বেকার তরুণের চোখে, ছোট ব্যবসায়ীর দোকানে, মায়ের চিন্তায় আর সন্তানের ভবিষ্যতের স্বপ্নে। সরকার বদলেছে, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার, শুধু ক্ষমতার মানুষ বদলায় নাই, বাংলাদেশ বদলানোর রাজনীতিটাও সত্যিই বদলেছে।

সরকার বদলেছে, মানুষের ভাগ্য কি বদলেছে? Read More »

গল্প

বন্ধুরা, আজ তোমাদের সঙ্গে আমার জীবনের এমন একটি গল্প শেয়ার করব, যে গল্পের শেষটা এখনো শেষ হয়নি। কারণ গল্পের মানুষটি আজও জানে না, কেন আমি তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। তার নাম জসিম। জসিম আর আমি শুধু বন্ধু ছিলাম না, আমরা ছিলাম ছোটবেলার দুই ছায়ার মতো। আমাদের বন্ধুত্বের শুরুটা কোনো বড় ঘটনা দিয়ে হয়নি। শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে, গ্রামের মক্তবের মাটির ঘর থেকে। সকালবেলা দুজন একসঙ্গে মক্তবে যেতাম। হাতে বই, মাথায় হাজারো দুষ্টুমি। পড়াশোনার চেয়ে পথের গল্পই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারপর প্রাইমারি স্কুলে উঠলাম। স্কুলেও আমরা একসঙ্গে যেতাম, একসঙ্গে ফিরতাম। কখনো গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাঁটতাম, কখনো মাঠের পাশে বসে গল্প করতাম, কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরতাম। ছোটবেলায় বন্ধুত্বের কোনো হিসাব থাকে না। কে কত টাকা খরচ করল, কে কার জন্য কী করল, কে কার কাছে কতটুকু ঋণী, এসব কিছুই তখন মাথায় থাকে না। থাকে শুধু একজন মানুষকে নিজের মানুষ মনে করার সরল বিশ্বাস। জসিম ছিল আমার সেই মানুষগুলোর একজন। সময় চলে গেল। আমরা বড় হলাম। প্রাইমারি স্কুল পেরিয়ে হাই স্কুলে উঠলাম। তবুও আমাদের বন্ধুত্বের দূরত্ব বাড়ল না। বরং মনে হতো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বটা আরো গভীর হচ্ছে। স্কুলে যাওয়ার সময় একসঙ্গে যেতাম, ফেরার সময়ও একসঙ্গে ফিরতাম। জীবনের ছোট বড় কত কথা যে আমরা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি, তার হিসাব হয়তো আজ বসে করলেও শেষ হবে না। তারপর জীবন আমাদের দুজনকে নিয়ে গেল দেশের বাইরে। দুজনেই বিদেশে এলাম। ভাগ্যের কী অদ্ভুত খেলা, একই জায়গায় কাজ করার সুযোগও হয়ে গেল। ওমানের আল বুরাইমি মার্কেটের সেই দিনগুলো আজও আমার চোখের সামনে ভাসে। সেই সময় জসিম একটি দোকানে চাকরি করত। একদিন সে আমাকে বলল, সে আর ওই দোকানে চাকরি করবে না। দোকানটির মালিক ছিলেন আবু আহাম্মদ। মানুষটি আমাদের গ্রামেরই। আমি তাকে বললাম, যদি সত্যিই চাকরি করতে না চাস, তাহলে ক্যানসেলে চলে যা। আমি চেষ্টা করে তোকে আবার ভিসায় নিয়ে আসব। সে চলে গেল। তারপর শুরু হলো আমার দৌড়ঝাঁপ। একজন মানুষের জন্য আরেকজন মানুষ কতদূর যেতে পারে, তখন হয়তো আমি নিজেও জানতাম না। কত মানুষের কাছে গিয়েছি, কত দরজায় কড়া নেড়েছি, কত ওমানির বাড়িতে গিয়েছি, কত অনুরোধ করেছি, তার কোনো হিসাব নেই। শেষ পর্যন্ত নিজের টাকা খরচ করে তার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করলাম। আমি তখন ভাবিনি, এই টাকা ফেরত পাব কি না। কারণ সে আমার বন্ধু। ছোটবেলার বন্ধু। যার সঙ্গে মক্তবের পথ ভাগ করেছি, স্কুলের পথ ভাগ করেছি, বিদেশের পথও ভাগ করেছি। কিন্তু সব সম্পর্কের মধ্যে এক সময় হিসাব ঢুকে যায়। ভিসার পুরো টাকা সে আমাকে ফেরত দেয়নি। কিছু টাকা বাকি রেখেছিল। তার ওপর একজনের কাছে প্রায় এক হাজার দিরহামের মতো টাকা আটকে গিয়েছিল, সেই টাকাটাও আমি ফেরত পাইনি। আমি তাকে বলেছিলাম, তুই তো আমার জন্য নয়, নিজের জন্য ভিসা নিয়েছিস। টাকা তোকে দিতেই হবে। সে বলেছিল, তুমি ভিসা কিনছো, তোমারে ওই লোক টাকা ফেরত না দিলে সেটা কি আমি দায়ী ? সেদিন কথাটা আমার মনে লেগেছিল। তবুও বন্ধুত্বের কাছে আমি হিসাবটা ছোট করে দেখলাম। মনে হলো, টাকা পয়সা তো জীবনে আসবে যাবে। বন্ধুত্বটা থাকুক। তারপর আমি তাকে আমার নিজের দোকানে কাজ দিলাম। শুধু চাকরি নয়, আমার নিজের পরিচিতি, আমার নিজের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, আমার নিজের বিশ্বাস, সবকিছুর দরজা তার জন্য খুলে দিলাম। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আমার নামে মাল নিত সে। আমার নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করত। নিজের ব্যবসা থেকে লাভ করত, আবার আমার দোকানে চাকরি করে বেতনও পেত। আমি তখন এসবকে সুযোগ দেওয়া মনে করিনি। আমি মনে করতাম, আমি আমার বন্ধুকে দাঁড় করাচ্ছি। কারণ মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের জন্য আমরা হিসাব করি না। মনে করি, আজ আমি পাশে দাঁড়ালাম, কাল সে আমার পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু জীবন মাঝে মাঝে মানুষকে এমন শিক্ষা দেয়, যার জন্য কোনো বই পড়তে হয় না। একদিন আমার নিজের ভাই রবির সঙ্গে আমার ঝগড়া হলো। ঝগড়া কখনো শুধু দুইজন মানুষের মধ্যে থাকে না। কখনো সেটা আশেপাশের মানুষগুলোকেও পরীক্ষা নেয়। আমার ভাই বিভিন্ন মানুষের কাছে গেল। আমার নামে বিচার দিল। বলল, দোকানটি আমার নয়, দোকানটি তার। বিচার বসল। আর সেই বিচারে আমি এমন এক অবস্থার মধ্যে পড়লাম, যা একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। বারো বছরের প্রতিষ্ঠান। বারো বছর ধরে গড়ে তোলা সম্পর্ক। আমার পরিচিত কাস্টমার। আমার পরিচিত কোম্পানি। আমার পরিশ্রম। আমার ঘাম। আমার জীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। সবকিছু যেন এক মুহূর্তে আমার হাত থেকে সরে যেতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, দোকানটি আমার ভাই রবিকে দিয়ে দেওয়া হবে। সেদিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে যেন ভেঙে পড়েছিলাম। একজন মানুষ যখন নিজের ঘর হারায়, তখন শুধু একটা ঘর হারায় না। সে তার পরিচিত পৃথিবীর একটা অংশ হারায়। আর আমি সেদিন শুধু দোকান হারাইনি। আমি কিছু মানুষকে চিনেছিলাম। সেদিন চারপাশে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু যাকে আমি নিজের মানুষ মনে করতাম, যাকে এত বছর বন্ধু বলে বুকে রেখেছিলাম, সেই জসিমকে আমি পাশে পেলাম না। আমি তার কাছে কোনো বড় বক্তৃতা চাইনি। আমি চাইনি সে আমার হয়ে কারও সঙ্গে যুদ্ধ করুক। আমি শুধু চেয়েছিলাম, সে পাশে দাঁড়াক। কখনো কখনো একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে তার সমস্যার সমাধান করে দেওয়া নয়। শুধু তার পাশে দাঁড়িয়ে বলা, ভাই, আমি আছি। এই দুটি শব্দই যথেষ্ট। কিন্তু সেদিন সেই মানুষটি ছিল না। সেদিন আমি প্রথম বুঝলাম, বন্ধুত্বের স্মৃতি আর বন্ধুত্বের পরীক্ষা এক জিনিস নয়। শৈশবে যে মানুষটি তোমার সঙ্গে গ্রামের রাস্তায় হাঁটত, সে বড় হয়ে তোমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাস্তায় তোমার সঙ্গে হাঁটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেদিন আমার ভেতরে একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেল। আমি জসিমের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। সে হয়তো বুঝতেই পারেনি কেন। সে অনেকবার আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমাদের বাড়িতে গেছে। আমার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছে। এমনকি পরিবারকে দাওয়াতও দিয়েছে। কিন্তু আমি আর ফিরে যাইনি। কারণ আমার কাছে বিষয়টি দোকানের ছিল না। টাকারও ছিল না। ভিসার টাকারও ছিল না। বিষয়টি ছিল বিশ্বাসের। যে মানুষকে আমি নিজের মানুষ ভেবেছিলাম, আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তার অনুপস্থিতিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জসিম আজও হয়তো ভাবছে, আমি কেন তার সঙ্গে কথা বলি না। হয়তো সে মনে করে, আমি অহংকারী হয়ে গেছি। হয়তো মনে করে, কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমি রাগ করে আছি। হয়তো সে জানেই না, মানুষের হৃদয়ে কিছু দরজা আছে, যেগুলো ভাঙলে শব্দ হয় না। শুধু দরজাটা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। আমার জীবনে জসিমের সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিগুলো কিন্তু আমি মুছে ফেলিনি। মক্তবের সেই সকালগুলো আজও মনে আছে। স্কুলে যাওয়ার সেই পথগুলো আজও মনে আছে। গ্রামের রাস্তায় হাঁটার সেই দিনগুলো

গল্প Read More »

রাহুর প্রভাবে জীবনের পরিবর্তন

আমি একজন লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং দীর্ঘদিনের জ্যোতিষ ও নিউমেরোলজি-চর্চাকারী হিসেবে মানুষের জীবন, আচরণ এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রহ-নক্ষত্র ও সংখ্যার প্রতীকী সম্পর্ককে নিজের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করি। আমার পর্যবেক্ষণে রাহু এমন একটি শক্তি, যাকে শুধু জন্মছকের কোনো একটি ঘরে বসিয়ে বিচার করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না। রাহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ক্ষেত্র হলো মানুষের মুখ, কথা এবং জিহ্বা। কারণ মুখ দিয়েই মানুষ নিজের চিন্তা প্রকাশ করে, প্রতিশ্রুতি দেয়, মানুষকে বিশ্বাস করায়, আবার কখনো নিজের কথার কারণেই নিজের জন্য বিপদ ডেকে আনে।জ্যোতিষের এই প্রতীকী ব্যাখ্যা থেকে আমি মনে করি, মুখের রাহু যখন অশুভভাবে সক্রিয় হয়, তখন মানুষের কথাবার্তাতেও তার ছাপ পড়তে পারে। কথায় অসংযম আসে, অতিরঞ্জন বাড়ে, এমন কথা বলা হয় যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না। কখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যা পরে রাখা সম্ভব হয় না। কখনো নিজের ভুল স্বীকার না করে কথার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। আর একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত থাকলেও, একজন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এই সমস্যার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।যেমন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনার মুখের ভাষাই পতনের অন্যতম কারণ ছিল।বর্তমানে নতুন সরকারে ও অনেকেই আছেন যাদের রাহুর দশা চলছে এবং তাঁদের ও পতন নিশ্চিত।কারণ রাজনীতিতে কথাই একটি বড় অস্ত্র। একজন রাজনৈতিক নেতা একটি বক্তব্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, আবার একটি ভুল বক্তব্য দিয়েই নিজের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে পারেন। মুখের রাহু খারাপ হলে আমার জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—মানুষ নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। কখন কী বলা উচিত, কী বলা উচিত নয়, কোথায় নীরব থাকা প্রয়োজন এই বোধটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।রাজনীতিতে এর ফল ভয়ংকর হতে পারে। একজন নেতা একদিন যে কথা বলেন, পরদিন তার সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলে ফেলতে পারেন। একসময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে অস্বীকার করতে পারেন। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও এমন কথা বলে ফেলতে পারেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয় এই নেতার কোন কথাটি সত্য?রাহুর আরেকটি বড় সমস্যা হলো কথা দিয়ে বাস্তবতাকে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা। রাজনৈতিক জীবনে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য দিয়ে প্রভাবিত করা সম্ভব হলেও, বাস্তবতাকে দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, মানুষের জীবনযাত্রা এসব বাস্তব বিষয় কোনো বক্তব্য দিয়ে চিরদিন আড়াল করা যায় না।মুখের রাহু যখন রাজনৈতিক জীবনে নেতিবাচকভাবে প্রকাশ পায়, তখন কথার মধ্যে অতিরিক্ত অহংকার, আক্রমণাত্মক ভাষা, অপমানজনক বক্তব্য, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এবং প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। (আম্মার, আয়াস, মুসাদ্দেক ইত্যাদি )!নেতা হয়তো ভাবতে পারেন তিনি শক্তিশালী ভাষায় কথা বলে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন।কিন্তু বাস্তবে সেই ভাষাই ধীরে ধীরে মানুষের বিরক্তি ও অনাস্থার কারণ হয়ে উঠতে পারে।আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মুখ শুধু কথা বলার জায়গা নয়, রাজনৈতিক চরিত্র প্রকাশেরও জায়গা। একজন মানুষ কীভাবে কথা বলেন, বিরোধীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, নিজের ভুল নিয়ে কী বলেন,এসবের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক মানসিকতা প্রকাশ পায়।আমার জ্যোতিষ ও নিউমেরোলজির পর্যবেক্ষণে, রাহুর নেতিবাচক প্রভাব শুধু মিথ্যা বলা বা ভুল কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর বড় একটি দিক হলো বিভ্রম সৃষ্টি করা। অর্থাৎ এমনভাবে কথা বলা, যাতে মানুষ মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে অন্য কোনো বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রবণতা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসা, নিজের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অন্যের ব্যর্থতার কথা বলা, কিংবা জনগণের মূল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।এসবকেও রাহুর প্রতীকী ছায়ার সঙ্গে তুলনা করা যায়।আর রাহু যখন অহংকারের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তখন একজন রাজনৈতিক নেতা মনে করতে পারেন।তিনি যা বলবেন সেটিই সত্য, তার কথার বিরোধিতা করার অধিকার কারও নেই। সমালোচনা শুনতে না চাওয়া, নিজের ভুল স্বীকার না করা এবং সবসময় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা ধীরে ধীরে তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।এখানেই রাহুর সবচেয়ে ভয়ংকর রাজনৈতিক দিকটি দেখা যায়। মুখের রাহু প্রথমে কথাকে নষ্ট করে, তারপর কথার বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করে, আর শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থাকে নষ্ট করতে পারে। আর রাজনীতিতে জনগণের আস্থা হারানোর চেয়ে বড় বিপদ খুব কমই আছে।একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য তাই শুধু ভালো বক্তা হওয়া যথেষ্ট নয়; তাকে কথার দায়িত্বও বুঝতে হয়। কারণ একজন সাধারণ মানুষ নিজের মুখের একটি ভুল কথার জন্য হয়তো কয়েকজন মানুষের কাছে বিব্রত হন। কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক বা বড় রাজনৈতিক নেতা ভুল কথা বললে তার প্রভাব পড়ে হাজার, লাখ কিংবা কোটি মানুষের ওপর।আমি একজন লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে মনে করি, রাজনীতিতে কথার স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি কথার দায়িত্বও প্রয়োজন। আর একজন অ্যাস্ট্রোলজি ও নিউমেরোলজি-চর্চাকারী হিসেবে আমার প্রতীকী পাঠ হলো—রাহুর শক্তি যখন মুখ ও জিহ্বার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তার নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ।রাহু মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারে।খ্যাতি, পরিচিতি, ক্ষমতা, প্রভাব, মানুষের মনোযোগ। কিন্তু সেই একই রাহু যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে মানুষ নিজের মুখ দিয়েই নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ তৈরি করতে পারে। নিজের বক্তব্যই একসময় তার রাজনৈতিক জীবনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাই আমার দৃষ্টিতে রাজনীতিতে রাহুর সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো—কথা বলার আগে ভাবুন, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে হিসাব করুন, কাউকে অপমান করার আগে পরিণতি ভাবুন এবং জনগণকে কিছু বলার আগে নিজের কথার সত্যতা যাচাই করুন।কারণ রাজনীতিতে ক্ষমতা হারানোর আগে অনেক সময় মানুষ বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। আর বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে গেলে ক্ষমতা থাকলেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা ধরে রাখা কঠিন।

রাহুর প্রভাবে জীবনের পরিবর্তন Read More »

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কি কোনো বিদেশি শক্তির নেপথ্য প্রভাব কাজ করছে?বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বারবার ‘যাবেন কি যাবেন না’ ধরনের অনিশ্চয়তা, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর কথিত পরিবর্তন এবং সমাজে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী বয়ান সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।কিছু বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্ন নয় এটি সরাসরি বাংলাদেশের কৌশলগত সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।ভারতের নীতির সমালোচনা করা বাংলাদেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা কিংবা রাজনৈতিক সম্পর্ক যেকোনো বিষয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতেই পারে।কিন্তু প্রশ্ন হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ, শিক্ষার্থী থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর একই ধরনের ভারত-বিরোধী বয়ান যদি ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর পেছনে কোনো সমন্বিত প্রচারণা আছে কি না, সেটি কি রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচাই করা কি হয়েছে?এখানে আবেগ নয় প্রয়োজন প্রমাণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও স্বচ্ছ তদন্ত।বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রয়েছে।তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিতকোনো দেশের পক্ষে নয়,কোনো দেশের বিপক্ষে নয়সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থে।যদি কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, ভারত-বিরোধী উত্তেজনা কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সেটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির হাতে নির্ভরশীল হতে পারে না।ভারতকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।পাকিস্তানকে অন্ধভাবে সমর্থন নয়।চীন, আমেরিকা বা অন্য কোনো শক্তির অন্ধ অনুসরণও নয়।আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ঢাকার মাটিতে বসেই নেওয়া হচ্ছে, নাকি কোথাও কোনো অদৃশ্য হাত কলকাঠি নাড়ছে?এই প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়তথ্য, প্রমাণ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে আসা উচিত।— মোকতার আল নূরPolitical Columnist | Online Activist

Read More »

মৃণাল কান্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছিল একটি ছেলে , তা ইতোমধ্যে মানুষের সামনে এসেছে। প্রশ্ন হলো—সে কি এখনও সেই দলের সঙ্গে যুক্ত?রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে, তীব্র বিরোধিতাও থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে কাউকে নিয়ে নোংরা, অশ্রাব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করার অধিকার কেউ পেতে পারে না।একজন রাজনৈতিক কর্মী যখন প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখন বিষয়টি শুধু তার ব্যক্তিগত চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি যদি কোনো দলের পরিচয়ে রাজনীতি করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সেই দল কি তার বক্তব্য ও আচরণের দায় এড়িয়ে যেতে পারে?দলের নীতি-নৈতিকতা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ মানুষের সম্মান নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ রাজনীতি শুধু ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা নয়; রাজনীতি মানুষের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা, শালীনতা ও দায়িত্ববোধেরও নাম।আমরা রাজনৈতিক বিতর্ক চাই, যুক্তি চাই, কঠিন সমালোচনাও চাই। কিন্তু গালাগালি, কুরুচিপূর্ণ ভাষা, ব্যক্তিগত অপমান এবং রাজনৈতিক অসভ্যতাকে রাজনীতির স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে দেখতে চাই না।কোনো দলের কর্মী যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সেই দলের নেতৃত্বেরও দায়িত্ব আছে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে মোকাবিলা করার।রাজনীতিতে মতের যুদ্ধ হোক—কিন্তু ভাষার নোংরামি নয়।

Read More »

রাষ্ট্রনায়ক

দেশ চালানো কোনো আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শুধু জনপ্রিয়তা, বক্তৃতার দক্ষতা কিংবা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার যোগ্যতাই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা।একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জনগণ যাকে চাইবে, তাকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়া আর একটি জটিল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা এক বিষয় নয়।একটি দেশ চালাতে হলে জানতে হয় রাজনীতি, বুঝতে হয় অর্থনীতি, সমাজনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং নিরাপত্তার জটিল সমীকরণ। জানতে হয় দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজারব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো। একই সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিবর্তনও বুঝতে হয়।কারণ আজকের পৃথিবীতে কোনো রাষ্ট্রই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে না।তাই একজন নির্বাচিত নেতা সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের অন্যতম বড় গুণ হলো তিনি জানবেন, কোন বিষয়ে কার জ্ঞান ও দক্ষতা সবচেয়ে বেশি এবং প্রয়োজনের সময় সেই জ্ঞানকে কীভাবে রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে হয়।সেখানেই আসে দক্ষ ও জ্ঞানী উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয়তা।রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন মানুষদের পাশে থাকা জরুরি, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ, সৎ, দূরদর্শী এবং বাস্তবতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। অর্থনীতির জন্য অর্থনীতিবিদ, পররাষ্ট্রনীতির জন্য কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বোঝেন এমন মানুষ, আইন ও বিচারব্যবস্থার জন্য যোগ্য আইনজ্ঞ, প্রশাসনের জন্য অভিজ্ঞ প্রশাসক, নিরাপত্তার জন্য দক্ষ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অর্থাৎ রাষ্ট্রের জটিল সমস্যাগুলোকে যোগ্য মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।কারণ একজন নেতার চারপাশে যদি শুধু তোষামোদকারী মানুষ থাকে, তাহলে তিনি ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। কিন্তু যদি তাঁর পাশে এমন মানুষ থাকেন যারা প্রয়োজনের সময় সত্য কথা বলতে পারেন, ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তুলে ধরতে পারেন এবং যুক্তি দিয়ে বিকল্প পথ দেখাতে পারেন তাহলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলোও হবে অধিকতর বাস্তবসম্মত ও টেকসই।গণতন্ত্র মানে শুধু ভোটে জেতা নয়।গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য হলো জনগণের রায়কে সম্মান করে দক্ষতা, জ্ঞান ও যোগ্যতার সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।তাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যার হাতেই আসুক, তাঁর উচিত নিজের চারপাশে যোগ্য মানুষদের জায়গা দেওয়া। রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতা, ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং তোষামোদের চেয়ে সত্য ও যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।কারণ একটি রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ। আর কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে জ্ঞান, জনপ্রিয়তার চেয়ে যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কের পরিচয়।

রাষ্ট্রনায়ক Read More »

বাংলাদেশে আবারো জঙ্গীবাদের উথান

দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা ইস্যুতে জনআলোচনা যখন ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, জঙ্গিরা বড় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রীর আড়ালে বিস্ফোরক বহন বা সংরক্ষণের কৌশল ব্যবহারের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।সম্প্রতি সাভার এলাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিটের একটি অভিযানে কথিত জঙ্গি আস্তানা থেকে IED বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের উৎস, ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্য কোনো নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এর আগে বরিশালের একটি আদালতে বোমা হামলা এবং মেট্রোরেল এলাকায় ছাতা-সদৃশ বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীকে বিস্ফোরক বহন বা লুকিয়ে রাখার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিতে পারে।ছাতা, রাইস কুকার, টিফিন ক্যারিয়ার ও ফ্লাস্কের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ ধরনের কৌশল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও বাড়তি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বড় আকারের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ছোট গ্রুপ বা ‘স্কেলেটন গ্রুপ’ হিসেবে জঙ্গিদের ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।এছাড়া অপরিচিত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করা এবং স্থানীয়দের নজর এড়িয়ে চলার কৌশলও তারা অনুসরণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে কোনো ব্যক্তি বা ভাড়াটিয়ার অপরিচিত হওয়াকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।সাম্প্রতিক ছোট আকারের হামলা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাগুলো জঙ্গিদের সম্ভাব্য ‘টেস্ট কেস’ কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ছোট আকারের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাই করার চেষ্টা করতে পারে।তবে এসব ঘটনাকে একটি সমন্বিত জঙ্গি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণ সামনে আসা প্রয়োজন।অন্যদিকে, কোনো কোনো জঙ্গিবিরোধী অভিযানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযান সত্যিকার অর্থে সঠিক ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা উচিত তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। একইভাবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করাও উচিত নয়।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে যাচাইহীন তথ্য, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।জঙ্গি তৎপরতার সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, সংগঠনের কাঠামো এবং সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শনাক্ত করার ওপর নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে।কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া উগ্রবাদে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় কোনো নিষিদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক বা মালিকবিহীন কোনো বস্তু না ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রাস্তা, গণপরিবহন, স্টেশন, আদালত বা জনসমাগমস্থলে কোনো অস্বাভাবিক ব্যাগ, বাক্স, ছাতা বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ বা সরানোর পরিবর্তে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সত্যিই কোনো নতুন জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকিকে অবহেলা না করে আগেভাগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।তাদের মতে, জঙ্গি নেটওয়ার্ক বড় আকার ধারণ করার আগেই এর অর্থায়ন, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।Moktaar L Nn

বাংলাদেশে আবারো জঙ্গীবাদের উথান Read More »

Shopping Cart